নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (গাউক) সীমাহীন দুর্নীতির নেপথ্যে নায়ক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান। এখানে উন্নয়নের মুখোশ পরে র্নিবিঘ্নে চলছে দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতা। গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের দুর্নীতি এমন রূপ নিয়েছে যা প্রচলিত আইন কে বৃদ্ধাঙ্গুলী প্রদর্শন করা হচ্ছে প্রতি নিয়ত। কাগজ-কলমে কঠোর আইনি বিধান থাকলেও, এর প্রয়োগের ক্ষেত্রে গাউকের কর্মকর্তারা যেন চোখে কাঠের চশমা পড়ে আছেন। সেবা গ্রহিতাদের ভয়-ভীতির দেখিয়ে নিজেদের পকেট ভারী করাই তাদের অলিখিত আইন হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন।
সূত্রমতে, গাউকের উচ্ছেদ অভিযান এখন এক তামাশায় পরিণত হয়েছে । আইনি প্রয়োগের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা দিনের পর দিন মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। কর্তৃপক্ষের ভয়-ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের কৌশল এতটাই স্পষ্ট যে, সাধারণ মানুষ এখন বুঝতে পারছে, আইন এখানে শুধুই কাগজে সীমাবদ্ধ, প্রয়োগের ক্ষেত্রে দুর্নীতিই শেষ কথা।
বহু বছর আগে অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত গার্মেন্টস শিল্প কারখানাতেও এখন অবাধে ছাড়পত্র ও প্ল্যান পাস দেওয়া হচ্ছে। প্রশ্ন উঠেছে, এই ধরনের শিল্প স্থাপনা এত বছর ধরে কীভাবে অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছিল এবং হঠাৎ করে কিসের বিনিময়ে তাদের বৈধতা দেওয়া হচ্ছে? স্পষ্টতই, মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে চোখ বন্ধ করে এসব অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের পরিবেশগত ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণ হতে পারে।
গাউকের নজর যেন কেবল বড় বড় গার্মেন্টস শিল্প কারখানা ও কল-কারখানার দিকেই নিবদ্ধ। এদের কাছ থেকে মোটা টাকা হাতিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকায়, তারা আবাসিক প্রকল্পগুলোর দিকে বিন্দুমাত্র নজর দিচ্ছে না। ফলে গাজীপুরের আবাসিক এলাকাগুলো অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠছে, যেখানে না আছে সঠিক রাস্তাঘাট, না আছে পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা। সাধারণ মানুষের জীবনযাপন দুর্বিষহ করে তুলে গাউক কর্মকর্তারা নিজেদের আখের গোছাচ্ছেন।
অভিযোগ রয়েছে, গাউকের কতিপয় কর্মকর্তা আইনের দুর্বল প্রয়োগের সুযোগ নিয়ে নিয়মিত চাঁদাবাজি করছেন। তারা ইচ্ছাকৃতভাবে আইনি প্রক্রিয়াকে জটিল করে তোলেন এবং হয়রানির ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করেন। সাধারণ মানুষ ন্যায় বিচার পাওয়ার পরিবর্তে দুর্নীতির জালে আটকা পড়ে সর্বস্ব হারাচ্ছে।
এ বিষয়ে চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান কে প্রশ্ন করা হলে তিনি প্রতিবেদকের প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে উল্টো বলেন, আমার যে পরিদর্শন সাংবাদিকদের খরচাপাতি দিতেন আপনারা তার বিরুদ্ধেই লেখা শুরু করেছেন। এখন আর এসব বলে কি হবে। এসেছেন চা খেয়ে যান, সরকার চা পান করার মতো ব্যবস্থা রেখেছেন।
উল্লেখ্য, গাজীপুরকে একটি পরিকল্পিত নগরী হিসেবে গড়ে তোলার পরিবর্তে গাউক এটিকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করছে বলে নগর পরিকল্পনাবিদরা মনে করছেন। এ পরিস্থিতির দ্রুত অবসান না হলে গাজীপুর ধীরে ধীরে আরও অপরিকল্পিত নগরীতে পরিণত হবে ।
তাই যত দ্রুত সম্ভব দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং সরকারের উচ্চ পর্যায়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নগরবাসী।