মোঃ রফিকুল ইসলামঃ
স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও একটি রাষ্ট্র তার স্থায়ী কোন নির্বাচন কাঠামো তৈরী করতে পারেনি। প্রতিবার নির্বাচন এলেই রক্তপাত, হানাহানি, মারামারি এবং বিশ্ব মোড়লদের কাছে দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়ে যায়। ব্যাপারটি লজ্জাজনক নয় কি প্রশ্নটি সচেতন মহলের কাছে।
শুরু থেকে আজ পর্যন্ত দৃশ্যত প্রধান সমস্যা হচ্ছে— বড় দু'টি রাজনৈতিক দলের নিজেদের মধ্যকার দূরত্ব। তাদের পারস্পরিক বিরোধ এতোটাই প্রকট যে, কেউ কাউকে এক বিন্দু ছাড় দিতে নারাজ। দু'পক্ষই একে অপরকে নাকচ করে দেয় এবং সার্বক্ষণিক একে অপরকে দোষারোপ করতে থাকে। কেউ কারো অবদান স্বীকার করতে চায় না। রাজনৈতিক শিষ্টাচারের কোন ঐতিহ্য আর নিজেদের মাঝে অবশিষ্ট নেই। এমনকি নেই পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ছিঁটে-ফোঁটাও। নতুন প্রজন্ম এসব দেখে দেখে ক্লান্ত, বিরক্ত। আজ এদেশের আপামোর জনসাধারণ এসবের অবসান চায়। সেটা কি বুঝার ক্ষমতা নূন্যতম ক্ষমতা ওনাদের আছে ?
সত্যিকার অর্থে ওনারা যদি দেশ ও জাতির কল্যাণের চিন্তা করে রাজনীতি করতেন তাহলে নিজেদের সংকট নিজেরাই বসে সমাধান করতেন। নিজেদের সমস্যা নিজেরা সমাধান করতে পারলে ভিনদেশী কোন মোড়ল সুযোগ নিতে পারতেন না। উভয় রাজনৈতিক দলের নীতিনির্ধারকদের উচিত ছাড় দেওয়ার মানসিকতা তৈরি করা এবং যতটুকু সম্ভব ছাড়া দেওয়া। দয়া করে দেশ ও জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিন। ভয়াবহ সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার আগেই সর্বসম্মত একটি সিস্টেম ডেভেলপ করুন এবং সেটা সবাই মেনে নিন।
ভাঙচুর, জ্বালাও-পোড়াও কোন সমাধান নয়। দেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতায় বাড়ছে জনদুর্ভোগ। জনমনে দেখা দিচ্ছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। প্রিয় মাতৃভূমির এমন সংকটাপন্ন চিত্র আমাদের হৃদয়ে প্রতিনিয়ত রক্তক্ষরণ হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে পারস্পরিক সমঝোতা এবং বোঝাপড়াই পারে উত্তরণের পথ দেখাতে। প্রয়োজন শুধু রাজনৈতিক দলের নীতিনির্ধারকদের সদিচ্ছার। বাংলাদেশ অনেক সম্ভাবনাময় একটি দেশ। আভ্যন্তরীণ কোন্দলে এ সম্ভাবনাকে যেন আমরা আর নষ্ট না করি।
তাই, দয়া করে সহনশীল হোন, সমঝোতায় আসুন এবং সংঘাতের পথ পরিহার করুন। নিজেদের জেদ আর একগুয়ে মনোভাবের কারণে দেশকে ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিবেন না। প্লিজ একসাথে বসুন, কথা বলুন, সমাধানের উপায় খুঁজে বের করুন। একে অপরের প্রতি এতো অবিশ্বাস ও অনাস্থা থাকলে কোন সমাধানে আসা সম্ভব হবে না। সহনশীলতা ও সহাবস্থানে দু’দলেরই ভালো হবে। দেশের মঙ্গল হবে। দেশের যে অবস্থা বিরাজমান এর শেষ কোথায়?