নিজস্ব প্রতিবেদকঃ গাজীপুর মহানগরী গাছা থানা এলাকায় সুদের পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধে রানু বেগম ওরফে রানী (৪৫) নামে এক নারী ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তার ছেলে হৃদয় (২২) গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক থাকলেও গত ৩১ জানুয়ারি ময়মনসিংহের ভালুকা থেকে প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
১ ফেব্রুয়ারি রোববার তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ৩১ জানুয়ারি শনিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে গাছা থানার পশ্চিম কলমেশ্বর এলাকার দুলাল মার্কেটের কাছে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত রানী বেগম স্থানীয় ‘রানী ফ্যাশন গ্যালারি’র মালিক ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রানী বেগম কাপড় ব্যবসার পাশাপাশি এলাকায় সুদের ভিত্তিতে অর্থ লগ্নি করতেন। একই এলাকার মুদি দোকানদার নজরুল ইসলাম ও তার ছেলে আশিকের কাছে পাওনা টাকা দাবি করাকে কেন্দ্র করে সকালে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে নজরুলের ছেলে আশিক ধারালো ছুরি দিয়ে রানীর বুকে উপর্যুপরি আঘাত করে। মাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে ছেলেকেও ছুরিকাঘাত করে রক্তাক্ত করা হয়।
স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় মা-ছেলেকে উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। দুপুর ১টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক রানী বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত হৃদয় বর্তমানে হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গাছা থানা সূত্রে জানা যায়, এই ঘটনায় নিহতের ছেলে হৃদয় বাদী হয়ে গাছা মেট্রো থানায় ৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার প্রধান অভিযুক্তরা হলেন—আশিক ও তার পিতা নজরুল ইসলাম এবং রনি।
গাছা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাখাওয়াত জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ময়মনসিংহের ভালুকা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, প্রধান অভিযুক্ত আশিক গাজীপুর মহানগর ছাত্রদলের গাছা থানার ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তবে তার এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের দায় নিতে অস্বীকার করেছে সংগঠনটি। গাজীপুর মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি রোহানুজ্জামান শুক্কুর বলেন, “আমরা কোনো অপরাধীকে প্রশ্রয় দিই না। আশিক বর্তমানে সংগঠনের কোনো কার্যক্রমে যুক্ত নয়। আমরা তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
গাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুজ্জামান "দুর্নীতি সংহার" কে বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পাওনা টাকা সংক্রান্ত পূর্ববিরোধের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। মামলার প্রধান আসামিকে আমরা ইতোমধ্যে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি। বাকি আসামিদের গ্রেফতার প্রক্রিয়ায় পুলিশি অভিযান অব্যাহত আছে।