নিজস্ব সংবাদদাতাঃ গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলায় খোলা বাজারে ন্যায্য মূল্যে পণ্য বিক্রি (টিসিবি) কার্যক্রমে ব্যাপক অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
জেলা প্রশাসক ও জেলা খাদ্য অধিদপ্তর কর্তৃক স্থানীয় ডিলারদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মাঝে স্বল্পমূল্যে (ওএমএস)'র চাল ও আটা বিক্রি করা হয়।
সারা দেশের ন্যায়, গাজীপুর জেলা প্রতিটি উপজেলায় টিসিবি কার্যক্রম ওএমএস (ওপেন মার্কেট সেল) অল্প বিস্তর অনিয়মের কথা শোনা গেলেও, শ্রীপুর উপজেলা চিত্র সম্পুর্ন ভিন্ন বলে স্থানীয়রা অভিযোগ তুলেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, একাধিক ব্যাক্তি বলেন, শ্রীপুর উপজেলার টিসিবি ডিলারদের সঠিক কোন স্থান বা নির্দিষ্ট সময় সীমা বলতে কিছুই বুঝা যায় না। প্রায় দিনই দেখা যায়, তারা ইচ্ছে মতো স্থান নির্ধারণ করে পণ্য বিক্রি করছে এবং সরকার কর্তৃক বেঁধে দেওয়া সময়ের অনেক আগেই কার্যক্রম বন্ধ করে চলে যাচ্ছে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, শ্রীপুর উপজেলায় মোট ১৩ টি ওএমএস ডিলার পয়েন্ট থাকলেও প্রতিদিন মাত্র ৭ থেকে ৮ টি পয়েন্ট খোলা থাকে।
খাদ্য অধিদপ্তর কর্তৃক প্রদত্ত নিয়ম অনুযায়ী সকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত কার্যক্রম চালু থাকার কথা। কিন্তু একজন ডিলার এই নিয়মে তোয়াক্কা করছে না।
বেশ কয়েকটি পয়েন্ট গিয়ে দেখা গেছে বিকাল ৩ টার আগেই কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে । যার ফলে, সাধারণ ভোক্তাদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, সরবরাহ ব্যবস্থাতেও রয়েছে বড় ধরনের অসঙ্গতি। খাদ্য গুদাম থেকে নির্ধারিত পয়েন্টে পণ্য যাওয়ার কথা থাকলেও গন্তব্যে পৌঁছার আগেই টিসিবি পণ্য বুঝাই গাড়ি থেমে যাচ্ছে। এতে করে পণ্য বণ্টনে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এসব ঘটনার বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, (১)খাদ্য গুদাম থেকে বের হওয়া একটি পিকআপ নির্ধারিত ডিলার পয়েন্টে না গিয়ে অন্য স্থানে থামে। (২) আবার কিছু ক্ষেত্রে পণ্যের পরিমাণ কম বা মজুদ মিশিয়ে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। গণমাধ্যম কর্মীদের তথ্য সংগ্রহ কালে কিছু ডিলার সম্পুর্ন অভিযোগ অস্বীকার করেন।
এদিকে, উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা জানান, ঘূর্ণায়মান পদ্ধতিতে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সংখ্যক পয়েন্ট চালু রাখা হয়, এবং কিছু সময়ে সময়সূচি পরিবর্তনের কারণে সমস্যা হতে পারে। তবে অভিযোগগুলো সত্য হলে তদন্ত করে ব্যবস্থা আশ্বাস দেন তিনি।
এবিষয়ে, জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, স্থানীয়দের অভিযোগ জুলাই বিপ্লবের পর নতুন করে নিয়োগ দেওয়া ডিলারদের কার্যক্রম শুরু পর থেকে এ পর্যন্ত জেলা প্রশাসক, জেলা খাদ্য অধিদপ্তর ও উপজেলা পর্যায়ে কর্মকর্তাসহ কেউ এসব অনিয়মের বিষয়ে কোন প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।