মোঃ হাসান আলী, স্টাফ রিপোর্টারঃ
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী, তিন কন্যা সন্তান ও শ্যালক সহ একই পরিবারের পাঁচজনকে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত মোঃ ফোরকান মোল্লা (৪০) হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে পদ্মা সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছেন বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশ জানায়, গোপালগঞ্জ সদর থানার গোপীনাথপুর এলাকার বাসিন্দা আতিয়ার রহমান মোল্লার ছেলে ফোরকান মোল্লার সঙ্গে গোপালগঞ্জের পাইক কান্দি এলাকার শাহাদাৎ মোল্লার মেয়ে শারমিনের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তাদের সংসারে তিন কন্যা সন্তান জন্ম নেয়। পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই কলহ লেগে থাকত।
প্রায় ছয় মাস আগে ফোরকান স্ত্রী- সন্তানদের নিয়ে কাপাসিয়া উপজেলার রাউৎকোনা পূর্বপাড়া এলাকায় মনির হোসেনের বাড়িতে ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। তিনি পেশায় প্রাইভেটকার চালক ছিলেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৮ মে রাতে ফোরকান তার শ্যালক রাসূল মোল্লাকে গার্মেন্টসে চাকরি দেওয়ার কথা বলে গোপালগঞ্জ থেকে কাপাসিয়ায় নিয়ে আসেন। ওই রাত থেকে ৯ মে ভোরের মধ্যে কোনো এক সময়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ বা অচেতনকারী কিছু মিশিয়ে স্ত্রী, তিন সন্তান ও শ্যালককে অচেতন করা হয়। পরে ধারালো চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে তাদের হত্যা করে।
নিহত শারমিনের বাবা শাহাদাৎ মোল্লার অভিযোগের ভিত্তিতে কাপাসিয়া থানায় ১০ মে দন্ডবিধি ৩২৮/৩০২/৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় কাপাসিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ যোবায়েরের ওপর।
ঘটনার পর পুলিশ সুপার গাজীপুরের নির্দেশনায় কাপাসিয়া থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক দল অভিযান শুরু করে। পুলিশ নিহত পাঁচজনের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতিসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে।
তদন্তের একপর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত ১১ মে আসামির ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি মেহেরপুর সদর থানা এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে জানা যায়, একটি ট্রাকের হেলপার পদ্মা সেতুর মাঝামাঝি স্থানে রেলিংয়ের পাশে মোবাইল ফোনটি পড়ে থাকতে দেখে নিজের কাছে রাখেন।
পদ্মা সেতুর সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১১ মে সকাল ৬ টা ৪২ মিনিটে সাদা শার্ট ও কালো প্যান্ট পরিহিত এক ব্যক্তি একটি সাদা প্রাইভেটকার থেকে নেমে রেলিংয়ের পাশে কিছু রেখে কয়েক মিনিট অপেক্ষা করেন। এরপর তিনি সেতুর রেলিং টপকে পদ্মা নদীতে ঝাঁপ দেন।
তদন্তে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে, নদীতে ঝাঁপ দেওয়া ওই ব্যক্তি ফোরকান মোল্লা। পুলিশ ধারণা করছে, পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে তিনি পদ্মা সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছেন।
এ ঘটনায় পদ্মা সেতু সংলগ্ন বিভিন্ন থানায় বেতার বার্তা পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে কাজ চলছে।