১৪ মাসে সেবা পেয়েছেন ৫০ হাজারেরও বেশি রোগী
মোঃ ইব্রাহিম খন্দকার কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ
গাজীপুরের কালীগঞ্জে নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিতকরণ এবং মা ও নবজাতকের মৃত্যুহার কমানোর লক্ষ্যে প্রথাগত ধাত্রীদের (টিবিএ) নিয়ে সাত দিনব্যাপী এক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলার স্থানীয় শীতলক্ষ্যা নদীতে নোঙর করা ইমপ্যাক্ট ফাউন্ডেশনের ভাসমান হাসপাতাল ‘জীবন তরী’-তে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ২৫ জন প্রথাগত ধাত্রী এই নিবিড় প্রশিক্ষণে অংশ নেন। প্রশিক্ষণ শেষে সমাপনী অনুষ্ঠানে সফল অংশগ্রহণকারীদের মাঝে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসরঞ্জাম ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়।হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা:সাত দিনব্যাপী এই কর্মশালায় ধাত্রীদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেন অভিজ্ঞ ট্রেইনার মোসাঃ জাহানারা বেগম। প্রশিক্ষণকালীন নিরাপদ প্রসব পরিচালনার আধুনিক কৌশল, গর্ভাবস্থায় ঝুঁকির লক্ষণ শনাক্তকরণ, প্রসবকালীন স্বাস্থ্যবিধি, প্রসব-পরবর্তী অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও খিঁচুনি রোধ, সংক্রমণ প্রতিরোধ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে প্রসূতিকে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হয়। এছাড়া নবজাতকের তাৎক্ষণিক পরিচর্যার বিষয়টিও এতে বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়।হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, নদী তীরবর্তী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে ‘জীবন তরী’ অনন্য ভূমিকা রাখছে। গত ১৪ মাসে এই ভাসমান হাসপাতালে মোট ৫০ হাজার ২৫৮ জন রোগীকে সাশ্রয়ী মূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। এই সময়ে মোট ১,৩৭৪টি সফল অপারেশন সম্পন্ন হয়; যার মধ্যে রয়েছে ১,২০১টি চোখের অপারেশন, ১৬৫টি টনসিল অপারেশন এবং ৮টি মুগুর পা (ক্লাবফুট) অপারেশন। এছাড়া কানের পর্দা ফাটা ৬ জন রোগীকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে।ইমপ্যাক্ট ‘জীবন তরী’র প্রশাসক এ.কে.এম সহিদুল হক বলেন—"গ্রামীণ পর্যায়ে সচেতনতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রসূতি ও নবজাতকের স্বাস্থ্যঝুঁকি বহুলাংশে কমানো সম্ভব। প্রথাগত ধাত্রীদের আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতেই আমাদের এই আয়োজন। জীবন তরী শুধু চিকিৎসাই দেয় না, বরং প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্য সচেতনতা ও মাতৃস্বাস্থ্য উন্নয়নেও কাজ করে যাচ্ছে।" এদিকে ধাত্রী প্রশিক্ষণ কর্মশালা চলাকালীন হাসপাতালটির কার্যক্রম পরিদর্শনে আসেন কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এ.টি.এম কামরুল ইসলামের নেতৃত্বে উপজেলা প্রশাসনের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল।এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নাহিদা খাতুন, কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন, উপজেলা প্রকৌশলী মো. রেজাউল হক, হাসপাতালের ফাইনেন্স এন্ড এডমিন মো. তারিকুল ইসলাম, মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুর রহিম, সহকারী প্রোগ্রামার মো. ইনামুর রহমান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী আবুল হোসেন আকাশ, তথ্য কর্মকর্তা সোহা তামান্না এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীবৃন্দ।পরিদর্শন শেষে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা নদীমাতৃক ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় ‘জীবন তরী’র এমন মানবিক ও দূরদর্শী উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন।