টঙ্গী প্রতিনিধিঃ
টঙ্গীর কেরানীরটেক বস্তির মাদক সম্রাজ্ঞী রানীর ছেলে চিহ্নিত ছিনতাইকারী ২৩ মামলার আসামি রাহুল কে গ্রেফতার করেছে টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ।
জানা যায়, জিএমপি টঙ্গী পুর্ব থানা পুলিশ এক বিশেষ অভিযানে শীর্ষ মাদক সম্রাজ্ঞী রানীর উত্তরসূরী ২৩ মামলার আসামি চিহ্নিত ছিনতাইকারী রাহুল কে গ্রেফতার করে।
এ বিষয়ে স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘ দিন পর পুলিশ প্রসংসনীয় কাজ করছে। অপরাধের অভয়ারণ্য কেরানীরটেক বস্তির শীর্ষ মাদক সম্রাজ্ঞী রানী ও তার পরিবারের কারণে বহু পরিবার ধ্বংস হয়ে গেছে। সেই রানীর ছেলে রাহুল মাদক থেকে শুরু করে এমন কোন অপরাধ নেই যা তার দ্বারা সংঘটিত হয়নি। বিশেষ করে টঙ্গী অঞ্চলের কিশোরগ্যাং পরিচালনা ও আমতলী ও রেলওয়ে স্টেশন এলাকার ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত। সে মূলতঃ ছিনতাই চক্রের একজন সক্রিয় সদস্য।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্টেশন রোড এলাকার এক ব্যবসায়ী বলেন, টঙ্গীর বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাইয়ের ঘটনায় বিভিন্ন সময় রাহুলের নাম সবার আগে আলোচনায় আসে।
এলাকাবাসী দাবী শুধু রাহুলসহ তার পুরো বাহিনীর কারণে সাধারণ মানুষের জীবনের কোন নিরাপত্তা নেই। এছাড়াও স্টেশন রোড, মিলগেট, বাটা গেইট, চেরাগালী ও এরশাদ নগর বাসপট্টি এলাকায় আলাদা আলাদা গ্রুপ ছিনতাই করছে প্রতিনিয়ত।
এলাকাবাসী দাবি এসব অপরাধীদের কঠিন বিচার হোক। বিশেষ করে মহাসড়ক প্রশস্ত ও উড়াল সেতু নির্মিত এলাকাগুলোতে সবচেয়ে বেশি বিপদজনক। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন মানুষের প্রাণ দিতে হয়েছে ছিনতাইকারীদের হাতে।
টঙ্গী পুর্ব থানা সূত্রে জানা যায়, আগেও এই রাহুলকে গ্রেফতার করতে গিয়ে পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তবে এইবার পুলিশ প্রস্তুতি সহ অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে।
তার বিরুদ্ধে অতীতে প্রায় ২০ টার অধিক মামলা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সকল মামলার রেকর্ড যাচাই করে সঠিক সংখ্যা জানা যাবে।
তার বিরুদ্ধে কয়েকটি এবং কি কি মামলা রয়েছে তা যাচাই করার পর বাকি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতে প্রেরণ করা হবে।
এবিষয়ে টঙ্গী পুর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মাকছুদুর রহমান বলেন, এমন ভয়ঙ্কর অপরাধীকে গ্রেফতার করা অন্যান্য আসামিদের তুলনায় একটু কঠিন। তার পরেও
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের মাননীয় কমিশনার স্যার নির্দেশ সাধারণ মানুষের জীবন যাপন সুন্দর ও স্বাভাবিক রাখার প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সেই লক্ষ্যে নিরলস কাজ করে যাওয়া।
টঙ্গীবাসী জিএমপি কমিশনার ও টঙ্গী পুর্ব এবং পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জের প্রতি আহ্বান মহাসড়কে ছিনতাই প্রতিরোধে দুই থানার সমন্বয়ে একটি বিশেষ ট্রিম মোতায়েন করা হোক।