মোঃ রফিকুল ইসলামঃ রোম যখন পুড়ছিল, নিরো তখন বাঁশি বাজাচ্ছিলেন ‘ এই কথাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। তখনও বাঁশি ও সেতারা এসব আবিস্কৃত হয়নি।নিরো গ্রীসের উদ্ভাবিত লির বাজাতেন।’ নিরো এন্ড দ্য বার্নিং অব রোম ‘ যারা চিত্রায়ন করেছিলো তাদের সবাই ছিল তাঁর বিরুদ্ধে থাকা রোমান সিনেটর ও খ্রিষ্টান।টাসিটাস বলেন, ডোমাস অরেয়া স্বর্ণভবনে সেদিন আগুন দিয়েছিল খ্রিষ্টানরা।
শেখ হাসিনা হচ্ছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা। এজন্য শেখ হাসিনার বিরুদ্ধেও হাজার হাজার মিথ্যা গুজব ও প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হয়েছে। কনফুসিয়ানিজমের মত করে বঙ্গবন্ধুর নিজস্ব পলিটিকাল ফিলোসফি মুজিববাদ থেকে জন্ম নিয়েছিল বিশ্ব মানচিত্রে লাল সবুজের বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের পিতা হওয়ার কারণে বঙ্গবন্ধুর কন্যা হয়ে বিনাপরাধে বঙ্গবন্ধুর কন্যাকে ছয়টি বছর ভারতে নির্বাসিত থাকতে হয়েছে। তাঁর শুধু একটাই অপরাধ তিনি বঙ্গবন্ধুর কন্যা।
১৯৮১ সালের ১৭ ই মে দেশে ফেরার পরও তৎকালীন সেনা কর্মকর্তাদের বাঁধার মুখে পিতার বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে ঢুকতে দেওয়া হয়নি তাকে।জুন মাসে হাউস ব্লিডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশন থেকে তাঁর বাবার দেনার ১২ হাজার টাকা কিস্তি পরিশোধের পর নিজেদের পৈতৃক বাড়িতে পা রাখেন শেখ হাসিনা। দীর্ঘ ৯ বছরের স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলন করে স্বৈরতন্ত্রের অবসান করেন। কিন্তু ১৯৯১ সালে নির্বাচনে রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসে আরেক স্বৈরাচারের স্ত্রী।এরপর আবার দীর্ঘ পাঁচ বছরের আন্দোলন ও সংগ্রাম করে দীর্ঘ ২১ বছর ক্ষমতায় আসে আওয়ামীলীগ। প্রধানমন্ত্রী হলেন শেখ হাসিনা।গদিতে বসেই পিতা হত্যা ও জাতীয় চার নেতার হত্যার বিচার করাটাই ছিল তাঁর আরেকটি অপরাধ। এজন্য বাংলাদেশকে খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণ করার পরও ২০০১ সালে কারচুপির মাধ্যমে নির্বাচনে জয়ী হওয়া বিএনপি ও জামায়াত ২৬ হাজার আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীকে হত্যা করে।পুরো দেশটাই পরিণত হয়েছিল বিএনপি ও জামায়াত জল্লাদদের কসাই খানায়।কবি নবারুণ ভট্টাচার্য সেদিন প্রতিবাদী হয়ে লিখেছেন তাঁর সেই অমর কবিতা – ” জল্লাদের উল্লাস মঞ্চ আমার দেশ না।”
চোখের সামনেই শেখ হাসিনা দেখলেন, বিএনপি ও জামায়াত ‘হাওয়া ভবন’ তৈরি করেছে।হাওয়া ভবনের মত প্যারালাল পার্লামেন্ট করে সেখানে থেকেই আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের হত্যার নির্দেশ দেওয়া হতো।২০০৪ সালের ২১ শে আগষ্ট ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় ২৩ জন আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীর মৃত্যু ও ৫০০ আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের পঙ্গু হয়ে যাওয়া বঙ্গবন্ধু এভিনিউ থেকে মৃত্যুর দুয়ার থেকে বেঁচে ফেরা শেখ হাসিনা ২০০৯ সালে আবার বিপুল ভোটে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হোন।২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিএনপি ও জামায়াতের পেট্রোল বোমা মেরে জ্যান্ত মানুষ পুড়িয়ে মারা থেকে শুরু করে জ-ঙ্গী হামলা সব মোকাবেলা করেও বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে পৃথিবীর ৩৫ তম ধনী দেশে পরিণত করেছিলেন। নিম্ন আয়ের বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের উন্নত বাংলাদেশে পরিণত করে এনজিও ব্যবসায়ীদের চক্ষুশীল হয়েছেন শেখ হাসিনা।২১ শে আগষ্টের গ্রেনেড হামলার বিচার করে একদল মাফিয়া সন্ত্রাসীদের শত্রুতে পরিণত হন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা।শেখ হাসিনার সবচেয়ে বড় অপরাধ তিনি বাংলাদেশকে তখন দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে গ্রোয়িং কান্ট্রিতে পরিণত করেছিলেন। তাঁর শত্রু আমেরিকার ক্যাপিটাল ইকোনমিকস শিরোনাম করেছিল, ” বাংলাদেশ ( দ্য নেক্সট এশিয়ান টাইগার?’
বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ছিল ৪২ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। বাংলাদেশের এই অপ্রতিরোধ্য উন্নয়নের কারণে পৃথিবীর অনেক পরাশক্তি মোডল দের শত্রুতে পরিণত হয়েছিলেন শেখ হাসিনা।এই উন্নয়ন থামিয়ে দিতে পরাশক্তিদের ষড়যন্ত্রে দেশের রেডিক্যাল অ্যাক্টিভিস্ট দের দিয়ে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয় এবং তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়। এইবারও মানুষের ভালোবাসায় প্রাণে বেঁচে যান শেখ হাসিনা।শেখ হাসিনা ও তাঁর পিতার স্মৃতি বিজড়িত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের স্মারক বঙ্গবন্ধুর ধানমন্ডি বত্রিশ নাম্বার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে স্বাধীনতাবিরোধীরা।।
বঙ্গবন্ধু কন্যার বিরুদ্ধে মানুষের অভিযোগের শেষ ছিলোনা। অথচ, বঙ্গবন্ধু কন্যা নেই মাত্র ছয় মাস। মাত্র ছয় মাসেই গদি দখলকারী ক্ষমতালোভীরা দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় কমিয়ে ফেলেছে ৪৬ ডলার।শেখ হাসিনার ৭.৮ প্রবৃদ্ধির বাংলাদেশ এখন ৩.২ তে গিয়ে ঠেকেছে। মাত্র ছয় মাসেই একটি দেশের আনাচে কানাচে এখন হাজার হাজার পোড়াবাড়ির দেখা মিলে।ইকোনোমিস্টদের চোখে দেখা ইমার্জিং টাইগার এখন যেন লিবিয়ার সির্তে ভুতুড়ে শহর। মাত্র ছয় মাসেই শেখ হাসিনার রেখে যাওয়া উন্নত বাংলাদেশ এক ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে স্বাধীনতাবিরোধী শকুনের দল।অলিতে গলিতে এখন লাশ পড়ে থাকে।পুরো দেশটাই যেন এক নরক ছাড়া আর কিছুই নয়।। মাত্র ছয় মাসেই একজন শেখ হাসিনার অভাব বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষ বুঝতে শুরু করেছে।শেখ হাসিনা এই শয়তানদের বোতলবন্দী করে রেখেছিলেন প্রচন্ড সাহসের সাথে।।
এই দেশের মাটি ও মানুষকে বঙ্গবন্ধুর মতো নিঃস্বার্থ ভালোবেসেছিলেন শেখ হাসিনা। এজন্যই তিনি চোখের জলে লিখা ‘ A Daughter’s tale ” এর রাজকন্যা তথা বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা।। বাংলাদেশ ১৯৮১ সালের মত আবারও শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় প্রস্তুত হচ্ছে।।।
” তুমি হাসলেই বাংলাদেশ হাসে,
তুমি কাঁদলে আঁধারে ঢাকে পুরো দেশ।”
Unlock top-tier commissions—become our affiliate partner now!