May 31, 2026, 10:29 pm
শিরোনাম :
আমি কিংবদন্তির কথা বলছি… গাজীপুর সদর মেট্টো থানার পুলিশের বিশেষ অভিযানে অস্ত্রসহ গ্রেফতার ১ কালীগঞ্জে অস্ত্রধারীর গুলিতে ছাত্রদলের দুই নেতা আহত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদুল আযহা’র নামাজ আদায় করলেন। ঈদ মোবারক, ঈদ মোবারক, ঈদ মোবারক গাজীপুরের শ্রীপুরে চতুর্থ শ্রেণীর এক মাদ্রাসার ছাত্রীকে (১০) ধর্ষণের চেষ্টা অভিযোগে ইমাম গ্রেফতার জয়দেবপুর রেলওয়ে স্টেশনে ঈদে ঘরমুখো মানুষের ঢল। তারাকান্দা কওমি মাদরাসার দূর্নীতিবাজদের আড়ালের চেষ্টা, স্থানীয়দের বিক্ষোভ গাজীপুরে সাংবাদিক আসাদের ওপর হামলাঃ নারীসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট কালীগঞ্জ উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

গাজীপুর জেলা পুলিশ লাইন্স এর মেছ ম্যানেজার সজিবের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ পর্ব -২

Reporter Name

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ গাজীপুর জেলা পুলিশ লাইনস ও রিজার্ভ অফিসের মেছ ম্যানেজার কংন/৩৫৫ কনস্টেবল ( বিপি নং- ৯৭১৮২০৭৩১১) মোঃ সজিব মিয়ার বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে।
সরেজমিন তদন্ত করে জানা যায়, বিগত আওয়ামী লীগ শাসন আমলে গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার কাজী শফিকুল আলম গাজীপুর জেলায় কর্মরত থাকা অবস্থায়
কনস্টেবল সজিব তার আর্শিবাদে মেছ পরিচালনা শুরু করে। আওয়ামী লীগের পতন হলেও অদৃশ্য শক্তি ও সজিবের চতুরতার কারণে এখনও বহাল তবিয়তে ।
মেছ ম্যানেজার সজিব মিয়া, দীর্ঘ ০৪ বছর যাবত মেছ পরিচালনা করে আসছে। এই দীর্ঘ সময়ে সজিব গাজীপুর পুলিশ লাইন্স এ অনিয়ম ও দুর্নীতি পাশাপাশি নারী কেলেঙ্কারিতেও রেকর্ড সৃষ্টি করেছে বলে এ একাধিক প্রেমিকার বক্তব্য পাওয়া গেছে।
খাবারের অনিয়ম ও দুর্নীতিঃ গাজীপুর পুলিশ লাইন্স ও রিজার্ভ অফিসের মেছে প্রতি দিন গড়ে প্রায় ৩ থেকে সাড়ে ৩ শ’ লোকের খাবার পরিবেশন করা হয়।
এই খাবারের সকল দায়িত্ব সজিবের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পুলিশ সদস্য জানান, মেছ পরিচালনার নিয়ম নীতির ধারে কাছেও নেই সজিব। এমন কি বাংলাদেশের কোন পুলিশ লাইন্স এ মেছে গাজীপুরের মতো নিন্ম মানের খাবার দেওয়া হয় না। প্রতি দিনের মেছ পরিচালনায় যে পরিমাণ খরচ দেখানো হয়, তার অর্ধেক টাকা দিয়ে এরচেয়ে অনেক ভালো মানের খাবার পরিবেশন করা সম্ভব।
তারা আরও অভিযোগ করেন, সজিব মেছের টাকা আত্মসাত করে সেই টাকা দিয়ে বিভিন্ন নারী নিয়ে ফুর্তি করা এখন টক অবদ্যা পুলিশ লাইন্স।
মেজ পরিচালনার বিষয়ে একাধিকবার অন্য পুলিশ সদস্য প্রশ্ন তুলেছেন এবং মেছে খাবারের মান পরিবর্তন করে নতুন খাবার তালিকা তৈরি করে কনস্টেবল বক্কর ক্যান্টিনের ডেকে নিয়েছিল। ক্যান্টিনের ডাক পাওয়ার পর পর বক্করের বদলির আদেশ চলে আসে। এখানে প্রশ্ন উঠে যে কর্মকর্তাগণ ক্যান্টিনের ডাক নেওয়ার বিষয়টি সম্পন্ন করেছেন ঠিক তারাই জেনে বুঝে কিভাবে বক্করের বদলি আদেশ দিলেন। একজন কনস্টেবল কে ক্যান্টিনের দায়িত্ব দেওয়ার আগে অবশ্যই তার যোগদানের তারিখ ও চাকরি বয়স যাচাই করা হয়। তাহলে বক্করের বদলির কারণ কী তা স্পষ্ট বলেও মন্তব্য করেছেন অনেকে। শুধু তাই নয়, তাকে প্রথমে সদর ফাঁড়ি কয়েক দিন পরে কিশোরগঞ্জ জেলায় বদলি করা হয়।
ঠিক একই ঘটনায় আরেক কনস্টেবল জাকির কে মিথ্যা চুরির অপবাদ দিয়ে প্রশাসনিক বদলি করানো হয়।
এদিকে, সজিবের শশুর মোঃ জোব্বার-কে কোন প্রকার নিয়োগ ছাড়াই দিয়ে দীর্ঘ ০৪ বছর যাবৎ মেছে কাজ করে আসছে এবং সরকারি সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করেছে। একজন সাধারণ মানুষ সরকারি কোয়ার্টার (গাজীপুর পুলিশ লাইন্স ব্যারাকে) দিব্বি বসবাস করতেছে। অনেক সময় সজিবের শশুর কে সরকারি গাড়ি ব্যবহার করতে দেখা গেছে। পুলিশ সদস্য না হয়েও সরকারি খাবার, সরকারি কোয়ার্টার সহ সকল সুবিধা গ্রহণ করা কিভাবে সম্ভব এ প্রশ্ন সকল পুলিশ সদস্যের।
সজিবের নারী কেলেঙ্কারিঃ মেছ ম্যানেজারের দায়িত্ব নেওয়ার পর অবৈধ অর্থ উপার্জন শুরু হলে সজিবের নতুন রূপ দেখা যায়, পুলিশ লাইন্স এর পেছনে বাসা ভাড়া নিয়ে সজিব নতুন নতুন নারী নিয়ে ফুর্তি করে বলে আশপাশের ভাড়াটিয়ারা নিশ্চিত করেছেন। এদের মধ্যে প্রায় নিয়মিত ছিল মহিলা কনস্টেবল ‘শ’ (দুঃখিত নাম প্রকাশ করা যাবে না) ও প্রাইভেট হাসপাতালে কর্মরত নার্স ‘র’ (ছদ্ধ নাম) এবং ‘ই’ (ছদ্ধ নাম) নামে আরেকজন নারী। ‘শ’ ও সজিবে অবৈধ সম্পর্কের বিষয়টি ‘শ’য়ের স্বামী জানতে পেরে উধ্বর্তন কতৃপক্ষের কাছে বিচার দিলেও অজ্ঞাত কারণে সজিবে কোন প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। পরে এনিয়ে ঝগড়া বিবাদ অবশেষে ঘর ভাংল ‘শ’র একটি সন্তানসহ তালাক দেন তার স্বামী। ( উল্লেখ্য, সকল নারীর মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড সংরক্ষিত।)
অন্যদিকে গাজীপুর চৌরাস্তায় একটি প্রাইভেট হাসপাতালে কর্মরত নার্স ‘র’ সাথে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে ওই নারী কাছে থেকে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সজিব অনিয়ম দুর্নীতি ও নারী কেলেঙ্কারির বিষয়ে সততা নিশ্চিত করতে সজিবের মোবাইল ফোন কল দিয়ে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর সে মোবাইল বন্ধ করে দেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা