June 13, 2026, 4:04 am
শিরোনাম :
গাছে গাছে কাঁঠালের সমারোহ, মৌসুমী বাহারে মুগ্ধ শ্রীপুর ভাওয়ালগড় ইউনিয়নের নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে সহযোগিতা চাইলেন রিজভী গিয়াসনগর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ পাশের কাঁচা রাস্তা নির্মাণের দাবি পাঁচবিবিতে জোড় পূর্বক বাড়ী নির্মানের অভিযোগ নরসিংদী পুলিশ লাইন্সে মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত গাজীপুর সদরে চাঁদাবাজির অভিযোগে যুবদল নেতা আটক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ পেছনে ফেলে সেবাবান্ধব ধামসোনা ইউনিয়ন পরিষদ গড়তে কাজ করছেন প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জামালপুরে বাড়িওয়ালার ছেলের আঘাতে ভাড়াটিয়া গৃহবধূ গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জামালপুরে বাড়িওয়ালার ছেলের আঘাতে ভাড়াটিয়া মহিলা গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি। কক্সবাজারে পৃথক অভিযানে অপহৃত শিশু উদ্ধার, মানবপাচার মামলার আসামি আটক

মানবিকতা, সততা নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতায় অনন্য দৃষ্টান্ত অফিসার ইনচার্জ মোঃ আমিনুল ইসলাম

বিশেষ প্রতিবেদক।

মাত্র ১৮০ কর্ম দিবসে অস্ত্র উদ্ধার ও মাদকের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযান নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।
বিশেষ প্রতিনিধিঃ
গাজীপুর সদর মেট্রোপলিটন থানাটি গাজীপুর মহানগর এলাকার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও সেবা প্রদানের জন্য গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) অধীনে পরিচালিত অন্যতম প্রধান একটি থানা।
এই থানার বর্তমান অফিসার ইনচার্জ মোঃ আমিনুল ইসলাম কে নিয়ে আমাদের এবারের প্রতিবেদন।
কথায় আছে- যার দায়িত্ব যত বড়, তার জবাবদিহিতা তত বেশি। দায়িত্ব যত বেশি, বদনাম তার চেয়েও বেশি।
তবে এটা বেশিসংখ্যক লক্ষ্যণীয় মনে হয় আমাদের পুলিশের বেলায়। কিন্তু আমাদের এবারের প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণ বিপরীত। আমরা শুরু করছি, গত ঈদুল আযহা’র ঠিক আগের ৩ দিন ঘুম হারাম করে মহা সড়কে নিয়মিত দায়িত্ব পালনে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী গাজীপুর সদর মেট্টো থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আমিনুল ইসলামের যোগদানের পর গত ১৮০ দিনের দায়িত্ব পালনের উপর আজকের আলোচনা।
প্রথমে একটু ভিন্ন প্রসঙ্গঃ
গত ২ জুন ২০২৬ ইং পারিবারিক সমস্যা নিয়ে থানায় আসেন জনৈক মোকলেছুর রহমান। কি জন্য থানায় এসেছেন প্রশ্ন করা হলে তিনি দৈনিক দুর্নীতি সংহার কে বলেন, জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে ভাইয়ের সাথে ঝামেলা। তাই ওসির সাথে কথা বলতে এসেছিলাম। বর্তমান ওসি সাহেব অনেক ভালো মনের একজন মানুষ। আমার সব কথা মনযোগ সহকারে শোনে একজন অফিসার কে দায়িত্ব দিয়ে বলেন, ওনার কথা শুনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সত্য টা জেনে প্রয়োজনে বিবাদী ওনার ভাই তাকে ডেকে এনে আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে একটি সমাধান করার চেষ্টা করবেন। যদি সমাধান না হয়, আমাকে রিপোর্ট করবেন। তার পর আইন অনুযায়ী যে পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার করতে হবে।
মোকলেছুর রহমান আরও বলেন, একজন ওসি এমন আন্তরিক হতে পারে প্রথম দেখলাম। আমার সমস্যার সমাধান হবে কি না জানি না। তবে ওনার ব্যবহার ও আন্তরিকতায় আমি সন্তুষ্ট।
সদর থানার প্রথমে প্রধান ফটক সংলগ্ন একটি গোলঘর আছে। যেখানে আগত লোকজন বসে বিশ্রাম নিতে পারে। ওই গোলঘরে বেশ কিছু সময় বসে থাকার কারণে যে বিষয়টি সব চেয়ে বেশি লক্ষ্যণীয় ছিল, তা হচ্ছে- থানায় আসা লোকজনের প্রতিক্রিয়া। তাদের যে সব কথাবার্তা শোনা গেছে, তার সারমর্ম অনেকটা এমন…

১৩ মে ২০২৬ ইং মাদক উদ্ধার সন্তোষজনক ভূমিকার জন্য পুরস্কার পেলেন ওসি আমিনুল ইসলাম।

এবার আসছি মূল আলোচনায়ঃ
ওসি আমিনুল ইসলাম তাঁর পেশাগত দক্ষতা, সততা, মানবিক আচরণ ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম। এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন এবং জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডে তাঁর আন্তরিকতা এলাকাবাসীর কাছে প্রশংসিত।
দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি জনগণের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে পুলিশি সেবাকে আরও জনবান্ধব করতে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
সাধারণ মানুষের কাছে তিনি সত্যিই একজন মানবিক পুলিশ হিসেবে ইতোমধ্যে পরিচিত লাভ করেছেন।
এসময় আরও একটি বিষয় জানা গেছে গত ১৩ মে ২০২৬ ইং জিএমপি হেডকোয়ার্টারে আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় যাদের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য ছিল তাদের আনুষ্ঠানিক ভাবে পুরস্কৃত করেন জিএমপি কমিশনার। এসময় তিনি ওসি আমিনুল ইসলাম সহ পুরস্কৃত অফিসারদের ভূয়সি প্রশংসা করেন। সাধারণ মানুষের ইতিবাচক বক্তব্য শুনে অনেকটা কৌতুহলী হয়ে অফিসার ইনচার্জ মোঃ আমিনুল ইসলামের সাথে কথা বলতে গেলে তিনি দৈনিক “দুর্নীতি সংহার” কে দেওয়া তাঁর বক্তব্যে বলেন, গত ঈদুল আযহা’র সময় ঘরমুখো মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করতে আমরা কমিশনার স্যারের দিক নির্দেশনা অনুযায়ী নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করেছি।
নিয়মিত দায়িত্ব পালনের বিষয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন সময় নানান রকম সমস্যা নিয়ে থানায় আসা মানুষের সমস্যা জানা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করাই আমার প্রথম কর্তব্য। যত দ্রুত সম্ভব আগত ব্যাক্তির সমস্যা সমাধানের বিষয়টি নিয়মিত নজরদারি করে থাকি।
আলাপচারিতার সময় ওসি বলেন, আমি সদর মেট্টো থানার দায়িত্ব গ্রহণের পর অতীতের তুলনায় কাজে গতি অনেকটা বাড়াতে হয়েছে, যার ফলে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
আজকে মানুষের কাছে পুলিশের সম্পর্কে যে ইতিবাচক কথা শুনতে পারছেন, বিদ্যমান এ পরিবেশের প্রশংসার প্রকৃত দাবিদার মাননীয় কমিশনার স্যার।
কেননা স্যারের দিক নির্দেশনা অনুযায়ী গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সকল সদস্য কাজ করে যাচ্ছে। স্যার (কমিশনার) স্পষ্ট ভাষায় বলে থাকেন, বাংলাদেশ পুলিশ একটি সু শৃংখলা বাহিনী। তা কাজে প্রমাণ করতে হবে।
আরেকটি কথা হচ্ছে- সদর থানায় কর্মরত অফিসার ও পুলিশ সদস্যের নিরলস পরিশ্রম ও কর্তব্য পালনের জন্য তাঁরাও এই সুনামের আংশিদার।
গত ৬ মাসে (১৮০ দিন) উল্লেখযোগ্য কি অর্জন রয়েছে জানতে চাইলে ওসি আমিনুল ইসলাম দুর্নীতি সংহার কে বলেন, গত ৬ মাসে আমি ও আমার অফিসারদের কাজের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে-
৪ টি পিস্তল ও ১৭ রাউন্ড তাজা গুলি ০১ রাউন্ড গুলির খোসা উদ্ধার। ৭ হাজার পিস ইয়াবা এবং ৬৭ কেজি গাজা উদ্ধার। অপহরনকৃত ভিকটিমকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কোন প্রকার ক্ষতি ছাড়া উদ্ধার করতে পেরেছি।
ডাকাতি হওয়া ১৯ টি গরু উদ্ধার করে পরবর্তীতে সেগুলো প্রকৃত মালিকের কাছে হস্তান্তর করা। এক ভুয়া পুলিশ গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
৫ বছরের সাজা প্রাপ্ত দীর্ঘ দিনের পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে ৷ পাশাপাশি সাজা প্রাপ্ত বহু আসামী গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি।
আমরা সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি মাদক। আমি দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ১৮০ দিনে (৬ মাস) প্রায় ৫ শত মাদক সেবি ও ২০ থেকে ২৫ জন মাদক ব্যবসায়ি কে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করেছি। একজন শীর্ষ সন্ত্রাসী সহ প্রচুর ছিনতাইকারী ও পকেটমার গ্রেফতার করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এছাড়াও স্থানীয়দের মতে, যে কোনো সমস্যায় ওসি আমিনুল ইসলাম আন্তরিকতার সঙ্গে মানুষের পাশে দাঁড়ান। তাঁর পেশাদারিত্ব, কর্মনিষ্ঠা এবং সেবামূলক মনোভাব সদর মেট্টো থানার ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
প্রতিবেদকের বক্তব্যঃ
বিগত ১৭ বছরে পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা (০) শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছিল। বর্তমান পুলিশ প্রশাসনে মাঝে আমূল পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে তা গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার দূরদর্শিতা ও সময় উপযোগী দিক নির্দেশনা একটি অন্যতম কারন আমি হিসেবে প্রাথমিক ধারণা হচ্ছে। কিন্তু একথাও স্বীকার করতে হবে মেট্রোপলিটন পুলিশের সেবার মান উন্নীত হয়েছে অফিসার ও দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যদের আন্তরিকতা জন্য।
পুলিশ জনগণের সেবক ও বন্ধু এই কথাটি সেই আদিকাল থেকে শোনে আসলেও প্রমাণ পাওয়া ছিল দুঃষ্কর। কিন্তু সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিনয়ী ও সদালাপী আচরণ দেখে মনে হয় পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের বিশ্বাস ফিরে আসবে।
সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সদর মেট্টো থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আমিনুল ইসলামের কর্মতৎপরতা ও তাঁর অবদান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে—এই প্রত্যাশায় এবারের প্রতিবেদনটি সমাপ্ত করা হলো।


আপনার মতামত লিখুন :

One response to “মানবিকতা, সততা নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতায় অনন্য দৃষ্টান্ত অফিসার ইনচার্জ মোঃ আমিনুল ইসলাম”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা