June 18, 2026, 11:00 am
শিরোনাম :
ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তির ৬০ বছরের রেকর্ড ছুঁলেন লিওনেল মেসি মেসির হ্যাটট্রিকের দিনে ব্যর্থতার বৃত্তে রোনালদো, বলই পাননি মাঠে পাঁচবিবি উচাই জেরকা উচ্চ বিদ্যালয়ের জমি লিজ প্রদানের জন্য উম্মুক্ত দরপত্র আহ্বান মেসির হ্যাটট্রিকে জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু আর্জেন্টিনার মাত্র ৫ লাখ মানুষের একটা দ্বীপদেশ, পুরো ৯০ মিনিট আটকে রাখলো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনকে সার্বজনীন বাজেট ২০২৬-২৭ অর্থ বছর। “Universal Thought Be Positive টঙ্গীতে ১০ হাজার ৫ ‘শ পিছ ইয়াবা ও নগদ ৫৮ লাখ টাকাসহ গ্রেফতার ২ ধুনটের সোনাইডাঙ্গা জলমহালে বৈধ ইজারাদারের অধিকার রক্ষায় মৎস্যজীবীদের মানববন্ধন শ্রীপুরে পল্লী মঙ্গল কর্মসূচীর বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্প, সেবা পেলেন ৫ শতাধিক মানুষ অনলাইন সাংবাদিকতা:পরিবর্তনের ধারা ও ভবিষ্যতের দিগন্ত

সার্বজনীন বাজেট ২০২৬-২৭ অর্থ বছর। “Universal Thought Be Positive

মোঃ রফিকুল ইসলাম।

বাজেটের সুফল ভোগ করার অধিকার প্রতিটি নাগরিকের। কিন্তু লক্ষ্য রাখতে হবে বাজেট প্রণয়নে কোন খাতে জরুরি প্রয়োজন।
মোঃ রফিকুল ইসলামঃ-
জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের এটাই প্রথম বাজেট। নিঃসন্দেহে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট। এমন বাজেট অবশ্যই জনবান্ধব ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। খাল খনন বা ঢাকার বাসস্ট্যান্ড সরানোর পাশাপাশি আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ন কাজ এই অর্থবছরে করা যেত।
আমি শতভাগ নিশ্চিত এতে করে দেশের অর্থনীতি তরান্বিত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি ছিল। সেই সাথে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি সাধারণ মানুষের কাছে অধিক গ্রহণযোগ্য হয়ে যেত। সব কিছু হয়তো আমার ক্ষুদ্র মস্তিষ্কে উল্লেখ করা অসম্ভব তার পর কর্পোরেট চিন্তার বাইরে দাঁড়িয়ে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমি মনে করি সরকার ঘোষিত সকল বিষয়ের মধ্যে কিছু সংখ্যক যদি নিন্মে উল্লেখিত বিষয়গুলো নির্ধারণ করা হতো তাহলে উক্ত বাজেটে দেশে আমূল পরিবর্তনের সাথে নিঃসন্দেহে তা প্রসংসনীয় ও লক্ষ্যণীয় হতো।
Bridge or culvert & Switch gate সেতু বা কালভার্ট সুইচ গেটঃ
খাল খননের আগে যে বিষয়টির উপর নজর দেওয়া প্রয়োজন ছিল তা হচ্ছে- দেশে প্রায় আড়াই হাজার সেতু বা কালভার্ট আছে যাদের সংযোগ সড়ক নেই বা ব্যবহার অনুপযোগি। সেগুলো ব্যবহার উপযোগি করলে অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলত। দেশে প্রায় ১০০টার মত সুইচ গেটে বিকল, যার কারনে খালে পানি ঢোকে না, বা বর্ষায় বন্যার পানি ঢুকলে বের হয় না অথবা জোয়ার ভাটার প্রাকৃতিক সুবিধা কৃষকরা পায় না। সেগুলো মেরামত করে সচল করা যেত। কম খরচে কৃষিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা যেত।
Storage সংরক্ষনাগারঃ
চাপাইনবাবগঞ্জ, দিনাজপুর, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়িতে যদি ফলের জন্যে হিমাগার বা সংরক্ষনাগার তৈরী করা হত, তার সরাসরি প্রভাব সামনের অর্থবছরে পাওয়া যেত।
Sewage পয়ঃনিষ্কাশনঃ
এই অর্থবছরে ঢাকা, চট্রগ্রাম ও বরিশাল সিটির পানি ও পয়ঃনিষ্কাশনের কাজ এমন ভাবে শেষ করা বা রিডিজাইন করা উচিত ছিল, যাতে সামনের বর্ষায় সুফল পাওয়া যায়।
Investment in shrimp enclosures চিংড়ি ঘেরে বিনিয়োগঃ
সংরক্ষিত বনাঞ্চলে চিংড়ি ঘের তৈরী বন্ধ করা যেত। যেখানে সরকারের ইনভেস্ট দরকার নেই। তাই বাজেটের উপর প্রভাব পড়ত না। বরং বৃক্ষরোপন কর্মসূচীর সফলতার একটা সহজ উপায় বের হত ভূমি দখলমুক্ত করার মাধ্যমে।
Electricity and gas, বিদ্যুৎ ও গ্যাসঃ
বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম না বাড়িয়ে, চুরি ঠেকানোর ব্যবস্থা করলেই বরং সাশ্রয় হত। একেতো সরকারের তহবীলে টাকা জমতো আর সাধারন মানুষ স্বস্তিতে থাকত। তাই এই দুই সেক্টরে জনবল বাড়িয়ে তদন্ত ও জরিপ বাড়াতে হতো। যত ফাইন, তত তহবিল। যত চোরাই সংযোগ কর্তন, তত টাকার বর্ধন।
Government Hospital and Upazila Health Complex, সরকারি হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেঃ
দেশের যত উপজেলা স্বাস্থ্য কম্পেক্স আছে, সেখানে ডাক্তার নার্স বা অফিস সহকারীদের উপস্থিতি ও সেবা নিশ্চিত করুন। শহরের হাসপাতাল ও প্রাইভেট ক্লিনিকের উপর চাপ কমবে। মানুষ যত দ্রুত সুস্থ্য হবে, তত তার আর্থিক চাপ কমবে। মানুষ যত তাড়াতাড়ি সুস্থ্য হয়ে কাজে যোগ দেবে, তত দ্রুত দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখবে। এখানেও সরকারের তেমন ইনভেস্ট লাগবে না। কারন সরকার ইতোমধ্যে জনবল নিয়োগ দিয়েছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জন্যে। কিন্তু তারা সেখানে শ্রম না দিয়ে শহরে চেম্বার খুলে বসে থাকে।
সরকারী সদর হাসপাতালগুলোতে সবচেয়ে বড় সমস্যা হল, টয়লেট ও ময়লা আবর্জনা অব্যবস্থাপনা। সাথে আছে, ওষূধ চুরি এবং শুক্রবার শনিবার ডাক্তার নার্সদের অঘোষিত ছুটি। কিন্তু কাগজ পত্রে ওনারা ডিউটিতে থাকেন। সরকারের নতুন হসপিটালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের চেয়েও গুরুত্বপূর্ন হল, যেগুলো আছে সেগুলোতে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার জন্য অধিক লোক নিয়োগ দেয়া এবং সকল কর্মচারীদের দায়ীত্বের ব্যাপারটি জবাবদিহিতার আওতায় আনা। যে কোন অকেজো যন্ত্রাংশ সরিয়ে তিন কার্যদিবসের মধ্যে সরবারাহ নিশ্চিত করা। তাহলে দেশের টাকা ভারত বা সিঙ্গাপুরে চিকিৎসার নামে মানুষ রেখে আসবে না।
Construction of designated lanes on highways, মহা সড়কে নির্দিষ্ট লেন তৈরি করাঃ
ঢাকার আন্তজেলা বাসস্ট্যান্ড না সরিয়ে আগে বিকল্প সার্ভিস নিশ্চিত করুন। বর্তমানে প্রত্যেক বাসে ইলেকট্রনিক ডিভাইস বসান। সড়ক নির্ধারিত করে দিন। একটি যানবাহন কতবার শহর প্রদক্ষিন করতে পারবে সেটা স্থির করে দিন। প্রত্যেকটি সড়ক থেকে হকার, বসিয়ে চাঁদাবাজি বন্ধ করে দিন। যত্রতত্র স্টপেজ বন্ধের কঠিন আদেশ জারি করুন। এগুলো করলে শুধু ঢাকা নয়, দেশের যে কোন শহরে যানযট কমতে বাধ্য। কর্মঘন্টা বাঁচলে অর্থনীতির উপর চাপ কমবে।
ঢাকা শহরে রিকশা/অটো রিকশা/তিন চাকার যান না তুলে সেগুলো জন্য সড়কে নির্দিষ্ট লেন তৈরি করে দিন। ধরুন যদি লাল মার্কের রোড হয়, তাহলে সে রোডে রিকশা/অটো রিকশা/তিন চাকার যান শুধু চালানো নয়, সেই সড়কের মোড়ে মোড়ে পার্কিং করাও নিষিদ্ধ, নিয়ম করে দিন।
পরিশেষে সরকার প্রধান ও রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশগ্রহণকারী সকলের সুন্দর ভবিষ্যৎ ও বাংলাদেশ আগামী দিনগুলো হয়ে উঠুক বাসযোগ্য এই কামনায় বলতে চাই….
Every citizen has the right to enjoy the benefits of the budget. But, it should be noted that the budget formulation has an urgent need in any sector. Every decision of a democratic government must be people friendly. It is important to keep material considerations in mind while making the budget. If the budget is prepared with self-promoting attitude rather than keeping in mind the issues established by the previous government, corporate thinking or revenge of the past, it cannot be people-friendly.

মোঃ রফিকুল ইসলাম
সাংবাদিক ও কলামিস্ট
সহকারী মহাসচিব
জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা
কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদ।
rafiqgp25@gmail.com


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা