August 14, 2026, 10:44 pm
শিরোনাম :
শতভাগ ফেল হওয়ায়, ঠাকুরগাঁওয়ে পাঁচ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে শোকজ ৭০(খ) ধারা বাতিল করে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন দিনঃদার্শনিক দেশবন্ধু অ্যাডভোকেট এ.এন.এম.ঈসা আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলার আপিল শুনানি ১১ আগস্ট ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় উভয় পক্ষ স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আবির ও সাংবাদিক সম্রাটের ওপর হামলার প্রতিবাদে স্বেচ্ছাসেবক দলের মানববন্ধন সৌদি আরবে সোফা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশি শ্রমিকদের মর্মান্তিক মৃত্যু গাজীপুরে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি পরিবারের সাধু সাবধান! খোদার গজবের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ ঠাকূরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে দৃষ্টিনন্দন মডেল মসজিদে উদ্বোধন। সাঁথিয়ায় বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটে সাথে বিদ্যুতায়িত হয়ে যুবকের মৃত্যু বুড়িচংয়ে জন্ম নিবন্ধন জালিয়াতির অভিযোগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি পদ নিয়ে তোলপাড়

সৌদি আরবে সোফা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশি শ্রমিকদের মর্মান্তিক মৃত্যু

Reporter Name

ক্ষতিপূরণের অর্থে কোনো তছরুপ, অনিয়ম বা মধ্যস্বত্বভোগীর হস্তক্ষেপ বরদাশত করা হবে না
— অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ঈসা।
আমরা গভীরভাবে শোকাহত।
ডেস্ক রিপোর্টঃ প্রাপ্ত সংবাদ অনুযায়ী, সৌদি আরবে একটি সোফা কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিকদের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ এবং নিউক্যাসল রেমিটেন্স ওয়ারিয়র্স পার্লামেন্ট পরিবারের পক্ষ থেকে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করা হয়েছে।
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ঈসা এবং সদস্য সচিব এম. এ. রউফ নিহত শ্রমিকদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বলেন: আমরা মহান আল্লাহ তা’আলার কাছে দোয়া করি, তিনি যেন নিহত ভাইদের সকল ভুলত্রুটি ক্ষমা করে তাঁদের জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন। তাঁদের শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই অপূরণীয় ক্ষতি সহ্য করার শক্তি ও ধৈর্য দান করেন।
একই সঙ্গে অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ঈসা নিহত শ্রমিকদের আইনগত ক্ষতিপূরণ, বকেয়া বেতন, চাকরি জনিত পাওনা, বীমা বা সামাজিক বীমার অর্থ এবং অন্যান্য প্রাপ্য নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম, বিলম্ব, গোপনীয়তা, কমিশন বাণিজ্য বা তছরুপ যাতে না ঘটে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
সৌদি আইন অনুযায়ী কর্মস্থলে দুর্ঘটনা জনিত ক্ষতিপূরণের বিষয়ে সৌদি আরবের সামাজিক বীমা সাধারণ সংস্থা (GOSI)- এর পেশাগত ঝুঁকি ব্যবস্থার আওতায় সৌদি আরবে সংঘটিত কর্মসংস্থান জনিত আঘাত ও দুর্ঘটনা নির্দিষ্ট শর্তে সামাজিক বীমা সুবিধার আওতায় পড়ে। কোনো শ্রমিকের মৃত্যু যদি যথাযথ তদন্তে কর্মস্থলজনিত দুর্ঘটনা বা পেশাগত আঘাত হিসেবে স্বীকৃত হয় এবং সংশ্লিষ্ট সামাজিক বীমা বিধান প্রযোজ্য হয়, তাহলে তাঁর বৈধ উত্তরাধিকারীরা প্রযোজ্য সুবিধা বা ক্ষতিপূরণের দাবি করতে পারেন।
সৌদি মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত শ্রমবিধির ব্যাখ্যাতেও কর্মস্থলে আহত শ্রমিকের চিকিৎসা ও সংশ্লিষ্ট ব্যয় বহনের বিষয়ে নিয়োগকর্তার দায়িত্বের কথা উল্লেখ রয়েছে।
তবে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ ও কার কাছ থেকে কোন অর্থ পাওয়া যাবে, তা নির্ভর করতে পারে দুর্ঘটনার সরকারি শ্রেণিবিন্যাসে। শ্রমিকের GOSI নিবন্ধন, চাকরির রেকর্ড, নিয়োগ চুক্তি, বকেয়া পাওনা এবং তদন্তের ফলাফলের ওপর। তাই কোনো মধ্যস্থতাকারীর মৌখিক বক্তব্যের ওপর নির্ভর না করে সরকারি নথি ও বৈধ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিটি দাবি নিষ্পত্তি করা জরুরি।
অ্যাডভোকেট ঈসা ‘র পাঁচ দফা আইনি দাবি অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ঈসা বলেন, নিহত প্রতিটি শ্রমিকের ক্ষেত্রে অবিলম্বে—
১. অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও কর্মস্থলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করতে হবে।
২. প্রত্যেক নিহত শ্রমিকের চাকরির কাগজপত্র, GOSI /বীমা নিবন্ধন, বেতন, বকেয়া পাওনা এবং অন্যান্য আর্থিক অধিকার পৃথকভাবে নির্ধারণ করতে হবে।
৩. ক্ষতিপূরণ বা অন্যান্য পাওনা সরাসরি বৈধ উত্তরাধিকারীদের কাছে স্বচ্ছ ও নথিভুক্ত পদ্ধতিতে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
৪. কোনো দালাল, মধ্যস্বত্বভোগী, ব্যক্তি বা অসাধু চক্র যাতে ক্ষতিপূরণের অর্থ থেকে কমিশন, ভাগ বা অবৈধ সুবিধা নিতে না পারে, সে জন্য বাংলাদেশ দূতাবাস ও সংশ্লিষ্ট সৌদি কর্তৃপক্ষকে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে।
৫. প্রতিটি পরিবারকে লিখিতভাবে জানাতে হবে তাদের প্রাপ্য অর্থের উৎস, মোট পরিমাণ, দাবি নম্বর, মামলার অবস্থা এবং অর্থ প্রদানের প্রক্রিয়া।
বাংলাদেশ দূতাবাসকে সক্রিয় ভূমিকার আহ্বানঃ
বাংলাদেশ দূতাবাস, রিয়াদের শ্রম উইং মৃত্যুবরণকারী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন ক্ষতিপূরণ দাবি ও শরিয়াহ আদালতের প্রক্রিয়ায় সহায়তার ব্যবস্থা রাখে। দূতাবাসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে বৈধ উত্তরাধিকারীদের পক্ষে ক্ষতিপূরণ দাবি নিষ্পত্তিতেও দূতাবাস ভূমিকা পালন করে।
তাই অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ঈসা বাংলাদেশ সরকার, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ দূতাবাসকে নিহত প্রত্যেক শ্রমিকের জন্য আলাদা কেস ফাইল খোলার এবং দাবি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তা নিয়মিত অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, একজন প্রবাসী শ্রমিক মারা গেলে তাঁর পরিবারের সবচেয়ে বড় অবলম্বনটিই হারিয়ে যায়। সেই অসহায় পরিবারের আইনগত পাওনা নিয়ে যদি কেউ ষড়যন্ত্র করে, অর্থ আত্মসাৎ করে বা অযথা বিলম্ব ঘটায়, তাহলে সেটি শুধু আর্থিক অন্যায় নয়, মানবিকতার বিরুদ্ধেও গুরুতর অপরাধ। নিহত শ্রমিকের প্রতিটি প্রাপ্য টাকা তাঁর বৈধ উত্তরাধিকারীর হাতে পৌঁছাতে হবে।
আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ মনে করে, বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিরা দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান শক্তি। তাঁদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দুর্ঘটনা বা মৃত্যুর পর তাঁদের পরিবারের আইনগত অধিকার রক্ষা করা রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা