নবীগঞ্জ সংবাদদাতাঃ নবীগঞ্জ উপজেলায় সাংবাদিকতার আড়ালে ইয়াবা সেবন ও বিক্রির পাশাপাশি ফেসবুকে মানহানিকর পোস্ট দিয়ে এলাকায় বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে বুলবুল আহমেদ। নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের মিঠাপুর গ্রামের মুক্তার মিয়ার ছেলে বুলবুল আহমেদ কয়েক বছর ধরে সংবাদকর্মীর পরিচয় দিয়ে মদ, গাঁজা, ইয়াবা বিক্রি ও সেবন করে আসছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সে প্রায় সময় ধনী ব্যক্তিদের ফোন দিয়ে চাঁদাবাজি করছে এবং এভাবে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। যারা তার কথা শোনেন না, তাদের বিরুদ্ধে ফেসবুকে ভুয়া আইডি ব্যবহার করে মানহানিকর পোস্ট দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায় করছে, যা সরাসরি সাইবার ক্রাইম।
এলাকাবাসী আরও জানান, বুলবুলের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই অনেকেই মামলা দায়ের করেছেন এবং বর্তমানে হবিগঞ্জ জেলা কোর্টে তার বিরুদ্ধে ৬ থেকে ৭ মামলা চলমান। এ ছাড়া তার নানা অপকর্মে এলাকার সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা দাবি করেন, সাংবাদিকতার আড়ালে মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজি চালিয়ে সে একটি ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করেছে এবং সমাজে বিশৃঙ্খলা ছড়াচ্ছে।
জানা যায়, গত ২৭ আগস্ট ২০২৫ (বুধবার) সন্ধ্যায় বুলবুল আহমেদের ছোট ভাই ইমরান আহমেদ সাকিব তার ফেসবুক আইডি থেকে মিঠাপুর গ্রামের বিশিষ্ট সমাজসেবক ও মিঠাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য নুরুল হোসেনের বিরুদ্ধে মানহানিকর পোস্ট করেন। এসময় এক লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়, কিন্তু নুরুল হোসেন টাকা না দেওয়ায় আবারও তার বিরুদ্ধে মানহানিকর পোস্ট দেওয়া হয়। এই ঘটনার পর থেকে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষ বুলবুল ও তার সহযোগীদের প্রতি চরম ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, যুব সমাজ ধ্বংসের অন্যতম নেপথ্য কারিগর বুলবুল আহমেদ গোপনে মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছে এবং তার কারণে এলাকাবাসী আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। তারা জানান, এ অবস্থায় সেনাবাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। তাই ইয়াবা ব্যবসায়ী বুলবুল আহমেদকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য এলাকাবাসী সর্বসম্মতভাবে জোর দাবি জানিয়েছেন।