September 13, 2026, 1:44 pm
শিরোনাম :
প্রয়াত তিন সাংবাদিকের স্মরণে আলোচনা সভা, দোয়া ও কাঙ্গালী ভোজ সুনামগঞ্জের ছাতকে এক ইজারাদারের বিরুদ্ধে ব্যাক্তিমালিকাধীন ও রেলওয়ে ভূমিতে অবৈধভাবে পশুর হাট স্থাপনের অভিযোগ মাদ্রাসার হাফেজা কিশোরী ধর্ষন : আলামত নষ্ট করতে ১০ দিনেও মামলা নেয়নি ওসি জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার মাদক বিরোধী ক্যাম্পেইনে প্রশাসনসহ আল-আমিন একাডেমীর শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নরসিংদীর শিবপুরে পুত্র কর্তৃক পিতাকে কুপিয়ে ও জখম করে হত্যাঃ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্ৰেফতার বুড়িচংয়ে হাতকড়া পরা আসামির নাটকীয় পলায়ন, ১ ঘণ্টা পর জলাশয়ের গর্ত থেকে ফের গ্রেফতার জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বর্ধিত সভা জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত গাজীপুরের শ্রীপুরে পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ, প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ সুনামগঞ্জের নতুনপাড়াস্থ শ্রী শ্রী রাধাকৃষ্ণ মন্দির প্রাঙ্গণে চিত্রাংঙ্গন ও কুইজ প্রতিযোগিতা,ধর্মীয় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত কালিয়াকৈরে মাছের খামার দখল ও ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ, যুবদল নেতা রায়হানসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

মুফতি মুহিব্বুল্লাহ মিয়াজী অদ্ভুত “রিয়েল-টাইম থ্রিলার”

Reporter Name

মো. রফিকুল ইসলামঃ
ইসকন নিষিদ্ধ করার আন্দোলন জোরদার করতে ষড়যন্ত্রমূলক অপহরণ নাটক। নিজের অপহরণ নাটকের স্বীকারোক্তি টঙ্গীর মুফতি মহিবুল্লাহ মিয়াজী যেভাবে পঞ্চগড়ে গেলেন?
গত বুধবার (২২ অক্টোবর ২০২৫) সকালে টঙ্গীর বাসা থেকে হাঁটতে বের হয়ে নিখোঁজ হন বিটিসিএল টিঅ্যান্ডটি কলোনি জামে মসজিদের খতিব ও পেশ ইমাম মো. মুহিবুল্লাহ মিয়াজী (৬৫)। এ ঘটনায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সংগঠন আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘের (ইসকন) বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতার ও ইসকন নিষিদ্ধের দাবিতে বিক্ষোভ করা হয়েছে সারাদেশে।
মুহিবুল্লাহ মিয়াজী জানিয়েছিলেন, ১১ মাস ধরে তাকে বেনামি চিঠি দিয়ে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। এসব চিঠিতে তাকে অখন্ড ভারত ও ইসকনের পক্ষে কথা বলতে বলা হয়। বাংলাদেশের ধর্মভিত্তিক দলগুলো ও বিএনপি-এনসিপির বিরুদ্ধে কথা বলতে বলা হয়। সর্বশেষ গত ২১ অক্টোবরের চিঠিতে তাকে কোরআন, ইসলাম, আল্লাহ শব্দ বলতে নিষেধ করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলা হয় বলে তিনি দাবি করেন।
ঘটনাসুত্রপাতঃ ২২ অক্টোবর সকাল ৭টা। টঙ্গীর শিলমুন ফিলিং স্টেশনের সামনে থেকে মুহিব্বুল্লাহর “অপহরণের” খবর ছড়িয়ে পড়ে। পরদিনই তাকে পাওয়া যায় পঞ্চগড়ে হাত-পা বাঁধা, ক্লান্ত অবস্থায়। গোটা দেশ ভাবল, একজন ধর্মীয় নেতাকে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ করা হয়েছে। কিন্তু তদন্ত শুরু হতেই পুলিশ পেয়ে যায় প্রথম ক্লু: ফুটেজে দেখা যায়, কথিত “অপহরণের” সময় তিনি একাই দ্রæত হেঁটে যাচ্ছেন। অ্যাম্বুলেন্স? দেখা মেলেনি। আরও চমকপ্রদ তথ্য তিনি টানা দুই কিলোমিটার হেঁটে যান, তারপর নিজেই যানবাহনে চড়ে অদৃশ্য হন।
সিসিটিভি বনাম দাবিঃ যেখানে তিনি বলেছিলেন “অ্যাম্বুলেন্সে তুলে নেয়া হয়েছে”, ফুটেজে দেখা গেল “তিনি নিজেই রওনা হয়েছেন”। এই বিপরীত বাস্তবতা পুলিশের চোখ খুলে দেয়। মোবাইল ট্র্যাকিংয়ে পাওয়া যায় তার চলাচলের স্পষ্ট রুট:
টঙ্গী → সিরাজগঞ্জ → পঞ্চগড়ঃ অর্থাৎ, কেউ অপহরণ করেনি; তিনি নিজেই পরিকল্পনা অনুযায়ী গিয়েছেন। চিকিৎসকের রিপোর্টে ফাঁকফোকর আরেকটি বড় ধাক্কা আসে মেডিকেল রিপোর্টে। মুহিব্বুল্লাহ দাবি করেছিলেন, তাকে নির্যাতন করা হয়েছে। কিন্তু পঞ্চগড়ের সিভিল সার্জন বলেন, “দেহে কোনো আঘাতের দাগ পাওয়া যায়নি।” শুধু ব্যথানাশক ওষুধ দেওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ ‘নির্যাতনের গল্পটিও’ মিলে না বাস্তবের সঙ্গে।
সাংবাদিকের ছায়াঃ তদন্তে আরও এক নতুন চরিত্র যোগ হয়, সাংবাদিক ইলিয়াস। পুলিশের দাবি, তিনিই পরামর্শ দিয়েছিলেন, পুরো নাটক সাজাতে। প্রচার পাওয়ার লোভে বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে মুফতি এই নাটক করেছিলেন এমন ধারণা তদন্ত কর্মকর্তাদের।
নাটকীয় মোড়ঃ শেষ পর্যন্ত যে মামলায় তিনি “ভুক্তভোগী”, সেই মামলায়ই তিনি হচ্ছেন “আসামি”।
অপহরণের গল্প পুলিশি তদন্তে পরিণত হলো আত্ম-অপহরণের নাটকে। বাংলাদেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এটি সবচেয়ে অদ্ভুত “রিয়েল-টাইম থ্রিলার” যেখানে অপরাধী, ভুক্তভোগী, ও চিত্রনাট্যকার সব একই ব্যক্তি!
উপসংহারঃ সত্য কখনও লুকানো যায় না সিসিটিভি ক্যামেরা, মোবাইল টাওয়ার আর মেডিকেল রিপোর্টে শেষমেশ উন্মোচিত হয়, মুফতি মুহিব্বুল্লাহর “অপহরণের” মুখোশ। এই কাহিনী কেবল এক ব্যক্তির নয়, বরং আমাদের সমাজে “সহানুভূতি-নির্ভর নাটক” কীভাবে সত্যকে বিকৃত করে তার একটি প্রতীকী উদাহরণ।
মুফতি মুহিবুল্লাহ মিয়াজি সাহেব হয়তো বলতে চেয়েছেন, তাঁকে আসলে জ্বিনে ধরেছিলো। তাই তিনি স্বেচ্ছায় টঙ্গী থেকে বেরিয়ে আপন মনে ঘুরতে ঘুরতে সীমান্তবর্তী পঞ্চগড়ে গিয়েছিলেন। নিজের ইচ্ছায় তিনি লেংটু হয়ে নিজের পায়ে নিজেই শেকল পরে শুয়ে পড়েন এক জঙ্গলের মধ্যে। তারপর তাঁর স্বজনরা পার্শ্ববর্তী দেশ ও ইস্কনের উপর দায় চাপিয়ে দেন। এভাবে তিনি হিন্দু গণহত্যার সুযোগ তুলে দেন উগ্রদের হাতে। কিন্তু ইহুদি-নাসারাদের বানানো সিসি ক্যামেরার ষড়যন্ত্রে তিনি কট খেয়ে যান। ফলে পুলিশের সামনে নিজেই যে পুরো নাটকের রচয়িতা তা স্বীকারোক্তি দেন।
বিষয়টি এখানেই শেষ মনে করে ছেড়ে দেওয়া ঠিক হবে না। আসলে তিনি ইস্কনের সদস্য কিনা, এখন সেটাও সন্দেহ হচ্ছে। ইস্কন ভারতে জন্ম নেওয়া হিন্দুদের কোনো ধর্মীয় সংগঠন না| এটা আমেরিকার একটি সংগঠন। আমরা জানি এখন বাংলাদেশের উপর আমেরিকার প্রভাব অন্য সব সময়ের চেয়ে বেশি। ইস্কনের নামের মধ্যেই ‘প্রচার’ শব্দটি আছে। তিনি ইস্কনের প্রচার করে দিলেন। সারাদেশ এখন ইস্কনকে চেনে এবং এখন থেকে ইস্কনের সাধুরা কোনো অপকর্ম করলেও কেউ আর তা বিশ্বাস করতে চাইবে না। বলবে এটাও অপপ্রচার।
বাংলাদেশ অপহরণ নিয়ে নানা রহস্যময় ঘটনা ঘটে। কিন্তু সম্প্রতি গাজীপুরের টঙ্গী থেকে শুরু হয়ে পঞ্চগড়ে গিয়ে শেষ হলো তা সত্যি নাটকীয়। নিজেই নিজের অপহরণঃ মুফতি মুহিব্বুল্লাহ নাটকের পর্দা উন্মোচন। মুফতি মুহিব্বুল্লাহ মিয়াজী নামে একজন খতিব দাবি করেছিলেন, তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। কিন্তু সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ট্র্যাকিং ও চিকিৎসকের রিপোর্টে ধীরে ধীরে বেরিয়ে এলো এমন সব অসঙ্গতি যা গোটা কাহিনীটিকে পরিণত করেছে এক অবিশ্বাস্য নাটকে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা