October 28, 2026, 5:01 am
শিরোনাম :
২৫ বছর বয়সে সেলুন কর্মচারী মেহরাব ২৬ বিয়ে করে এখন গ্লোবাল হয়েছে- পর্ব (২) শোক সংবাদ টঙ্গীতে শিশু নিপীড়ন মামলা: শিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর, গুজব না ছড়ানোর আহ্বান পুলিশের শিশু বাচ্চা রেখে মা বাবা চলে যায় নিরাপদ আশ্রয়স্থল না থাকায় বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুটির পাশে দাড়ালেন জেলা প্রশাসক গাজীপুরের কোনাবাড়িতে ফিটিং বাজদের হাতে সাংবাদিক হেনস্থা ক্যান্সার চিকিৎসায় অভাবনীয় সফলতা অর্জন করেছেন গণস্বাস্থ্য হোমিও হাসপাতাল কালিয়াকৈরে ৭৪ লাখ টাকা প্রতারণা মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি জুলেখা বিবি গ্রেফতার পুবাইলের বিলে ভাসতে দেখে গেল স্কুলড্রেস পড়া অজ্ঞাত তরুণীর লাশ বাংলাদেশ মানব কল্যাণ এসোসিয়েশনের সভাপতি ও কার্যকরী সভাপতিকে সংবর্ধনা জিএমপি মেট্টো ডিবি উত্তরের অঘোষিত ঠিকাদার কে এই সোর্স আশরাফুল ?

মানবতার অনন্য দৃষ্টান্ত ইউএনও উম্মে হাবিবা ফারজানা

Reporter Name

মা পরীক্ষার্থীর শিশু ইউএনওর কোলে
মোঃ নাসিরউদ্দিন,রাজশাহী প্রতিনিধিঃ
পরীক্ষা হলের বাইরে কাঁদছিল এক ছোট্ট শিশু। শিশুটির মা তখন হলের ভেতরে মনোযোগ দিয়ে পরীক্ষা দিচ্ছেন। পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে এমন দৃশ্য দেখে, নিজেকে আর স্থির রাখতে পারেননি রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) উম্মে হাবিবা ফারজানা। এগিয়ে গিয়ে শিশুটিকে পরম স্নেহে কোলে তুলে নেন তিনি। দীর্ঘ সময় ধরে শিশুটিকে কোলে রেখে শান্ত করেন। এবং তার মা কে নির্বিঘ্নে পরীক্ষা দেওয়া নিশ্চিত করেন।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইউএনও উম্মে হাবিবা ফারজানার এমন এক পরম মমতাময়ী রূপের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। সরকারি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানবিকতার এমন অনন্য উদাহরণ তৈরি করায় নেট দুনিয়ায় প্রশংসায় ভাসছেন এই প্রশাসনিক কর্মকর্তা।
কী ঘটেছিল সে দিনঃ
ঘটনাটি ঘটে দুর্গাপুরের একটি পরীক্ষা কেন্দ্রে। সেদিন ছিল ‘ফ্যামিলি কার্ড’ তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের নিয়োগ বা বাছাই পরীক্ষা। উপজেলা জুড়ে নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিবেশ পর্যবেক্ষণে বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শনে যান ইউএনও উম্মে হাবিবা ফারজানা।
পরিদর্শনের এক পর্যায়ে একটি কেন্দ্রে গিয়ে তিনি দেখতে পান, এক পরীক্ষার্থী মা তাঁর শিশু সন্তানকে বাইরে কারও দায়িত্বে রেখে ভেতরে পরীক্ষা দিচ্ছেন। কিন্তু মায়ের সান্নিধ্য না পেয়ে শিশুটি অঝোরে কাঁদছিল। বিষয়টি চোখে পড়া মাত্র ইউএনও উম্মে হাবিবা ফারজানা নিজে শিশুটিকে কোলে তুলে নেন। বেশ কিছু সময় ধরে পরম যত্নে তাকে শান্ত রাখেন। উদ্দেশ্য পরীক্ষা হলে পরীক্ষার্থী মা যেন কোনো ধরনের দুশ্চিন্তা ছাড়াই পরীক্ষা শেষ করতে পারেন।
মানবতা ও সামাজিক প্রতিক্রিয়াঃ
পরীক্ষা শেষে নিজের কোল থেকে শিশুটিকে মায়ের কাছে তুলে দেন ইউএনও। একজন ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তার এমন নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও মানবিক আচরণ দেখে উপস্থিত পরীক্ষার্থী, শিক্ষক ও সাধারণ মানুষ আবেগআপ্লুত হয়ে পড়েন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পোস্ট গুলোতে নেটিজেনরা তাঁকে ‘মানবতার ফেরিওয়ালা’ উপাধিতে ভূষিত করছেন। তাঁদের মতে, শুধু প্রশাসনিক নির্দেশনার মধ্য দিয়েই দায়িত্ব শেষ হয় না; একজন সত্যিকারের জনপ্রতিনিধি বা কর্মকর্তার মধ্যে যে মমত্ববোধ থাকা দরকার, উম্মে হাবিবা ফারজানা সেটিই প্রমাণ করে দেখালেন।
উল্লেখ্য, রাজশাহী দুর্গাপুর উপজেলা নিবার্হী অফিসার উম্মে হাবিবা ফারজানা দক্ষিণঞ্চালের বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বিসিএস) ৩৭ তম ব্যাচ’র ক্যাডার।
তিনি ১৫ জুলাই ২০২৬ ইং রাজশাহী দুর্গাপুরের ইউএনও হিসেবে যোগদান করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা