শেখ কামরুল হাসান শাহা, স্টাফ রিপোর্টার : দীর্ঘ ১৭ বছর স্বৈরাচারী সরকারের শাসনে মানুষের ভোটাধিকার হরণ হয়েছে, টঙ্গীসহ গাজীপুর অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার হয়েছে, এবং এখানকার দলীয় নেতাকর্মীরা চরম নির্যাতনের মুখোমুখি হয়েছেন। মহান আল্লাহর মেহেরবানীতে জনগণের আন্দোলনে স্বৈরাচারের পতন ঘটার পর দেশে একটি গণতান্ত্রিক ধারা সৃষ্টি হয়েছে। এই ধারাবাহিকতায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দীর্ঘ সময়ের অন্যায়ের বিরুদ্ধে জনগণের গণরায় প্রকাশ এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ এসেছে-এমন বক্তব্য দেন গাজীপুর-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম. মঞ্জুরুল করিম রনি। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে টঙ্গীর শফিউদ্দিন সরকার একাডেমি অ্যান্ড কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত বিএনপির প্রথম জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জনসভাটি এক পর্যায়ে জনসমুদ্রে রূপ নেয়, যা আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে গাজীপুর-২ আসনের রাজনৈতিক উত্তাপ এবং জনসম্পৃক্ততার স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে। রনি তার বক্তব্যে টঙ্গীর যানজট নিরসনের জন্য ফ্লাইওভার নির্মাণ, টঙ্গীর মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ এবং গাজীপুরকে একটি আধুনিক, পরিকল্পিত নগরীতে রূপান্তরের জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন।
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপি নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য হাসান উদ্দিন সরকার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী ছায়েদুল আলম বাবুল, গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি শওকত হোসেন সরকার, বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন সরকার এবং কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বেনজির আহমেদ টিটু।
টঙ্গী পশ্চিম থানা এবং টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপি নির্বাচন কমিটির সমন্বয়ক ও গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুব আলম শুক্কুর, মহানগর বিএনপির সাবেক ১নং যুগ্ম আহ্বায়ক রাকিব উদ্দিন সরকার পাপ্পু,
বিএনপির আহ্বায়ক প্রভাসক বশির উদ্দিন ও টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপির সভাপতি সরকার জাবেদ আহমদ সুমন। অনুষ্ঠানটি আরও বক্তব্য রাখেন গাজীপুর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও সাবেক ভিপি সরাফত হোসেন, সদর মেট্রো থানা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মেহেদী হাসান এলিস, জমিয়তে ইসলামের গাজীপুর মহানগরের সাধারণ সম্পাদক মুফতি নাসির উদ্দিন, গাজীপুর জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি মীর হালিমুজ্জামান ননি, মহানগর বিএনপির সাবেক সহসভাপতি অ্যাডভোকেট শহীদুজ্জামান, আহমদ আলী রুশদি, মহানগর বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আ.ক.ম মোফাজ্জল হোসেন, মহানগর বিএনপির এক নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক হান্নান মিয়া হান্নু, সদর মেট্রো থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম টুটুল, সাবেক ভিপি জয়নাল আবেদীন তালুকদার, মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব মাহমুদ হাসান রাজু, সদর মেট্রো থানা যুবদলের আহ্বায়ক নাজমুল খন্দকার সুমন, গাজীপুর মহানগর যুবদলের সভাপতি সাজেদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান রাজু, গাজীপুর মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি রোহানুজ্জামান শুক্কুর, সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান মীরন, টঙ্গী পশ্চিম থানা যুবদলের সভাপতি শেখ মোহাম্মদ সুমন, টঙ্গী পূর্ব থানা যুবদলের সদস্য নাজমুল মন্ডল, টঙ্গী পশ্চিম থানা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আজিজ টিপু, টঙ্গী পশ্চিম থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আবুবক্কর সিদ্দিক, সাধারণ সম্পাদক রাতুল ভূঁইয়া, টঙ্গী পূর্ব থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সোভেল প্রধান, ৫৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিশাত মাহমুদ জালালসহ মহানগর বিএনপি ও অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এম. মঞ্জুরুল করিম রনি আরও বলেন, টঙ্গীসহ গাজীপুরের মানুষ দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার হয়েছে। বর্তমানে দেশে একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে এসেছে এবং সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের অপেক্ষায় থাকা মানুষের সেই প্রত্যাশা ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মধ্য দিয়ে পূরণ হবে বলে তিনি আশাবাদী।
পিতার স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, অধ্যাপক এম এ মান্নান গাজীপুরের এমপি, মন্ত্রী ও প্রথম মেয়র হিসেবে এই অঞ্চলের অবকাঠামো ও নাগরিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন এবং তার দেখানো পথ অনুসরণ করেই তিনি গাজীপুরকে একটি পরিকল্পিত, পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চান। এর আগে বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) টঙ্গী, সালনা ও জয়দেবপুরের গুরুত্বপূর্ণ বাজার, বাসস্ট্যান্ড ও জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ, লিফলেট বিতরণ ও পথসভা করেন এম. মঞ্জুরুল করিম রনি, যেখানে ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময়, হাত মেলানো ও দোয়া চাওয়ার মধ্য দিয়ে নির্বাচনী পরিবেশ প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ভোটাধিকার ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সীমাবদ্ধতার পর এই জনসভা ও গণসংযোগ গাজীপুর-২ আসনে বিএনপির সাংগঠনিক প্রস্তুতি ও জনসম্পৃক্ততার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।
Tap into a new revenue stream—become an affiliate partner!