মোঃ রফিকুল ইসলামঃ
সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব কি শুধু সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)’র একার দায়িত্ব ?
আমি মনে করি না। সীমান্ত রক্ষা পুরো জাতির দায়িত্ব। আর সেই দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজন আরও অধিক কর্ম পরিকল্পনা, প্রস্তুতি ও প্রশিক্ষণ । প্রশিক্ষিত ও সু সংগঠিত জনশক্তি। একটি প্রশিক্ষিত সীমান্ত রিজার্ভ বাহিনী। সাধারণত সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী মানুষের সব সময়

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি।
চোরাচালান প্রতিরোধ, অনুপ্রবেশ শনাক্তকরণ, সীমান্ত সংঘাত কিংবা সহ আপৎকালীন পরিস্থিতিতে সীমান্তবর্তী অঞ্চলের মানুষই প্রথম পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। সে ক্ষেত্রে তারা যদি প্রশিক্ষিত হতো তবে তা শুধু নিজেদের নয়,রাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা হিসেবে কাজ হতো।
সীমান্তবর্তী অঞ্চলের প্যারা-মিলিটারি ও সিভিল ডিফেন্স প্রশিক্ষণ চালু করা উচিত।
বিশ্বে এমন অনেক দেশ আছে, যেই দেশে প্রতিটি নাগরিকের সেনাবাহিনী প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তার মধ্যে ইসরায়েল, উত্তর কোরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, নরওয়ে, সুইডেন, এবং কিউবা উল্লেখযোগ্য।
তাহলে বাংলাদেশে শুধু সীমান্তবর্তী অঞ্চলের সক্ষম এবং উপযুক্ত লোকদের সবাইকে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে সমস্যা কোথায়।
আমাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি) প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।
যেহেতু আপৎকালীন পরিস্থিতিতে স্থানীয় জনগণই (সীমান্তবর্তী অঞ্চলের মানুষ) সর্বপ্রথম বাস্তব পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় তাই তারা প্রশিক্ষিত হলে বিশেষ পরিস্থিতিতে তারা সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে সহায়তা করতে পারবে।
শুধু তাই নয়, জাতীয় সংকটের সময় দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হবে। একইসঙ্গে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, উদ্ধার কার্যক্রম, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং জন নিরাপত্তার মতো ক্ষেত্রেও এই প্রশিক্ষিত জনগোষ্ঠী রাষ্ট্রের মূল্যবান সম্পদে পরিণত হবে।
দেশের আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে এই প্রশিক্ষিত জনবল কে পূর্ণকালীন আর্থিক কাঠামো নিয়ে আসা সম্ভব না। সেক্ষেত্রে রাষ্ট্র যখন তাদের সময়, শ্রম ও দক্ষতা ব্যবহার করবে, তখন প্রশিক্ষণ প্রাপ্তদের জন্য সৌজন্য সম্মানি বা মাসিক ভাতার ব্যবস্থা করা যুক্তিযুক্ত। এতে একদিকে যেমন জনগণের অংশগ্রহণ বাড়বে, অন্যদিকে সীমান্ত এলাকায় কর্মসংস্থান ও রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ববোধ শক্তিশালী হবে।
বিশ্বের অনেক দেশেই প্রশিক্ষিত রিজার্ভ ফোর্স জাতীয় নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ।
রাষ্ট্র চাইলে তাদের (প্রশিক্ষিত সীমান্ত রিজার্ভ বাহিনী) সদস্যদের পুর্ণ কালীন আর্থিক কাঠামোয় নিয়ে আসতে পারে।
এতে করে একদিকে যেমন জনগণের অংশগ্রহণ বাড়বে, অন্যদিকে সীমান্ত এলাকায় কর্মসংস্থান ও রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ববোধ দৃঢ় ও শক্তিশালী হবে।
রাষ্ট্র যখন তাদের সময়, শ্রম ও দক্ষতা ব্যবহার করবে, তখন প্রশিক্ষণ প্রাপ্তদের জন্য আর্থিক ব্যবস্থা করা তেমন কঠিন বলে মনে হয় না।
বছরের পর বছর বাংলাদেশের বাজেটের যে স্কোর দেখতে পাচ্ছি। তা থেকে এই রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা স্বার্থে বরাদ্দ সরকারের ইচ্ছে শক্তিই যথেষ্ট।
-মোঃ রফিকুল ইসলাম
সাংবাদিক ও কলামিস্ট।
rafiqgp25@gmail.com