গাজীপুর প্রতিনিধি
গাজীপুরে দুই সন্তানের জননী (৪৭)-কে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে রাসেল ভূঁইয়া (৩৮) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে অভিযুক্ত ওই গৃহবধূকে শ্লীলতাহানি ও মারধর করে এবং তার সহযোগীদের নিয়ে ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। এ সময় বাড়ির উঠানে অবস্থানরত সহযোগীরা নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহবধূ তিনজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও পাঁচজনকে আসামি করে জয়দেবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্তরা হলেন গাজীপুর সদর উপজেলার হোতাপাড়া এলাকার রাসেল ভূঁইয়া (৩৮), সালাউদ্দিন ভূঁইয়া (৪০) ও রাসেল মিয়া (৩২) এবং তাদের অজ্ঞাত আরও পাঁচ সহযোগী। ভুক্তভোগী গৃহবধূ গাজীপুর সদর উপজেলার ভবানীপুর (বেগমপুর) গ্রামের বাসিন্দা।
ভুক্তভোগী গৃহবধূ অভিযোগ করে জানান, প্রধান অভিযুক্ত রাসেল ভূঁইয়া দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সময়ে তার বাড়িতে এসে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। তিনি প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় রাসেল বিভিন্ন সময় তাকে ক্ষতি করার হুমকি দেয়। পরে গত ১৭ জুলাই সন্ধ্যা ৭টার দিকে তিনি বাড়িতে একা গৃহস্থালির কাজ করছিলেন। ওই সময় বাড়িতে অন্য কোনো সদস্য ছিলেন না। এ সুযোগে রাসেল ভূঁইয়া ও তার সহযোগী রাসেল মিয়া বাড়িতে আসে। রাসেল ভূঁইয়া জোরপূর্বক ঘরে প্রবেশ করে আবারও কুপ্রস্তাব দেয়।
তিনি প্রস্তাবে রাজি না হলে রাসেল ভূঁইয়া ক্ষিপ্ত হয়ে ধর্ষণের উদ্দেশ্যে তাকে জাপটে ধরে। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তাকে মারধর করে কাপড়চোপড় টেনে ছিঁড়ে বিবস্ত্র করে এবং শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে শ্লীলতাহানি ঘটায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় তার আরও পাঁচজন সহযোগী ঘরে প্রবেশ করে আসবাবপত্র ভাঙচুর করে, যাতে প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। তারা নগদ ৭০ হাজার টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগীর দাবি, ঘটনার খবর পেয়ে তার দুই ছেলে সাইদুর (২৮) ও ফাইজুল (২৬) বাড়িতে এলে অভিযুক্তরা তাদেরও মারধর করে এবং ভয়ভীতি দেখায়।
লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তরা তার বসতবাড়ির পাশেই বড় ছেলে সাইদুরের ভাড়া বাসার তালা ভেঙে মুরগির ব্যবসার নগদ দেড় লাখ টাকা, তার স্ত্রীর দেড় ভরি ওজনের স্বর্ণালঙ্কার, জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংক কার্ডসহ বিভিন্ন মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা তার স্বামী, দুই ছেলে এবং তাকেও বিভিন্নভাবে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছেন।
এ বিষয়ে প্রধান অভিযুক্ত রাসেল ভূঁইয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জয়দেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আল মামুনের কাছে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, আসামিদের গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত আছে। এবিষয়ে পরে কথা বলার পরামর্শ দিয়ে তিনি মুঠোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।
https://shorturl.fm/44FpC