October 27, 2026, 4:27 am
শিরোনাম :
২৫ বছর বয়সে সেলুন কর্মচারী মেহরাব ২৬ বিয়ে করে এখন গ্লোবাল হয়েছে- পর্ব (২) শোক সংবাদ টঙ্গীতে শিশু নিপীড়ন মামলা: শিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর, গুজব না ছড়ানোর আহ্বান পুলিশের শিশু বাচ্চা রেখে মা বাবা চলে যায় নিরাপদ আশ্রয়স্থল না থাকায় বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুটির পাশে দাড়ালেন জেলা প্রশাসক গাজীপুরের কোনাবাড়িতে ফিটিং বাজদের হাতে সাংবাদিক হেনস্থা ক্যান্সার চিকিৎসায় অভাবনীয় সফলতা অর্জন করেছেন গণস্বাস্থ্য হোমিও হাসপাতাল কালিয়াকৈরে ৭৪ লাখ টাকা প্রতারণা মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি জুলেখা বিবি গ্রেফতার পুবাইলের বিলে ভাসতে দেখে গেল স্কুলড্রেস পড়া অজ্ঞাত তরুণীর লাশ বাংলাদেশ মানব কল্যাণ এসোসিয়েশনের সভাপতি ও কার্যকরী সভাপতিকে সংবর্ধনা জিএমপি মেট্টো ডিবি উত্তরের অঘোষিত ঠিকাদার কে এই সোর্স আশরাফুল ?

সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ও নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ

মোঃ রফিকুল ইসলাম।

মোঃ রফিকুল ইসলামঃ
“সরকার যদি অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট রোধ করতে না পেরে তাহলে জনগণের ম্যান্ডেট হারানো ১০০ভাগ নিশ্চিত। পণ্যের আমদানি নথি, শুল্কের তথ্য, পরিবহন ব্যয়, পাইকারি মূল্য, মজুতের পরিমাণ, বাজারে সরবরাহ এবং খুচরা বিক্রয়মূল্যের পূর্ণাঙ্গ অডিটের মাধ্যমে বের করতে হবে।”
বাংলাদেশের অতীত ইতিহাস থেকে আমাদের কাছে যে বিষয়টি স্বচ্ছ ভাবে ফুটে উঠেছে এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আমরা দেখেছি, বাজারের কিছু প্রভাবশালী ব্যবসায়ী, আমদানিকারক, পাইকার ও মধ্যস্বত্বভোগীর সমন্বয়ে গড়ে ওঠা অসাধু চক্র কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে কিংবা বাজার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ভোক্তাদের কাছ থেকে অস্বাভাবিক মুনাফা আদায় করেছে।
একটি বা দুটি পণ্যের ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঘটলে সেটিকে বিচ্ছিন্ন বাজার পরিস্থিতি বলা যেতে পারে। কিন্তু একই সময়ে একাধিক পণ্যের দাম যদি অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকে, অথচ সংশ্লিষ্ট পণ্যের সরবরাহ, আমদানি বা উৎপাদনের তথ্য সেইসাথে মূল্যবৃদ্ধিকে পুরোপুরি সমর্থন না করে, তাহলে বিষয়টি অবশ্যই গভীরভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।
সরকার পরিবর্তন হলেই যে এসব অর্থনৈতিক স্বার্থগোষ্ঠী বিলীন হয়ে গেছে এমন নজির নেই বাংলাদেশের ইতিহাসে। আর এমনটি ধারণা করাটাও নেহায়েত বোকামি। তার প্রধান কারণ হলো- শুরু থেকেই এই সিন্ডিকেট সরকার কে জিম্মি করে রেখেছে।
অর্থনীতিবিদের বর্তমান সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, বাজার নন নিয়ন্ত্রণে প্রভাবশালী গোষ্ঠীর অন্যায় হস্তক্ষেপ কতটা কার্যকরভাবে বিস্তার লাভ করছে তা খতিয়ে দেখা এবং যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে প্রতিকার করা। সেই সাথে ‘সিন্ডিকেট’ শব্দটি শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে ব্যবহার না করে তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে প্রতিটি পণ্যের মূল্যশৃঙ্খল তদন্ত করা প্রয়োজন।
জনগণের যৌক্তিক চাওয়াঃ
একজন অতি সাধারন ভোক্তার নাগরিক অধিকার রয়েছে জানার বা সরকারের কাছে প্রশ্ন করার। ১ কেজি মাল্টার আমদানি মূল্য যদি ৮৭ টাকা হয়, তাহলে বাজারে সেটি ৫৫০ টাকা কেন? ১কেজি পোলাওয়ের চালের মূল্য যদি ১২০ টাকা হয়, তাহলে ২৪০ টাকা নেওয়ার যৌক্তিকতা কোথায়?
উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে ডিমের দাম যতটুকু বাড়ার কথা, তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি কেন বাড়ছে?
এলপিজির সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকার পরও সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে এক হাজার টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে কেন?
একটি এলপি গ্যাসের সিলিন্ডারে যদি গড়ে এক হাজার টাকা অতিরিক্ত নেওয়া হয় এবং প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক সিলিন্ডার বিক্রি হয়, তাহলে প্রতিদিন অতিরিক্ত আদায়কৃত বিপুল পরিমাণ অর্থ যাচ্ছে কোথায় কারা এর সুবিধা নিচ্ছে এবং শেষ পর্যন্ত এই বিপুল পরিমাণে অবৈধ অর্থ কাছে যাচ্ছে। কোন কোন স্তরে বন্টন হচ্ছে। বাজার তদারকি ব্যবস্থা কেন তা বন্ধ করতে পারছে না। এসব প্রশ্নের উত্তর জনগণের জানার অধিকার রয়েছে।
আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন:
পণ্যের প্রকৃত মূল্য ও ভোক্তার কাছ থেকে আদায়কৃত মূল্যের মধ্যকার বিশাল ব্যবধানের অর্থ কার পকেটে যাচ্ছে?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর শুধু বক্তব্য দিয়ে নয়, আমদানি নথি, শুল্কের তথ্য, পরিবহন ব্যয়, পাইকারি মূল্য, মজুতের পরিমাণ, বাজারে সরবরাহ এবং খুচরা বিক্রয়মূল্যের পূর্ণাঙ্গ অডিটের মাধ্যমে বের করতে হবে।
সরকার যদি সত্যিই বাজারে অসাধু সিন্ডিকেটের অস্তিত্ব খুঁজে পায়, তাহলে শুধু কয়েকজন খুচরা বিক্রেতার বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। তদন্ত করতে হবে আমদানিকারক থেকে শুরু করে পাইকার, ডিস্ট্রিবিউটর, মজুতদার ও খুচরা বিক্রেতা পর্যন্ত পুরো সরবরাহব্যবস্থা।
কারণ, একজন ছোট দোকানদার যদি বেশি দামে পণ্য কিনে বেশি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হন, তাহলে তাকে একা ‘অসাধু ব্যবসায়ী’ হিসেবে চিহ্নিত করে মূল সমস্যাকে আড়াল করা হবে।
বাজার নিয়ন্ত্রণ নয়, স্বচ্ছতা দরকারঃ
দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের নামে সাময়িক অভিযান চালিয়ে কয়েক দিন বাজার শান্ত রাখা সম্ভব, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে সমাধান করতে হলে বাজারের তথ্যকে স্বচ্ছ করতে হবে।
কোন পণ্য কত দামে আমদানি হচ্ছে, কত শুল্ক দেওয়া হচ্ছে, পরিবহন ও অন্যান্য খরচ কত, আমদানিকারক ও পাইকার কত মুনাফা করছেন এবং শেষ পর্যন্ত ভোক্তা কত দামে কিনছেন, এই পুরো হিসাব একটি কার্যকর বাজার নজরদারি ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে।
একই সঙ্গে অস্বাভাবিক মজুত, কৃত্রিম সংকট, কারসাজি ও অতিরিক্ত মুনাফার প্রমাণ পাওয়া গেলে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।
কারণ, বাজারে প্রতিযোগিতা থাকলে দাম নির্ধারিত হবে চাহিদা ও সরবরাহের স্বাভাবিক নিয়মে। কিন্তু কয়েকটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী যদি বাজার নিয়ন্ত্রণ করে, তাহলে সেটি মুক্তবাজার নয়, বরং ভোক্তার ওপর এক ধরনের অর্থনৈতিক চাপ।
সাধারণ মানুষের আয় সীমিত। তাদের কাছে প্রতিটি অতিরিক্ত টাকা গুরুত্বপূর্ণ। একটি পণ্যে ৫০ টাকা, আরেকটিতে ১০০ টাকা, অন্যটিতে ২০০ বা ১০০০ টাকা অতিরিক্ত দিতে দিতে মাস শেষে একটি পরিবারের ব্যয়ের ওপর যে চাপ তৈরি হয়, সেটিই আজকের দ্রব্যমূল্য সংকটের বাস্তব চিত্র।
তাই প্রশ্নটি শুধু ‘দাম কেন বাড়ছে?’ নয়। প্রশ্ন হলো, ‘কারা দাম বাড়াচ্ছে, কেন বাড়াচ্ছে এবং সেই অতিরিক্ত অর্থ কার পকেটে যাচ্ছে?’ জনগণ এই প্রশ্নের রাজনৈতিক স্লোগান নয়, প্রমাণ ভিত্তিক ও স্বচ্ছ উত্তর চায়।
আর যদি সত্যিই কোনো অসাধু সিন্ডিকেট আবার সক্রিয় হয়ে থাকে, তাহলে সেটিকে রাজনৈতিক পরিচয়, অর্থনৈতিক প্রভাব কিংবা প্রশাসনিক দুর্বলতার আড়ালে রাখার সুযোগ দেওয়া যাবে না।
বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, ভোক্তার অধিকার রক্ষা করা এবং অসাধু মুনাফাখোরদের জবাবদিহির আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি।
সরকার যদি অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট রোধ করতে না পেরে তাহলে জনগণের ম্যান্ডেট হারানো ১০০ভাগ নিশ্চিত। যে কোন পণ্যের প্রকৃত মূল্য ও ভোক্তার কাছ থেকে আদায়কৃত মূল্যের মধ্যকার বিশাল ব্যবধানের অর্থ কার পকেটে যাচ্ছে ?
আমদানি নথি, শুল্কের তথ্য, পরিবহন ব্যয়, পাইকারি মূল্য, মজুতের পরিমাণ, বাজারে সরবরাহ এবং খুচরা বিক্রয়মূল্যের পূর্ণাঙ্গ অডিটের মাধ্যমে বের করার উপর সরকারের ভবিষ্যত নির্ভর করছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা