মোঃ রফিকুল ইসলামঃ
সব পেশাতেই কিছু ব্যতিক্রমী মানুষ থাকেন ।সাংবাদিকতার ক্ষেত্রেও তা আছে । প্রতিটি সরকারের শাসনামলে কিছু সাংবাদিক সরকারি দালালি করে এসেছেন। সম্প্রতি এর সংখ্যা বেড়ে দশ গুণ হয়েছে। একথা যেমন সত্য, তেমনি বহু সাংবাদিক আছেন যারা সেই শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সত্য লেখা এবং সত্যের পথে জীবিকা নির্বাহে অবিচল।
দেশে এখন ৫ শতাধিক সাংবাদিক বিভুরঞ্জনের মতোই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে আছেন। যাদের ব্যাংক ব্যালেন্স শূন্য , নেই গাড়ি বা ফ্ল্যাট— এমনকি বেঁচে থাকার শেষ সম্বল চাকরিটুকুও কেড়ে নেওয়া হয়েছে।
তাদের সংসার আছে— স্ত্রী, সন্তান, বাবা-মা আছেন। সংসারের ভরণপোষণের দায়িত্ব আছে, কিন্তু আয়-রোজগারের পথ বন্ধ করে দিয়ে, পরিবারের মুখে একমুঠো ভাত তুলে দেওয়ার সুযোগও কেড়ে নেওয়া হয়েছে।
শুধু তাই নয়, সামাজিক মর্যাদা নষ্ট করা হয়েছে, মাথার উপর ঝুলছে হত্যা মামলা। কারো এক্রিডিটেশন কার্ড বাতিল, কারো প্রেসক্লাবের সদস্যপদ বাতিল। কারো ব্যাংক হিসাব জব্দ, তাদের বিরুদ্ধে চলছে শারীরিক আক্রমণ, ভার্চুয়াল মবিং।
সরকার নিজেদের স্বার্থ হাসিল, অপকর্ম আড়াল এবং ক্ষমতা কুক্ষিগত করার জন্য এসব সাংবাদিকদের মিথ্যা অপবাদ দিয়ে নিজেদের পথ সুগম করছে। অথচ ওনাদের ৯৯ শতাংশই কখনো সরকারি সুবিধার ধারেকাছেও ছিলেন না।
এই ধারাবাহিকতা চলতে থাকলে মহান পেশায় সৎ ও নিষ্ঠাবান সাংবাদিকের সংখ্যাও ধীরে ধীরে শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে। তখন এই দেশে যে অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে তা থেকে কেউই হয়তো রক্ষা পাবে না।
সবাইকে মনে রাখতে হবে, সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে অন্য সব কিছু নিয়ন্ত্রণে থাকবে।