নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
নারায়ণগঞ্জ জেলার ধর্মগঞ্জে আরাফাত নগর এবং সংলগ্ন এলাকাগুলোতে মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করে মাদক ব্যবসায়ীদের আতঙ্ক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন স্থানীয় দুই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তারা হলেন— ফতুল্লা থানা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সৈকত আলী খান জুম্মন এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা তাঁতী দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুম পারভেজ।
সম্প্রতি কাইয়ুম নামক এক শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীকে হাতেনাতে ধরে পুলিশের হাতে সোপর্দ করার পর থেকেই এই দুই নেতার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার ও গুজব ছড়ানো হচ্ছে বলে জানা গেছে।
সাম্প্রতিক ঘটনা ও মাদকবিরোধী অবস্থানঃ
এলাকাবাসীর সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ধর্মগঞ্জ ব্রাক স্কুলের মোড়, বিল পাড়, পাকা পুল এবং হিন্দু পট্টি সংলগ্ন এলাকায় মাদকের যে অভয়ারণ্য ছিল, তা নির্মূলে জুম্মন ও মাসুম পারভেজ স্থানীয়দের নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। সম্প্রতি তারা কাইয়ুম নামক এক মাদক কারবারিকে ধরে প্রশাসনের হাতে তুলে দেন। এই ঘটনার পর থেকেই কোণঠাসা হয়ে পড়া মাদক সিন্ডিকেট তাদের দমনে নতুন কৌশল হিসেবে ‘ফেসবুক গুজব’ ও ‘ভিত্তিহীন অপবাদ’ বেছে নিয়েছে।
অপপ্রচারের ধরন ও উদ্দেশ্যঃ
মাদক ব্যবসায়ীরা নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় ভুয়া বা ফেক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করছে যে, এই দুই নেতা মাদক স্পট নিয়ন্ত্রণ করছেন। তদন্তে দেখা গেছে, মূলত মাদক স্পটগুলো উচ্ছেদ হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা উল্টো তাদের বিরুদ্ধেই মিথ্যা নিয়ন্ত্রণ ও চাঁদাবাজির দাবি তুলছে। এমনকি সাধারণ মানুষের চোখে তাদের হেয় করতে মাদকের সাথে সংশ্লিষ্ট পরিবারের নারীদের জড়িয়ে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ ও মিথ্যা চরিত্র হননকারী তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।
এলাকাবাসীর বক্তব্যঃ
ধর্মগঞ্জের সাধারণ বাসিন্দারা জানান, ফতুল্লা থানা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সৈকত আলী খান জুম্মন এবং জেলা তাঁতী দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুম পারভেজের শক্ত অবস্থানের কারণে এলাকায় মাদকের আনাগোনা অনেকটাই কমেছে। স্থানীয়দের মতে, যারা নিজেরা মাদক কারবারে জড়িত, তারাই এখন ফেক আইডি খুলে এই সমাজসেবীদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছে যাতে তারা ভয় পেয়ে মাদকবিরোধী কাজ বন্ধ করে দেয়।
স্থানীয় নেতৃবৃন্দের বক্তব্যঃ
এই বিষয়ে সৈকত আলী খান জুম্মন দুর্নীতি সংহার কে বলেন, “আমরা এলাকায় কোনো মাদক ব্যবসায়ী রাখব না বলে প্রতিজ্ঞা করেছি। কাইয়ুমকে ধরার পর মাদক ব্যবসায়ীরা আমাদের ওপর অনেকটা ক্ষিপ্ত। তারা আমাদের বিরুদ্ধে যে সমস্ত অপপ্রচার ছড়াচ্ছে তার কোনো ভিত্তি নেই। আমরা প্রশাসনকে সাথে নিয়ে এই বিষ নির্মূল করবই।”
মাসুম পারভেজ দুর্নীতি সংহার কে জানান, অপপ্রচারের ভয়ে আমরা পিছু হটার লোক না, বরং প্রশাসনের সহায়তায় প্রতিটি মাদক স্পট গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে এবং গুজব রটনাকারীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
উপসংহারঃ
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যারা এলাকায় মাদকবিরোধী কাজ করছে তাদের সুরক্ষা দেওয়া হবে। একই সাথে যারা রাজনৈতিক পরিচয় ও সামাজিক সম্মান ক্ষুণ্ণ করতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করছে, তাদের শনাক্ত করে সাইবার নিরাপত্তা আইনে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।