June 13, 2026, 5:04 am
শিরোনাম :
গাছে গাছে কাঁঠালের সমারোহ, মৌসুমী বাহারে মুগ্ধ শ্রীপুর ভাওয়ালগড় ইউনিয়নের নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে সহযোগিতা চাইলেন রিজভী গিয়াসনগর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ পাশের কাঁচা রাস্তা নির্মাণের দাবি পাঁচবিবিতে জোড় পূর্বক বাড়ী নির্মানের অভিযোগ নরসিংদী পুলিশ লাইন্সে মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত গাজীপুর সদরে চাঁদাবাজির অভিযোগে যুবদল নেতা আটক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ পেছনে ফেলে সেবাবান্ধব ধামসোনা ইউনিয়ন পরিষদ গড়তে কাজ করছেন প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জামালপুরে বাড়িওয়ালার ছেলের আঘাতে ভাড়াটিয়া গৃহবধূ গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জামালপুরে বাড়িওয়ালার ছেলের আঘাতে ভাড়াটিয়া মহিলা গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি। কক্সবাজারে পৃথক অভিযানে অপহৃত শিশু উদ্ধার, মানবপাচার মামলার আসামি আটক

গাছে গাছে কাঁঠালের সমারোহ, মৌসুমী বাহারে মুগ্ধ শ্রীপুর

Reporter Name

মোঃ জনি হাসান, শ্রীপুরঃ
রাস্তার পাশ ও স্কুলের মাঠ, বাড়ির আঙ্গিনা কিংবা গ্রামবাংলার বিস্তীর্ণ জনপদ সব খানেই এখন গাছে গাছে কাঁঠালের সমারোহ। গাছ ভর্তি কাঁঠালের বাহারী সাজ মিষ্টি গন্ধ শুধু চোখ জুড়ায় না, মনটাও ভরে যায়। ছোট বড় নানা রঙের কাঁঠাল গাছে গাছে এতোটাই দৃষ্টি নন্দন মন হয় অপরূপ সাজে সেজেছে এ যেন অপার মহিমা।আবার কোনোটি সবুজ রঙে সেজে প্রকৃতির সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
এই মৌসুমী ফল বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলে পাওয়া গেলেও ইতিহাস বলে গাজীপুর জেলার কাঁঠালের সাধ সবচেয়ে বেশি। উদ্ভিদ বিজ্ঞানীদের মতে, এই জেলার যে অঞ্চলে কাঁঠালের বাগান রয়েছে এবং ফলন অধিক সে সব অঞ্চলের মাটি লালচে ও আঠালো হওয়ার কারণে এই জেলার কাঁঠাল অধিক রসালো এবং সুস্বাদু।
শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত গাজীপুরের শ্রীপুর ও কাপাসিয়া উপজেলায় তুলনামূলক ভাবে কাঁঠালের ফলন অধিক।। বর্তমানে এসব এলাকার হাঠ বাজারে রাত দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যবসায়ীরা এসে পাইকারি দরে কাঁঠাল কিনে সারাদেশে সরবরাহ করছেন।
বহু বছর আগে থেকেই কাঁঠালের জন্য বিখ্যাত গাজীপুর। বিশেষ করে শ্রীপুর ও কাপাসিয়া উপজেলা কাঁঠাল দেশজুড়ে সুনাম কুড়িয়েছে । গ্রীষ্মের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে কাঁঠালের সমারোহে প্রাণ ফিরে পেয়েছে শ্রীপুরের গ্রামীণ প্রকৃতি। চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে মৌসুমি এই ফলের মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য।
মনে হয় যেন প্রকৃতি নিজ হাতে সাজিয়েছে এক অনন্য আয়োজনে। কাঁঠালের ভারে নুয়ে পড়া গাছগুলো জানান দিচ্ছে সমৃদ্ধির বার্তা। গ্রামবাংলার গ্রীষ্ম বরণ উৎসবের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে জাতীয় ফল কাঁঠাল। আর মাত্র এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যেই স্থানীয় বাজারগুলো ভরে উঠবে রসালো ও সুস্বাদু কাঁঠালে। তখন কৃষক, ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের মধ্যে দেখা দেবে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য।
শ্রীপুর উপজেলার ব্র্যান্ডিং স্লোগান হলো সবুজে শ্যামলে শ্রীপুর, মিষ্টি কাঁঠালে ভরপুর। শ্রীপুর উপজেলা পরিষদের ভেতরে শোভা পাচ্ছে, ভাস্কর মিলন রবের তৈরি কাঁঠালের বিশাল ভাস্কর্য। এ ছাড়া ঢাকা বিভাগে কাঁঠালের সবচেয়ে বড় বাজারটিও জমে গাজীপুরের শ্রীপুরে জৈনাবাজারে। প্রায় তিন মাস ধরে চলে কাঁঠালের বেচকেনা।
শ্রীপুরের বেশির ভাগ কাঁঠাল ছোট অবস্থায় বাগান ধরে পাইকারি বিক্রি হয়ে যায়। নির্দিষ্ট দামে কিনে পরে পাইকারেরা সুবিধামতো সময়ে প্রয়োজন অনুযায়ী কাঁঠাল কেটে স্থানীয় জৈনা বাজারে বিক্রি করেন। তবে এসব কাঁঠালের বেশির ভাগ পাইকারদের হাত হয়ে চলে যায় রাজধানী ঢাকা ও সিলেট সহ সারা দেশ বিদেশে।
উপজেলার মাওনা, তেলিহাটি, গাজীপুর, টেংরা, গোসিংগা, রাজাবাড়ী, টেপির বাড়ী, দারগারচালা এলাকা ঘুরে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি গাছে প্রচুর কাঁঠাল ধরেছে। অনেকেই বাড়ির আঙ্গিনায় কাঁঠালের বড় বড় বাগান রয়েছে। তবে সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হচ্ছে- প্রতিটি পরিবারের আঙ্গিনা বা বাড়ির সীমানায় গাছে গাছে কাঁঠাল ঝুলছে। কিছু এলাকায় শহুরে পরিবেশে দোকান পাটের আনাচেকানাচে ধরে আছে বাহারি কাঁঠাল। অন্যান্য ফসলের মতো এই ফল চাষে অতিরিক্ত যত্নের প্রয়োজন হয় না। তাই কাঁঠাল পাকা শুরু না হলে এ নিয়ে ব্যস্ততাও থাকে না।
কাঁঠাল চাষি সবুজ মিয়া বলেন, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কাঁঠালের ফলন অনেক ভালো হয়েছে। আমার বাগানের প্রায় সব গাছেই প্রচুর কাঁঠাল ধরেছে। ফলের আকার ও মানও বেশ ভালো। এখন বাজারে যদি ন্যায্যমূল্য পাওয়া যায়, তাহলে এবছর আমরা কৃষকরা লাভবান হব। কাঁঠালের ভালো ফলন দেখে অনেকেই নতুন করে কাঁঠাল চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।
শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা দৈনিক দুর্নীতি সংহার কে জানান, আগামী এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যেই মৌসুমের সুস্বাদু কাঁঠাল বাজারে উঠতে শুরু করবে। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনের সম্ভাবনাও ভালো। পাশাপাশি কাঁঠালের উৎপাদন বৃদ্ধি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় নতুন করে কাঁঠালগাছ রোপণে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা