নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুর অংশের বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী ও শিক্ষার্থীদের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। দুর্গন্ধ, পরিবেশ দূষণ এবং সৌন্দর্য হানির কারণে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ থাকলেও কার্যকর উদ্যোগের অভাবে সমস্যাটির সমাধান হচ্ছিল না। অবশেষে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উদ্যোগে মহাসড়কের দুই পাশের ময়লার স্তূপ অপসারণ কার্যক্রম শুরু হওয়ায় স্বস্তি ফিরে এসেছে শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মাঝে।
গাজীপুর সদর উপজেলার ভবানীপুর মুক্তিযোদ্ধা কলেজ গেট এবং ঢাকা- ময়মনসিংহ মহাসড়কের আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বাসা বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শিল্পকারখানার বর্জ্য ফেলে রাখা হতো। ফলে এসব স্থান ধীরে ধীরে ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে ময়লার স্তূপ থাকায় প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী দুর্গন্ধ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মধ্য দিয়ে বাধ্যতামূলক যাতায়াত করতে বাধ্য হতো।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গাজীপুর -৩ আসনের সংসদ সদস্য ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চুর দিক নির্দেশনায় এবং ভাওয়ালগড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সালাহ উদ্দিন সরকারের তত্ত্বাবধানে মহাসড়কের দুই পাশের ময়লা অপসারণ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে দীর্ঘদিনের জমে থাকা বর্জ্য সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে।
এ কার্যক্রমের তদারকির দায়িত্বে থাকা ইউপি সদস্য আবিদ হোসেন বাবুল দুর্নীতি সংহার কে বলেন, পরিবেশ রক্ষা, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং মহাসড়কের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। শুধু ময়লা অপসারণ নয়, ভবিষ্যতে এসব স্থানে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করে সবুজ বেষ্টনী গড়ে তুলে পরিবেশ বান্ধব করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, এটি আমাদের নাগরিক দায়িত্বও। ময়লা অপসারণের পরও যদি কেউ এখানে বর্জ্য ফেলে পরিবেশ দূষণ করেন, তাহলে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান।
এদিকে গত ৯ মার্চ স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি মহাসড়কের পাশে কোনো ধরনের ময়লার ডাম্পিং পয়েন্ট না রাখার বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণের পর মহাসড়কের পাশ থেকে ময়লা অপসারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মহাসড়কের পাশে জমে থাকা বর্জ্য শুধু পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর নয়, এটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক গুলোর সৌন্দর্যও নষ্ট করে। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে বিকল্প ডাম্পিং ব্যবস্থা গড়ে তুলে মহাসড়কের দুই পাশ সম্পূর্ণ পরিচ্ছন্ন রাখার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুর অংশে পর্যায়ক্রমে সৌন্দর্য বর্ধন মূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। রাস্তার দুই পাশে মাটি ভরাট, বৃক্ষরোপণ এবং পরিবেশ বান্ধব অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে এলাকাটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
ময়লা অপসারণের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা। ভবানীপুর মুক্তিযোদ্ধা কলেজের শিক্ষার্থী মো. মাহমুদ হাসান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কলেজে আসা-যাওয়ার পথে দুর্গন্ধের কারণে আমাদের অনেক কষ্ট হতো। এখন পরিবেশ অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে। আমরা চাই এই পরিচ্ছন্নতা স্থায়ী হোক।
একই কলেজের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার দুর্নীতি সংহার কে বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে ময়লার স্তূপ থাকা খুবই বিব্রতকর ছিল। এখন পরিষ্কার পরিবেশে কলেজে আসতে ভালো লাগছে। সরকারের এ উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।
মুক্তিযোদ্ধা কলেজের শিক্ষার্থী রাব্বি হোসেন বলেন, মহাসড়কের পাশে ময়লার স্তূপ শুধু পরিবেশ দূষণই করেনি, এটি পুরো এলাকার সৌন্দর্যও নষ্ট ও স্বাস্থ্য হানীর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ছিল। এখন পরিস্থিতির পরিবর্তন দেখে আমরা আনন্দিত।
পরিবেশবিদ মতে, শুধুমাত্র ময়লা অপসারণ করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। এজন্য প্রয়োজন সচেতনতা বৃদ্ধি, নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলার ব্যবস্থা এবং নিয়মিত তদারকি। অন্যথায় কিছুদিন পর আবারও একই পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পরিবেশ সচেতন নাগরিকরা মনে করেন, গাজীপুরের মতো দ্রুত শিল্পায়নশীল এলাকায় আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। সরকারের চলমান উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুর অংশ শুধু পরিচ্ছন্নই হবে না, বরং এটি একটি দৃষ্টিনন্দন ও পরিবেশবান্ধব করিডোরে পরিণত হবে।