সকল সাংবাদিকের আস্থা,
জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা।
মোঃ রফিকুল ইসলামঃ জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা (জেএসএস ) বাংলাদেশের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন। পেশাদার গণমাধ্যম কর্মীদের পেশাগত অধিকার ও নিরাপত্তা সুরক্ষা সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে সারা দেশে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। স্বাধীনতা পরবর্তী যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে বেশ কয়েক বছর সময় লেগেছিল। ওই সময় সংবাদ কর্মীদের সংখ্যা ছিল হাতেগোনা। আর সাংবাদিক সংগঠন বলতে উল্লেখ যোগ্য তেমন কোনো কিছু ছিল না। তাই তৃণমূল পর্যায়ে সংবাদ কর্মীদের নানান হয়রানি বহু অত্যাচার নির্যাতন করা শুরু হয়। ঠিক ওই সময় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার কথা চিন্তা করে হাজারো সাংবাদিকের আইডল সাংবাদিক জগতের দিকপাল মুহম্মদ আলতাফ হোসেন একটি সূদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা সংক্ষেপে জেএসএস।
১৯৮২ সালে ১২ ফ্রেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠিত এ সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয়। সেই থেকে বিরামহীন পথচলা। আজ সারা বাংলাদেশের প্রতিটি বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার শাখা রয়েছে। শুধু তাই নয়, বাংলা দেশের বাইরে বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশীদের নিয়ে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার শাখা রয়েছে।
বাংলাদেশের ইতিহাসে সাংবাদিকদের বহু সংগঠন রয়েছে, কিন্তু জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার মতো এতো বড় এবং শক্তিশালী আর একটিও নেই।
এখানে একটি কথা উল্লেখ করে আমার লেখার পরবর্তী অংশে যাচ্ছি। জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা আমাদের সকলের অভিভাবক মুহম্মদ আলতাফ হোসেন আজ একটি বছর হলো আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন, না ফেরার দেশে। মহান আল্লাহ তাআলা ওনাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন। যাওয়ার আগে তিনি তার জীবনের সবচেয়ে প্রিয় যে জিনিসটি রেখে গেছেন তা হচ্ছে, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা।
আজকে যারা এই সংস্থা হাল ধরেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন, বাংলাদেশের সকল সাংবাদিকের পরিচিত মুখ যিনি মুহম্মদ আলতাফ হোসেনের আর্দশ নিয়ে দিন রাত সাংবাদিকদের কথা ভাবেন এবং সাংবাদিকদের কল্যাণে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের বর্তমান মহাসচিব আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ আলমগীর গনি। এখানে আরও একজনের নাম উল্লেখ না করলেই নয়, তিনি হচ্ছেন মরহুম মুহম্মদ আলতাফ হোসেনের ছোট ছেলে নীতি নির্ধারণ পরিষদের সদস্য মুহম্মদ মনজুর হোসেন। তিনি পিতার জীবদ্দশায় কখনো জেএসএস নিয়ে কাজ করেননি। তবে পিতার সাংবাদিকদের প্রতি যে ভালোবাসা ছিল তা অনুভব করতেন। তাই পিতার প্রিয় সংগঠনটির ধারাবাহিকতা রক্ষা করার জন্য প্রথম শ্রেণীর চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। কর্মজীবনে তিনি ছিলেন একজন ব্যাংকার।
সেই সুখের চাকরি ছেড়ে এখন জাতীয় সাংবাদিক সংস্থাকে কর্মস্থল হিসেবে বেছে নিয়েছেন। তাই লেখার একপর্যায়ে এসে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার সকল সদস্যদের পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ।
যাইহোক, এবার মূল আলোচনায় আসছি…
জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা সাংবাদিকদের দক্ষতা, মান উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ, সেমিনার এবং পেশাগত মান বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এসেছেন এবং আগামীতে তা আরও ত্বরান্বিত হবে বলে আমি মনে করছি।
সংগঠনের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যঃ সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার রক্ষা করা এবং তাদের জন্য একটি নিরাপদ ও সুষ্ঠু কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করা।
মানসম্মত সাংবাদিকতাঃ
পেশাগত মান উন্নয়নের মাধ্যমে দেশে মানসম্মত সাংবাদিকতার প্রসার ঘটানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে জেএসএস।
নতুন সাংবাদিকদের সহায়তাঃ মেধাবী তরুণ-তরুণীদের সাংবাদিকতা পেশায় আকৃষ্ট করা এবং তাদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলা। এবং কাজের পরিবেশ অনুকূলে আছে কিনা তা তদারকি করা হয়।
সংগঠনের কার্যক্রমঃ
সারা দেশের সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ করা। কর্মস্থলে কোন সাংবাদিক হয়রানি বা অপ্রিতিকর পরিস্থিতি শিকার হলে সার্বিক সহযোগিতা করা। নির্যাতিত নিপীড়িত সাংবাদিকদের পাশে থেকে আইনী ও রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা পেতে সহযোগিতা করা।
আহত নিহত মিথ্যা মামলায় হয়রানির শিকার সাংবাদিকদের দাবি আদায়ে তাদের কণ্ঠস্বর হয়ে তা সরকারের কাছে তুলে ধরা।
সংবাদপত্র, টেলিভিশন ও অনলাইন নিউজ পোর্টাল সহ সকল গণমাধ্যমের গবেষণা ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা।
গুরুত্বঃ
জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা বাংলাদেশে সাংবাদিকতার এক প্রাচীন ইতিহাস। সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় একটি শক্তিশালী প্লাটফর্ম। শুরু থেকে আজ পর্যন্ত জেএসএস সাংবাদিকদের কল্যাণে সব সময় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে এসেছে।
পরিসংহারঃ
একটি গণতান্ত্রিক দেশ ও রাষ্ট্রের জন্য গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের গুরুত্ব ও ভূমিকা নিয়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধিদের সাথে নিয়মিত আলোচনা ও বৈঠক করেছে। গণমাধ্যম কর্মীদের দাবি আদায়ে লক্ষ্যে সরকারের কাছে তা তুলে ধরছে। সাংবাদিকদের অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রতিনিয়ত অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসা একটি সংগঠন জেএসএস। পরিশেষে আমি এই সংগঠনের একজন অতি সামান্য সদস্য হিসেবে যুক্ত হতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি। সেই সাথে সংগঠনের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে লেখার ইতি টানছি।
মোঃ রফিকুল ইসলাম
সহকারী মহাসচিব
কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদ
জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা।
মোবাইলঃ ০১৭২৩৩৫৫৯৯৮/০১৭৯৯৬৬১১৮৫
ই-মেইলঃ rafiqgp25@gmail.com