রোকসানা কাজলঃ ১৩ নভেম্বর ২০২৫ ইং আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ডাকা লকডাউনকে কেন্দ্র করে সারা দেশের ন্যায় গাজীপুরেও জনমনে এক ধরনের আতঙ্ক ও উৎকন্ঠা বিরাজমান ছিল। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, রাজধানী ঢাকার মতোই মহা সড়কগুলো ছিল যানবাহন শূন্য। আর সে কারণে সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ছিল অচলাবস্থা।সকালে থেকেই সড়কগুলো প্রায় ফাঁকা দেখা গেছে। গণপরিবহন সীমিত আকারে চললেও উল্লেখযোগ্য যাত্রী ছিল না। আওয়ামী লীগের ঘোষিত আজকের “লকডাউন কর্মসূচি”র কারণে সকাল থেকেই নগরজীবনে স্থবিরতা নেমে আসে।
জেলা ও মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পুলিশ, র্যাব এবং বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। কোথাও যেন কোনো বিশৃঙ্খলা না হয় তার জন্য প্রয়োজনীয় পুলিশ চেকপোস্ট বসিয়েছে।
সহিংসতা ও উত্তেজনাঃ জেলার বেশ কয়েকটি স্থানে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেলেও বড় ধরনের কোন ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু গতরাতে (বুধবার দিবাগত রাত) লকডাউনকে কেন্দ্র করে কয়েকটি স্থানে অগ্নিসংযোগ ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে, গাজীপুরে বিভিন্ন স্থানে একদিকে আওয়ামী লীগের সোডাউন, অন্যদিকে বিভিন্ন স্থানে বিএনপির অবস্থান সব মিলিয়ে শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে গাজীপুরবাসী পার করেছেন ১৩ নভেম্বর।
শিক্ষা ও কর্মজীবীদের দুর্ভোগঃ লকডাউনের কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অধিকাংশই বন্ধ রাখা হয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা নির্ধারিত ছিল, সেগুলো স্থগিত করা হয়েছে।
অফিসপাড়ায় উপস্থিতি ছিল অনেক কম। তবে অনেক প্রতিষ্ঠান অনলাইনে কার্যক্রম চালিয়েছেন। কর্মজীবী মানুষের মধ্যে যাতায়াতের ভোগান্তি ও জীবনের অনিশ্চয়তা ছিল লক্ষ্যণীয়।
সাধারণ মানুষ মতে রাজনৈতিক এমন কর্মসূচির প্রভাবে তাদের দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হয়েছে। এমনকি বাজারে নিত্য পণ্যের দাম কিছুটা বেড়েছে এবং পরিবহন সংকটে নিত্যপণ্যের সরবরাহেও সমস্যা দেখা দিয়েছে।
আওয়ামীলীগ সভাপতি, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশবাসীকে শান্তিপূর্ণ ভাবে কর্মসূচি পালনের নির্দেশ দিয়েছেন বলে আন্দোলনরত অনেক নেতা কর্মী জানিয়েছেন।
আজকের লকডাউন সারাদেশে রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনে ভোগান্তি বেড়েছে। তবে এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত বড় কোনো অঘটনের খবর পাওয়া যায়নি।
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় ছিল বলে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।
সব শেষ লকডাউন সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে প্রশ্ন করা হলে তারা জানান, বর্তমানে দেশের বিরাজমান রাজনৈতিক সংকটে একদিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে অন্যদিকে রাজনৈতিক এমন পরিস্থিতির নিরসন ও স্বাভাবিক এবং স্থিতিশীলতার জন্য অপেক্ষায় প্রহর গুনছে দেশের প্রতিটি মানুষ। সাধারণ মানুষ এখন সকল রাজনৈতিক দলকে শান্তিপূর্ণ সমাধানের মাধ্যমে দেশকে বাসযোগ্য করার আহ্বান জানান।
https://shorturl.fm/B5Cem