শেখ কামরুল হাসান সাহাঃ টঙ্গীতে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল সিদ্দিকুর রহমান (৫৭) নামে বিদ্যুৎ সরঞ্জাম তৈরির কারখানার এক কর্মকর্তার।
৬ ডিসেম্বর ২০২৫ ইং সকাল সাড়ে ৭ টার দিকে টঙ্গী পূর্ব থানাধীন মধুমিতা রোডের মাথায় এই ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, নিহত সিদ্দিকুর রহমান বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ থানার গাজীপুর গ্রামের মৃত ইসমাইল ফকিরের ছেলে।
তিনি গাজীপুর মহানগরীর মধুমিতা রোড আপন নীড় আবাসিক এলাকায় বসবাস করে ঢাকা কেরানীগঞ্জ এলাকায় বিদ্যুৎ সরঞ্জাম তৈরির কারখানায় চাকরি করতেন বলে জানা যায়।
নিহতের ছেলে নাহিদ হাসান জানান, শনিবার সকালে অফিসের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হন তার বাবা সিদ্দিকুর রহমান। এসময় টঙ্গী পূর্ব থানাধীন ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের মধুমিতা রোডের মাথায় পৌঁছালে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা ছিনতাইকারীরা তার পথরোধ করে মূল্যবান মালামাল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে তিনি বাধা দেন। তখন ছিনতাইকারীদের এলোপাথাড়ি ছুরিকাঘাতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।
খবর পেয়ে টঙ্গী পূর্ব থানার উপ পরিদর্শক মেহেদী হাসান ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন।
এ বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মোহাম্মদ আতিকুর রহমান জানান, নিহতের মরদেহ পুলিশ হেফাজতে নিয়ে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন।
এদিকে কিছুদিন পরপর টঙ্গীর একই স্থানে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে একাধিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জন মনে দেখা দিয়েছে চরম উৎকণ্ঠা।
স্থানীয় মানবাধিকার কর্মী আসলাম মোড়ল জানান, টঙ্গীতে ঘটছে একের এক ছিনতাইয়ের ঘটনা। ছিনতাইকারীরা এতই বেপরোয়া যে দিন এবং রাতে যেকোনো সময় ছিনতাই করে যাচ্ছে। টঙ্গীর বাটা গেট, মধুমিতা, টঙ্গী বাজার এলাকায় গত দুই মাসে ছিনতাইকারীদের হামলায় প্রায় তিনজনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
টঙ্গীর মানুষ ছিনতাইকারীদের কবল থেকে দ্রুত মুক্তি চায় বলে দাবি করেন এই মানবাধিকার কর্মী।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার ও উধ্বর্তন কতৃপক্ষের আশু দৃষ্টি আকর্ষণ করে টঙ্গী বাসীর একটাই দাবি ছিনতাই সহ অপরাধ দমনে জনবহুল টঙ্গী পুর্ব ও পশ্চিম থানার জনবল বৃদ্ধির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।