নিজস্ব প্রতিনিধিঃ মাল্টিলেভেল মার্কেটিংয়ের (এমএলএম), নেটওয়ার্ক মার্কেটিং অথবা ডিজিটাল মার্কেটিং নামে ভুঁইফোঁড় কোম্পানিতে বিনিয়োগ করে ঠকছেন দেশের লাখ লাখ মানুষ। সম্প্রতি তেমনি একটি চিট ফান্ড কোম্পানির সন্ধান পাওয়া যায়।
সর্ব প্রথম “নর্থ বেঙ্গল ইনোভেশন লিমিটেড” নামের যাত্রা শুরু করে এই কোম্পানি। শুরুতে দিনাজপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম নীলফামারী ও পঞ্চগড় সহ উত্তরবঙ্গের নিরীহ মানুষকে ধোঁকা দিয়ে, বোকা বানিয়ে রাতারাতি কোটিপতি বনে যাওয়া প্রতারকের নাম মোঃ সিরাজুল ইসলাম। প্রতারণার ঘটনাটি ১২ জুলাই ২০২৩ ইং তারিখে এসে ফাঁস হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নর্থ বেঙ্গল ইনোভেশন লিমিটেড সত্বাধিকারী মোঃ সিরাজুল ইসলাম নীলফামারী জেলার ডোমার থানাধীন মীর্জাগঞ্জ ঝাড় পাড়া গ্রামের মোঃ শহিদুল ইসলামের ছেলে।
নর্থ বেঙ্গল ইনোভেশন লিমিটেড নামে প্রতারণা করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করায় নীলফামারী চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে-১ এ পিটিশন মোকাদ্দমা নং-৪৩৮/২৩ স্মারক নং-২০৭/২৪ ইং দায়ের করা হয়।
উক্ত মামলার রায়ে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সিরাজুল ইসলামের নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়।
সেই থেকে পলাতক সিরাজুল ইসলাম ২০২৫ ইং সালে এসে অভিনব কায়দায় শুধু ” নীল ইনোভেশন লিঃ” নামে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এবার তার মিশন আঞ্চলিক নয়, জাতীয়।
এবার সে পুরো দেশকে র্টাগেট করে অনলাইনে ডিজিটাল মার্কেটিং পদ্ধতি ব্যবহার করে সু কৌশলে শুরু করেছে পঞ্জি পিরামিড পদ্ধতিতে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া। যা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংবিধান অনুযায়ী সম্পুর্ন নিষিদ্ধ।
শুধু তাই নয়, এই নীল ইনোভেশন লিঃ নামে বাংলাদেশের কোথাও কোন রেজিস্ট্রেশন পাওয়া যায়নি। এমনকি অনলাইনে নীল ইনোভেশন এর যেসমস্ত আইডি আছে, সেখানে কোথাও কোন যোগাযোগের ঠিকানা বা কন্টাক্ট নম্বর পাওয়া যায়নি। এমনকি রেজিস্ট্রেশন ছাড়া নীল ইনোভেশন এর ওয়েব সাইটে প্রবেশ করা সম্ভব নয়।
১ হাজার ৫০০ টাকা দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করার পর নীল ইনোভেশন এর ওয়েব সাইটে প্রবেশ করা সম্ভব। কিন্তু সাধারণ মানুষইচ্ছে করলেই রেজিস্ট্রেশন করতে পারবে না। সে জন্য নীল ইনোভেশন এর এজেন্ট বা ডিলারদের স্বরনাপন্ন হতে হবে।
আর এই অস্বাভাবিক কারণটির জন্যই পঞ্জি পিরামিড পদ্ধতিতে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া বিষয়ে প্রশ্ন জাগে।
কে এই সিরাজুল ইসলাম ? কিভাবে সে বছরের পর বছর ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে লাখ লাখ মানুষের সাথে প্রতারণা করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। তার যোগাযোগের নেটওয়ার্ক ফেসবুক আইডির বিষয়ে দেশের প্রশাসনের সাইবার ক্রাইম বিভাগ কি ইচ্ছে করলে পদক্ষেপ নিতে পারে না ? তাহলে কেন এই প্রতারকের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না প্রশাসন।
অনলাইনে মাধ্যমে নেটওয়ার্ক তৈরি করে টাকা রোজগারের প্রলোভন দেখিয়ে সাইবার ক্রাইমের মাধ্যমে সম্প্রতি গাজীপুর জেলা শ্রীপুর উপজেলার বাঘের বাজার, ভবানীপুর মেম্বার বাড়ি এলাকার হাজার হাজার মানুষ ইতিমধ্যে সিরাজুল ইসলামের সাইবার ক্রাইমের শিকার হয়েছেন।
অনুসন্ধানে খোঁজ পাওয়া যায়, বাঘের বাজার এলাকার জলপাইতলী এলাকায় সিরাজুল ইসলামের এক মার্কেটিং অফিসারের নাম মোঃ রহিজুল ইসলাম।
এ প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় রহিজুল ইসলামের। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মোঃ মামুন নামে আরেকজনের সন্ধান পাওয়া গেছে ভবানীপুর বাজারে। মামুন হচ্ছে নীল ইনোভেশন লিমিটেডের ব্যান্ড প্রমোটার। এই দুই জনের সাথে কথা বলে আরো চাঞ্চল্যকর বহু তথ্য পাওয়া গেছে। যা আগামী পর্বে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে।
প্রাথমিক তদন্তে শেষে এসব প্রতারকদের বিষয়ে সচেতন মহলের কাছে জানতে চাইলে বাঘের বাজার এলাকার স্কুল শিক্ষক মোঃ আব্দুল জব্বার বলেন, যেহেতু প্রতারণা জন্য তারা সোস্যায়াল মিডিয়া হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে, সেক্ষেত্রে প্রশাসন ইচ্ছে করলে ২৪ ঘন্টায় দোষী ব্যক্তিকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে পারে।
বিশেষ করে নীল ইনোভেশন লিঃ এর মালিক মোঃ সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত এবং আদালতের রায় অনুযায়ী সে দোষী এই তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। অতএব পুলিশের সাইবার ক্রাইম ডিপার্টমেন্ট এর বেশি সময় লাগার কথা নয়, সোস্যাল আইডির মাধ্যমে খোঁজে পাওয়া।
নীল ইনোভেশন লিঃ প্রলোভনে ছোট্ট একটি উদাহরণ নীচে দেওয়া হলো –
অফিসিয়াল ঘোষণাঃ
সম্মানিত ডিস্ট্রিবিউটর, লিডার ও আগ্রহী সকলের জন্য আকর্ষণীয় সুবিধা ও নির্ভরযোগ্য রিটার্ন।
প্যাকেজ সুবিধাসমূহঃ
👉 নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী ৩৬৫ দিনের মধ্যে সরাসরি উইথড্র সুবিধা।
👉 বিকল্প ভাবে পণ্য কোম্পানির কাছে বিক্রয় করলে ডাবল রিটার্ন সুবিধা (ক্যাশ ব্যাক প্রযোজ্য হবে না)।
প্যাকেজ বিবরণঃ
(১) ১০,০০০ টাকা প্যাকেজ ২৫ পিভি |ক্যাশ ব্যাক ১০,০০০ টাকা। ৩৬৫ দিনে সরাসরি উইথড্র: ৫০০০ টাকা অথবা পণ্য বিক্রয়ে রিটার্ন: ২০,০০০ টাকা।
(২) ২০,০০০ টাকা প্যাকেজ। ৫০ পিভি | ক্যাশ ব্যাক ২০,০০০ টাকা। ৩৬৫ দিনে সরাসরি উইথড্র: ১০,০০০ টাকা। অথবা পণ্য বিক্রয়ে রিটার্ন: ৪০,০০০ টাকা। ক্যাশ ব্যাক প্রযোজ্য নয়।
(৩) ৫০,০০০ টাকা প্যাকেজ ১০০ পিভি | ক্যাশ ব্যাক ৫০,০০০ টাকা। ৩৬৫ দিনে সরাসরি উইথড্র: ২৫০০০ টাকা। অথবা পণ্য বিক্রয়ে রিটার্ন: ১০০,০০০ টাকা। ক্যাশ ব্যাক প্রযোজ্য নয়।
(৪) ১,০০০০০ টাকা প্যাকেজ ২০০ পিভি | ক্যাশ ব্যাক ১,০০,০০০ টাকা।৩৬৫ দিনে সরাসরি উইথড্র: ৫০০০০ টাকা। অথবা পণ্য বিক্রয়ে রিটার্ন: ২০০০০০ টাকা ৩৬৫ দিনে। ক্যাশ ব্যাক প্রযোজ্য নয়।