বিশেষ প্রতিনিধিঃ ২০০২ সালে ডেসটিনি-২০০০ নামক এমএলএম কোম্পানি প্রতারণার মাধ্যমে দেশব্যাপী সাধারণ মানুষের কাছ থেকে চার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করে।
২০১০ সালে ডেসটিনি নিষিদ্ধ করা হলেও ডেসটিনি থেকে প্রতারণার যে বিদ্যা শিক্ষা দেওয়া হয়েছে, সেই সকল শিক্ষার্থীদের তো নিষিদ্ধ করা হয়নি। তাই পরবর্তীতে ভিন্ন নামে ও ভিন্ন কর্ম কৌশলে অসংখ্য এমএলএম কোম্পানি দেশে প্রথমে লোকচক্ষুর আড়ালে গড়ে ওঠে ও কার্যক্রম পরিচালনা এবং ধীরে ধীরে এখন অনেকটা প্রকাশ্যেই হচ্ছে।
বাংলাদেশে সকল এমএলএম কোম্পানি গুলোর অধিকাংশই ব্যবসার ধরন ‘এমএলএম পদ্ধতিতে হলেও তা না বলে তাদের ব্যাবসাকে নাম পরিবর্তন করে‘নেটওয়ার্ক মার্কেটিং’ ডিজিটাল মার্কেটিং, অফলাইন মার্কেটিং, আরও ভিন্ন ভিন্ন নামে আখ্যায়িত করে সরল মানুষদের বিভ্রান্ত করে। [৫৭] ২০১৫ সালে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশে দেশী-বিদেশী সকল প্রকার এমএলএম বাণিজ্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। [৫৮] ২০১৭-১৮ বছরে ১২ কোম্পানি অফিস বন্ধ করে হাজার কোটি টাকা নিয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়। সেগুলো হচ্ছে- নোভরা প্রোডাক্টস লিমিটেড, তিয়ানশি বাংলাদেশ লিমিটেড, কে লিংক ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ লিমিটেড, সামি ডিরেক্ট কোম্পানি লিমিটেড, ডিএক্সএন ফার্মাসিউটিক্যালস, আপনজন, ইউটুইউ, রিচ, মিঙ্গেল লিমিটেড ও গ্রেট ইন্টারন্যাশনাল। এরপরও নতুন নতুন কোম্পানি ছাতার মতো গজিয়ে ওঠে। রাজধানীতেই শতাধিক প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন কৌশলে এমএলএম ব্যবসা করে। ব্যবসা করতে এরা কৌশলে ট্রেড লাইসেন্স, বিএসটিআইর সার্টিফিকেট নেয়। ২০১৯ এর ২৮ সেপ্টেম্বর জনকন্ঠ পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, “এমএলএম কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ অনেক। এরা নানাভাবে মানুষকে প্রতারণা করে। এজন্য এখন এগুলো বন্ধ আছে, কাউকে লাইসেন্স দেয়া হচ্ছে না। এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছে –
তাহলে নিউ লাইফ, এসইকিউ, জিনন্দা কেরে তুই, ব্র্যান্ড সোল ডিজিটাল মার্কেটিং, আমি জানিনা ভাইয়ে জানে ও টাস্ক বিডি অনলাইন ট্রেডসহ ইত্যাদি ইত্যাদি মাল্টিলেভেল মার্কেটিংয়ের (এমএলএম) মতো প্রকাশ্যে প্রচার প্রচারণা, সভা- সেমিনার করছে। বড় বড় কনভেনশন হল ভাড়া করে হাইফাই স্যুট-বুট পড়িহিত সাহেবরা সেমিনারে উপস্থিত প্রতিটি মানুষকে ৩০ মিনিটে কোম্পানি নির্ধারিত ভর্তি সিস্টেম শুরু করার পর পর ম্যাজিক আর ম্যাজিক রাতারাতি অভাব অনটন পরিবারের দূরে থাক পাড়া মহল্লায়ও থাকবে না, তার পরের ম্যাজিক বাড়ি গাড়ি সহ সকল সুবিধা যা একটা সময় ঘুমের মধ্যে দেখলেই ভালো লাগতো। সব কিছু দিয়ে বিনিময়ে সে নিচ্ছে শুধু নির্ধারিত ভর্তি ফি। স্বপ্ন দেখতে দেখতে পরিবারের পর আত্মীয় স্বজন প্রতিবেশিসহ মোটামুটি সর্বস্ব বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ করা সীমা অতিক্রম করার পর বুঝতে পারে যোগ ফল শূন্য (০)।নীল ইনোভেশন লিমিটেড তেমনি একটি কোম্পানি যার গ্রাহক তথা সরকারের কাছে কোন প্রকার জবাবদিহিতা আছে বলে মনেই করে না। মোবাইল ফোন, টেলিগ্রাফ, হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে সকল কর্ম সম্পাদন করে থাকে। নিন্ম মানের কিছু পোষ্ট পাওয়া গেছে সোস্যাল মিডিয়ায়। এছাড়া স্বশরীরে কারও সঙ্গে দেখা দেন না প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার প্রতারক মোঃ সিরাজুল ইসলাম।
মাঠ পর্যায়ে প্রশাসনের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা যেভাবে কাজ করছেন। বিশেষ করে সাইবার ক্রাইম নিয়ে যে সকল গ্রুপ কাজ করছেন এই জাতীয় বিষয় গুলো জন্য অবশ্যই নির্দিষ্ট একটি পর্যবেক্ষক দল গঠন করা এবং প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করা সময়ে দাবি।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে এই এমএলএম কোম্পানি দ্বারা প্রতারণা করে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে মামালায় সাজা প্রাপ্ত গ্রেফতারী পরোয়ানাভুক্ত একজন আসামি আবারো সেই একই কায়দায় ভূয়া কোম্পানি তৈরি করে প্রতারণার জাল বিছিয়ে বছরের পর বছর ধরে অবৈধ ভাবে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। প্রশাসন এর দায় কোনোভাবেই এড়াতে পারেন বলে মনে হয় না।