July 29, 2026, 7:38 pm
শিরোনাম :
দিনাজপূর (৪২ বিজিবি) ঠাকূরগাঁওয়ে পীরগঞ্জ সীমান্তে মদ আটক। টঙ্গী চেরাগ আলীতে প্রস্তাবিত ময়লার ডাম্পিং স্থানান্তরের দাবিতে ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রিন সোসাইটির মানববন্ধন মানবতার অনন্য দৃষ্টান্ত ইউএনও উম্মে হাবিবা ফারজানা ধর্ষণ ও জমি দখলের দাগি আসামিদের হাতে কাপাসিয়ায় গৃহবধূ লাঞ্ছিত, জমি দখলের চেষ্টা বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে স্বামী বাইরে যাওয়ার সুযোগে নারীকে ধর্ষণ গাজীপুরে দুই সন্তানের জননীকে ধর্ষণচেষ্টা ও লুটপাটের অভিযোগ যুবকের বিরুদ্ধে পীরগঞ্জে বিভিন্ন জলাশয় থেকে চায়না দুয়ারী ও কারেন্ট জাল জব্দ টঙ্গী বন্ধু সমাজ কল্যাণ সংস্থার উদ্যোগে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত টঙ্গীর আলোচিত মাদক সম্রাজ্ঞী কারিমাকে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ গ্রেফতার নরসিংদীর শিবপুরে মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় কলা বাগান কেটে ফেলাসহ হত্যার হুমকি

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের সরকারি রেশন কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ, ডিআইজি প্রিজন, জেল সুপার, জেলার সকলের নিরবতা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠেছে

Reporter Name

বিশেষ প্রতিবেদনঃ গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে সরকারি বরাদ্দকৃত রেশন সামগ্রী কালো বাজারে বিক্রির অভিযোগে পাওয়া গেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, কারাগারের প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনা খাতে ব্যবহারের জন্য বরাদ্দকৃত খাদ্যসামগ্রী নির্ধারিত ব্যক্তিদের ভোগে ব্যবহার না করে বাইরে খোলা বাজারে পাচার করা হচ্ছে। আর এ পাচার কাজের মূল্য হোতা হিসেবে উঠে এসেছে কারারক্ষী রোকন (বিপি-১২৮৩৭)।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কারারক্ষী রোকন দীর্ঘদিন ধরে একই কারাগারে থাকা কারণে এক বিশাল সিন্ডিকেট তৈরি করেছেন।
ইতিমধ্যে একাধিক বার বদলি হলেও অবৈধ লেনদেনে আবারও কাশিমপুরে থেকে গেছেন রোকন।
সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা গেছে নিজের স্ত্রীর নামে কারাগারের প্রধান ফটকের বাইরে দিয়েছেন রেশন পণ্যের পাইকারি ও খুচরা দোকান। এই দোকান হচ্ছে সারা দেশ থেকে অবৈধ ভাবে বের করা রেশন পণ্য মোড়ক/প্যাকেট পরিবর্তন করে পাইকারি ও খুচরা হিসেবে বিক্রি মূল কেন্দ্রবিন্দু। সাধারণ কারারক্ষী হয়ে কিভাবে প্রায় ১৮ বছর ধরে ঘুরে ফিরে একই স্টেশনে চাকরি করে যাচ্ছে।
কারাগারের বন্দি ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সরকারি নিয়ম অনুযায়ী যে চাল, ডাল, তেলসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ করা হয়, তার একটি বড় অংশ কাগজে-কলমে ব্যবহৃত ও উত্তোলন দেখানো হলেও বাস্তবে তা কারাগারের ভেতরের বন্দী বা কারারক্ষীদের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। এসব রেশন রোকন সিন্ডিকেটে মাধ্যম খোলা বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, রেশন গ্রহণ, মজুত ও বিতরণ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের যোগসাজশে কারারক্ষী রোকন এই অনিয়ম করে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে। সরকারি হিসাবপত্রে পূর্ণমাত্রায় রেশন উত্তোলন দেখানো হলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন বলে দাবি অভিযোগকারীদের।
স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নির্দিষ্ট সময় পরপর অস্বাভাবিকভাবে কারারক্ষী রোকন ট্রাক ভরে ভরে কারাগারের ভিতর থেকে রেশন পণ্য বাইরে এনে তা কারাগারের সামনে থাকা নিজের দোকান থেকে বস্তা/প্যাকেট পরিবর্তন করে সরাসরি এবং পাইকারি ভাবে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছে।
কারা প্রশাসন সংক্রান্ত বিধি অনুযায়ী, সরকারি রেশন আত্মসাৎ, পাচার বা কালোবাজারে বিক্রি করা গুরুতর অপরাধ। এ ধরনের অপরাধ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা, চাকরিচ্যুতি এবং ফৌজদারি মামলার বিধান রয়েছে।
এ বিষয়ে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের মহিলা জেলের জেল সুপার কাওয়ালিন নাহারের সাথে ২ দিনে একাধিক বার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সাড়া মেলেনি। পরে ঢাকা বিভাগীয় ডিআইজি (প্রিজন) টিপু সুলতানের সাথে এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলেও তার বক্তব্যও পাওয়া যায় নি।
কর্তৃপক্ষের এমন উদাসীনতায় এই কালোবাজারি সিন্ডিকেটের গোড়া কোথায় এবং তা কত বড় সে বিষয়ে যথেষ্ট প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।
বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯ অনুযায়ী—কোনো সরকারি কর্মচারী সরকারের পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবসা, বাণিজ্য, কোম্পানি বা লাভজনক কাজে যুক্ত হতে পারবেন না বলা হলেও কারারক্ষী রোকন স্ত্রীর নামে ট্রেড লাইসেন্স করিয়ে নিজেই রেশন পণ্যের এ ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। পাশাপাশি বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই কারাগার থেকে রেশন পণ্য বাইরে বিক্রি করাও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হলেও অদৃশ্য ক্ষমতায় রোকন এই কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বহুদিন থেকেই।
সর্বোপরি ডিআইজি প্রিজন টিপু সুলতান, জেল সুপার কাওয়ালিন নাহার সহ সংশ্লিষ্টদের নিরবতাই এখন পুরোপুরি বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে, তবে কি এদের ইশারায় এসব করছে কারারক্ষী রোকন।
এ বিষয়ে সচেতন মহল মনে করছেন, নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত ছাড়া এই অনিয়মের প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে না। সরকারি সম্পদের সুরক্ষা ও তারা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা