মোঃ রফিকুল ইসলামঃ
“সামবাদিক” নাকি “সাংবাদিক” এই উচ্চারণ করতে গিয়ে উষ্টা খেয়ে পড়ে যাওয়া …আলী গং রা আসলে কারা ?দেখতে হুবহু মানুষেরই মতো। স্মার্টনেস সে তো এক্কেবারে ত্রিপল ভদ্রলোক। এক কথায় আজব প্রাণী । এই সামবাদিক উচ্চারণকারী পরিচয় দেওয়া (….আলী গং) রা আসলে কারা!। আর কিছু না থাকুক, উটকো কিছু ভাব বা আত্মবিভ্রম ঠিকই আছে তাদের। গলায় বা মাজাতে ঝুলানো থাকে পরিচয় পত্র, ইদানিং তার সাথে যুক্ত হয়েছে বোম বা ডিজিটাল ডান্ডা (মাইক্রোফোন)।
এই আলী গং দেরকে কেউ যদি প্রশ্ন করে (NEWS) বা সংবাদ বলতে আমরা কি বুঝি ? তাহলে স্মাটলি উত্তর দিবে, সেটা আপনাকে বলতে হবে নাকি। যদি প্রশ্ন করেন, আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা কতটুকু তখন যে উত্তর দিবে শোনে আপনার মনে হবে, এই মুহূর্তে পায়ের নীচে মাটি যদি দুই ভাগ হতো তাহলে একলাফে গাছে উঠে বসে থাকতাম। এর কারণ হলো তাদের পরবর্তী কথাগুলো নীচের তিন টি লাইন মনোযোগ দিয়ে পড়ুন এবং গভীর ভাবে লক্ষ্য করুন –
” শিক্ষাগত যোগ্যতা দিয়ে কি হবে ১ হাজার টাকা দিয়ে কার্ড নিয়েছি, মাসে ৫ শ টাকা অফিস খরচ দেই, ভালো নিউজ (মানে ধান্দার নিউজ) হলে মোবাইলে রিচার্জ দেই। আর কি লাগে ?

অনেক সময় দেখা যায়, নিজেদের বুদ্ধির যথেষ্ট অভাব রয়েছে, অথচ অন্যদেরই তারা ‘বুদ্ধি হীন’ মনে করে। কখনো কখনো স্মার্টনেস দেখাতে গিয়ে ওভারস্মার্টনেস দেখিয়ে ফেলেন, যা আক্ষরিক অর্থে বলদামোর উদাহরণ। কিন্তু এরপরও তারা সেটা বুঝতে নারাজ। চলাফেরায় বরাবরই একটা উটকো ভাব থাকে,( ঐ যে একটা প্রবাদ আছে(…) দিয়ে পাহাড় ঠেলে। নিজেদের মনে করেন’ বিশাল স্মার্ট! ‘সমাজের ঠিকাদার, বুদ্ধিজীবি এবং মুই কি হনুরে স্টাইলে।
অনুসন্ধানের জানা যায়, বহু চাঞ্চল্যকর তথ্য যা শোনে যে কোন সচেতন মানুষ বাকরুদ্ধ হয়ে যাবে। এই তথাকথিত আবর্জনার স্তূপে এমন ভয়ঙ্কর মানুষরূপী অমানুষের সন্ধান পাওয়া গেছে, যে কখনো ডাক্তার, কখনো আবাসিক হোটেলের ম্যানেজার, সাংবাদিক সহ সম্প্রতি বিএনপি সরকার গঠনের পর নিজেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের লোক হিসেবে দাবি করছে। এমন আজাইরা ভাব অবশ্য নিয়মিত প্রকাশিত পিন্ট মিডিয়া ও টেলাভিশন চ্যানেলের সাংবাদিকদের মাঝে ততটা লক্ষণীয় নয়। মূলতঃ আন্ডারগ্রাউন্ড কিছু পত্রিকা রয়েছে যা কালেভদ্রে এক দুই সংখ্যা প্রকাশিত হয় সেগুলোর পরিচয়পত্র ব্যবহার করা কিছু লোক এবং বেশ কিছু অনলাইন নিউজ পোর্টাল (সব নয়), সেই সাথে সোসিয়াল মিডিয়া (ফেসবুক সামবাদিক) ব্যবহারকারীদের মধ্যে বেশি পরিমাণে দেখা যায়। দু’ লাইন লিখতে দিন মুরোদ নেই, আমি গ্যারান্টি দিচ্ছি। ঐ যে সামবাদিক ক্যাটাগরির উচ্চারণ করে ভয়েস টাইপ সিস্টেম ব্যবহার করবে। ভুল সুন্ধ বিচার করার ক্ষমতা তো নেই-ই, এমনকি এই জনমে হবেও না। কিন্তু তাদের ভাবভঙ্গি দেখে যে কোন ভদ্র লোক অস্বস্তিতে পড়ে যান। অনেক সময় আত্মসম্মান রক্ষা করতে তাদের অন্যায় আবদার মেনে নেয় কেউ কেউ। আর এই মেনে নেওয়ার কারণে তারা (…আলী গং রা) সত্যিকার অর্থে নিজেকে সামবাদিক ভাবতে শুরু করে।
আমি প্রকৃত গণমাধ্যম কর্মীদের প্রতি দুঃখ প্রকাশ করে বলছি- আমার লেখাটাকে ন্যাতিবাচক ভাবে দেখবেন না। আমার লেখাটি বর্তমানে আমাদের গণমাধ্যম কর্মীদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্যই লেখা।
এখানে একটি কথা উল্লেখ না করলেই নয়, সম্প্রতি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের একজন প্রথম শ্রেণীর কর্মচারী সহকারী কমিশনার (ভূমি) এক গণমাধ্যম কর্মীকে প্রশ্ন করেছেন, আপনি কোন প্রেসক্লাবের সদস্য? অবাক করা প্রশ্ন! কি বলেন ?
একজন বিসিএস ক্যাডার যদি গণমাধ্যম কর্মীকে এমন প্রশ্ন করেন, তার কি উত্তর দিবে উত্তর দাতা হত বিহ্বল হয়ে ছোট্ট করে শুধু বললেন। প্রেসক্লাবের সদস্য হলে সাংবাদিক নয় তো না এমন ধারণা নিয়ে এই অতি গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারে বসে দায়িত্ব পালন করছেন! ভালো। সাংবাদিকতা করতে হলে কোন ক্লাবের প্রয়োজন হয় না, প্রয়োজন সংবাদ প্রকাশের জন্য পত্রিকা বা চ্যানেল।
আমি সব সাংবাদিক নিয়ে মন্তব্য করার যোগ্যতা রাখি না, তবে বাস্তবতা হচ্ছে এখন বেশিরভাগ সাংবাদিক বলতে গেলে সামবাদিক উচ্চারণের সাথে সংশ্লিষ্ট!
ভাব দেখাইতে কেউ কেউ আবার সাংবাদিকতার সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে ‘খ্যাপের কাম’ (অনৈতিক কাজ) করে। যা প্রায়শই দেখা যাচ্ছে, বা শোনতে পাচ্ছি। হানি ট্যাব, ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য বিক্রি, টু নাইনটি (দণ্ডবিধির ২৯০ ধারার অপরাধ) ব্যবসা, অথবা থানা পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করাসহ বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপের সাথে সম্পৃক্তদের ৯৫ শতাংশই হচ্ছে সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে নিজের সুবিধা ভোগ করা ব্যাক্তি। এতে করে সাধারণ মানুষের কাছে মহান এই পেশাটি ক্রমান্বয়ে শ্রী হীন হয়ে পড়েছে এবং পবিত্রতা রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
অবৈধ পথে উপার্জিত টাকা পেয়ে কেউ কেউ আবার একখানা বাইক (মোটরসাইকেল) কিনে তার সামনে পিছনে চমৎকার ভাবে PRESS লিখে হাঁকিয়ে বেড়াচ্ছে এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে। যারা এসব করছে, তাদের ভাব তো মাশআল্লাহ সেরের উপর সোয়া সের!
যারা প্রকৃত গণমাধ্যম কর্মী তাঁরা অবশ্যই জানাবেন, প্রেস Press বলতে কি বুঝায়?
তার পরেও ঐসব সোয়া সের ওভারস্মাট প্রেস প্রয়োগকারীদের উদ্দেশ্য করে বলছি…
প্রেস” বলতে বোঝায় বল প্রয়োগ করা, মুদ্রণ/আকৃতি দেওয়ার প্রক্রিয়া বা সংবাদ মাধ্যমে। ব্যবহারের মধ্যে সক্রিয় বোতাম, লোহার পোশাক বা প্রকাশনা সামগ্রী অন্তর্ভুক্ত। সমার্থক শব্দের মধ্যে রয়েছে পুশ, স্কুইজ, স্কোয়াশ এবং কম্প্রেস। এটি যৌথ মিডিয়া (সংবাদপত্র, সাংবাদিক) বা একটি মুদ্রণ যন্ত্রেরও বর্ণনা করে।
মিডিয়া/প্রকাশনার জন্য: ফোর্থ এস্টেট, (চতুর্থ স্তম্ভ) সাংবাদিক, সংবাদপত্র, মিডিয়া, প্রিন্ট মিডিয়া, প্রকাশনা সংস্থা।
কেমব্রিজ অভিধান+৩ অনুযায়ী PRESS (প্রেস) এর মূল সংজ্ঞাঃ ক্রিয়া: স্থির ওজন, বল বা চাপ প্রয়োগ করা; আলিঙ্গন করা বা ঘনিষ্ঠভাবে আলিঙ্গন করা। বিশেষ্য: মুদ্রণ, গঠন বা সংকুচিত করার জন্য একটি মেশিন; সম্মিলিতভাবে সংবাদ মাধ্যম; একটি ব্যবসা যা বই প্রকাশ করে।
এখানে লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে The Press এর অর্থ কে “দ্য প্রেস”: বিশেষভাবে সাংবাদিক, সংবাদ আউটলেট এবং মিডিয়া প্ল্যাটফর্মকে বোঝানো হয়েছে।
সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে এই সামবাদিক উচ্চারণকারী….আলী গং দের কোন মাসিক বেতন ভাতা তো দূরের কথা নূন্যতম সম্মানি টুকু দেয় না, ব্যবহৃত পরিচয় পত্র সংশ্লিষ্ট অফিস। কিন্তু এতে করে ‘সামবাদিক আলী গং’দের ভাব কমে তো না, উপরন্তু মনে হয় দায়ে ধার নেই, কিন্তু আছাড় ছন ছন (বাঁশের চেয়ে কঞ্চি বড়)। তারা ভাবেন, এবং নিশ্চিত জানেন, বেতন ভাতা এসব “টাকার দরকার কী…আমি তো হালায় সামবাদিক!”
এমন এক সামবাদিকের সম্পর্কে জানতে গিয়ে আমার তো আক্কেল গুড়ুম। ঐ ভ দ র লোক। প্রথম দিন সে বসবাসরত এলাকার যত আবাসিক হোটেল আছে সবগুলোর কাছ থেকে নিয়মিত মাসিক ( তাদের ভাষায় মানতি) টাকা নিয়ে থাকেন। মজার বিষয় হচ্ছে, দ্বিতীয় দিন পাঠায় তার কথা কথিত স্ত্রীকে (এই জন্য তথাকথিত বলছি, কারণ ঐ নারীর সাথে বসবাস করছে স্বামী স্ত্রী পরিচয়ে কিন্তু তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক নেই)। এখানেই শেষ নয়, তৃতীয় দিন পাঠায় তার প্রথম স্ত্রীর রেখে যাওয়া সন্তানকে। সবচেয়ে বড় কথা এতেও সামবাদিক সন্তুষ্ট নয়, এবার পালা নববিবাহিত পুত্রবধূর। হায়রে কপাল র্নিলজ্জেরও তো সীমা পরিসীমা থাকে কিন্তু এই আলী গং দের নেই।
টাকার জন্য সদ্য ঘরে আনা পুত্রবধূ কে পাঠানো হয় আবাসিক হোটেলে তাও পেটের জ্বালায় দেহ বিক্রি করা আরেক নারীর কাছ থেকে বখরা আনতে। অপ্রিয় হলেও সত্য এসবই আলী গং দের দৈনন্দিন জীবনের রুটিনে পরিণত হয়েছে।
এভাবেই যদি আলী গং দের দৌরাত্ম্য দিনের পর দিন চলতে থাকে, তাহলে সেইদিন আর বেশি দূরে নেই যে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলে ইতিহাস বিলুপ্ত হয়ে যাবে।
তাই সরকার প্রধান সহ তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রাপ্ত এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ অবহিত গণমাধ্যম কে এই সামবাদিক উচ্চারণকারী আলী গং দের দৌরাত্ম্য থেকে সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতার সুনাম রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে স্বাধীন মতপ্রকাশের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করুন। কেননা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের এমন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী গণমাধ্যম আজ সবচেয়ে অবহেলিত বলে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।
সময় উপযোগী একটি লেখা। ধন্যবাদ লেখককে।
চমৎকার লিখেছেন,আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। ‘সামবাদিক” নিপাত যাক “সাংবাদিক” মুক্তি পাক।
https://shorturl.fm/X53iv
https://shorturl.fm/khR1o
https://shorturl.fm/T4YBi