July 29, 2026, 9:06 am
শিরোনাম :
টঙ্গী চেরাগ আলীতে প্রস্তাবিত ময়লার ডাম্পিং স্থানান্তরের দাবিতে ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রিন সোসাইটির মানববন্ধন মানবতার অনন্য দৃষ্টান্ত ইউএনও উম্মে হাবিবা ফারজানা ধর্ষণ ও জমি দখলের দাগি আসামিদের হাতে কাপাসিয়ায় গৃহবধূ লাঞ্ছিত, জমি দখলের চেষ্টা বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে স্বামী বাইরে যাওয়ার সুযোগে নারীকে ধর্ষণ গাজীপুরে দুই সন্তানের জননীকে ধর্ষণচেষ্টা ও লুটপাটের অভিযোগ যুবকের বিরুদ্ধে পীরগঞ্জে বিভিন্ন জলাশয় থেকে চায়না দুয়ারী ও কারেন্ট জাল জব্দ টঙ্গী বন্ধু সমাজ কল্যাণ সংস্থার উদ্যোগে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত টঙ্গীর আলোচিত মাদক সম্রাজ্ঞী কারিমাকে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ গ্রেফতার নরসিংদীর শিবপুরে মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় কলা বাগান কেটে ফেলাসহ হত্যার হুমকি সোনার মূর্তি বিক্রির নামে প্রতারণা, ভাই-বোন গ্রেফতার

আমি কিংবদন্তির কথা বলছি…

Reporter Name

প্রান্থ প্রদীপঃ
আজ ৩০ মে। বাংলাদেশের ইতিহাসের এক বেদনাবিধুর দিন। আজ সেই মহানায়ক, সেই সৈনিক, সেই রাষ্ট্রনায়কের শাহাদাৎ বার্ষিকী- যিনি নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটির স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও উন্নয়নের জন্য।
তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।
১৯৭১ সালের সেই উত্তাল মার্চে যখন জাতি দিকনির্দেশনার অপেক্ষায়, যখন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বরতা বাংলার আকাশ-বাতাসকে রক্তাক্ত করে তুলেছে, তখন চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে মুক্তিকামী বাঙালি জাতিকে সাহস, শক্তি ও আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছিলেন।
কিন্তু তিনি শুধু স্বাধীনতার ঘোষক ছিলেন না- তিনি ছিলেন একজন সম্মুখযোদ্ধা। সরাসরি রণাঙ্গনে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ পরিচালনা করেছেন, নেতৃত্ব দিয়েছেন সেক্টরভিত্তিক মুক্তিযুদ্ধকে। স্বাধীন বাংলাদেশের কিংবদন্তি রূপকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছ থেকে অর্জন করেছেন “বীর উত্তম” খেতাব।
স্বাধীনতার পর তিনি এমন একটি বাংলাদেশ পেয়েছিলেন, যাকে বিদেশিরা অবজ্ঞাভরে বলত- “তলাবিহীন ঝুড়ি”। সেই হতাশা, দারিদ্র্য ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের দেশকে তিনি আত্মনির্ভরশীলতার পথে হাঁটতে শিখিয়েছিলেন। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাল খনন, গ্রামীণ উন্নয়ন, শিল্পায়ন, রপ্তানি বৃদ্ধি, জনশক্তি রপ্তানি- প্রতিটি ক্ষেত্রে তিনি রেখে গেছেন দূরদর্শী নেতৃত্বের অনন্য দৃষ্টান্ত।
তিনি বিশ্বাস করতেন- বাংলাদেশের শক্তি তার জনগণ, তার মাটি এবং তার সশস্ত্র বাহিনী। তাই তিনি দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীকে শুধু একটি সামরিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, বরং স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের অবিচল প্রতীক হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী নতুন আস্থা ও মর্যাদা লাভ করে। মুসলিম বিশ্বেও বাংলাদেশ একটি মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। তিনি মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের অবস্থানকে শক্তিশালী করেছিলেন।
বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শন দিয়ে তিনি জাতিকে আত্মপরিচয়ের নতুন শক্তি দিয়েছিলেন। বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং জনগণের রাজনৈতিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি গণতন্ত্রের ভিত্তি সুদৃঢ় করার চেষ্টা করেছিলেন।
স্বাধীনতা যুদ্ধ পরবর্তী বাংলাদেশ পুনর্গঠনে শহীদ জিয়াউর রহমানের অনন্য অবদানঃ
১. তিনি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ধারণা প্রচলন করে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলেন।
২. বহুদলীয় রাজনীতি, বাকস্বাধীনতা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনেন।
৩. কৃষি উৎপাদন বাড়াতে সেচ ও ‘খাদ্য শস্য উৎপাদন বাড়াও’ কর্মসূচি চালু করেন।
৪. গণশিক্ষা ও পল্লী চিকিৎসা চালু করে গ্রামের মানুষকে শিক্ষা-চিকিৎসায় অগ্রাধিকার দেন।
৫. গ্রাম সরকারকে শক্তিশালী করেন এবং ভিডিপি গঠন করে গ্রামীণ নিরাপত্তা জোরদার করেন।
৬. পেশাদার সেনাবাহিনী গঠন ও পুলিশ, বিডিআর, আনসারকে আধুনিক করেন।
৭. দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতার ভিত্তি স্থাপন করে সার্ক গঠনে ভূমিকা রাখেন।
৮. ভারত-সোভিয়েত নির্ভরতা কমিয়ে চীন, আমেরিকা ও মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক গড়েন।
৯. ইরান-ইরাক যুদ্ধে শান্তি উদ্যোগ নেন এবং OIC-তে বাংলাদেশের সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করেন।
১০. “সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়”- এই পররাষ্ট্রনীতি প্রবর্তন করেন।
১১. শিল্প-বাণিজ্যে বেসরকারি খাতকে উৎসাহিত করে অর্থনীতি সচল করেন।
১২. সেনাবাহিনীর অবকাঠামো, লজিস্টিক সাপোর্ট দিয়ে মাত্র তিন ব্যাটালিয়নের সেনাবাহিনীকে তিন প্লাস ডিভিশনে উন্নীত করেন।
ইতিহাসে কিছু মানুষ শুধু নেতা নন, তারা একটি জাতির আত্মবিশ্বাসের নাম- জিয়াউর রহমান তেমনই এক নাম।
আল্লাহ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম)-কে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করুন।
শহীদ জিয়ার একজন আদর্শের কর্মী হিসাবে শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতায়- এক মহান স্বাধীনতা যোদ্ধা, রাষ্ট্রনায়ক ও জাতির গর্বকে স্মরণ করছি।
“প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ,
জীবন বাংলাদেশ আমার মরন বাংলাদেশ”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা