June 5, 2026, 7:57 pm
শিরোনাম :
স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণতন্ত্রের সম্পর্ক: বর্তমান প্রেক্ষাপট সারা দেশে উদ্যোক্তা বিপ্লবের লক্ষ্যে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে (beetech world plc) বিটেক ওয়ার্ল্ড পিএলসি’র ঈদের ছুটি না পেয়ে আত্মহত্যা? জাকারিয়ার মৃত্যুর পেছনে কী ঘটেছিল মোশাররফ কম্পোজিট টেক্সটাইল মিলে কাপাসিয়ায় পুকুরে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু গাজীপুরে বাসের ধাক্কায় অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত রাজশাহীতে অস্ত্রের চালান জব্দ, আটক ২ মানবাধিকার কমিশন কুড়িগ্রাম জেলা সভাপতি’র বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ। গরীব মানুষের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ মানবাধিকার কমিশন কুড়িগ্রাম জেলা সভাপতি মিনহাজুল ইসলাম মিলনের বিরুদ্ধে দিনাজপুরে বিজিবি কর্তৃক মালিক বিহীন ভারতীয় নেশা জাতীয় ট্যাবলেট উদ্ধার নওগাঁর ধামইরহাটে পুকুরে বিষ প্রয়োগের অভিযোগ, প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষতির আশঙ্কা।

ঈদের ছুটি না পেয়ে আত্মহত্যা? জাকারিয়ার মৃত্যুর পেছনে কী ঘটেছিল মোশাররফ কম্পোজিট টেক্সটাইল মিলে

Reporter Name

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই ছিল পবিত্র ঈদুল আযহা। গ্রামের বাড়িতে চলছিল বড় ভাইয়ের বিয়ের আয়োজন। স্বজনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন আর ভাইয়ের বিয়ের আনন্দে শামিল হওয়ার স্বপ্ন ছিল তরুণ শ্রমিক জাকারিয়ার। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হয়নি। ঈদের আগের রাতেই গাজীপুর সদর উপজেলার একটি কারখানার ব্যারাকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় তার মরদেহ।
ঘটনার কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও জাকারিয়ার মৃত্যুকে ঘিরে থামছে না আলোচনা। সহকর্মী, স্বজন ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ছুটি না পাওয়া, কর্মস্থলের চাপ এবং মানসিক হতাশা তাকে চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে থাকতে পারে। যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি।
ঘটনাটি ঘটে গত বুধবার (২৭ মে) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে সদর উপজেলার বানিয়াচালা এলাকায় অবস্থিত মোশাররফ কম্পোজিট টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের শ্রমিক ব্যারাকে।
নিহত জাকারিয়া (২২) গাইবান্দা জেলার সাদুল্লাপুর উপজেলার নিজপাড়া গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে। তিনি কারখানার ব্যারাকে বসবাস করে ওই প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদুল আযহার আগের রাতে কারখানার ব্যারাক থেকে জাকারিয়ার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে খবর পেয়ে জয়দেবপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
নিহতের সহকর্মী ও স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, ঈদের সময় অধিকাংশ শিল্প-কারখানা বন্ধ থাকলেও সংশ্লিষ্ট কারখানায় শ্রমিকদের একটি অংশকে কাজে রাখা হয়েছিল। তারা অভিযোগ করেন, চাকরি হারানোর ভয় দেখিয়ে অনেক শ্রমিককে ছুটি ছাড়াই কাজ করতে বাধ্য করা হতো।
শ্রমিকদের ভাষ্যমতে, জাকারিয়ার বড় ভাইয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান ছিল ঈদের ছুটির মধ্যেই। পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন এবং বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে তিনি ছুটি চেয়েছিলেন বলে সহকর্মীরা জানান। কিন্তু সেই ছুটি না পাওয়ায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন বলে দাবি তাদের।
এদিকে ঘটনাকে ঘিরে আরেকটি অভিযোগ সামনে এসেছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও স্থানীয় সাংবাদিকদের দাবি, মরদেহ উদ্ধারের সময় কারখানার ভেতরে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছিল। যদিও এ বিষয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা নিয়েও আনুষ্ঠানিক কোনো তদন্ত প্রতিবেদন এখনো প্রকাশ হয়নি।
নিহতের পরিবারও এখনো চূড়ান্ত অবস্থান নেয়নি। জাকারিয়ার ভাই নূরে আলম বলেন, কারখানা কর্তৃপক্ষ আমাদের সঙ্গে বসার কথা জানিয়েছে। আলোচনার পর আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেব।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো ব্যক্তিকে ধারাবাহিক মানসিক নির্যাতন, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা চাপে রেখে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হলে, যা তাকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দেয়, সেটি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। গাজীপুর জেলা জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হায়দার আলী বলেন, বাংলাদেশের দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
তবে এই ঘটনায় আত্মহত্যার পেছনে কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা পরিস্থিতির সরাসরি দায় রয়েছে কি না, তা নির্ধারণের জন্য পুলিশের সুষ্ঠ তদন্ত করার দরকার বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জয়দেবপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) নয়ন কুমার কর জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু করা হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
শ্রমিক অধিকারকর্মীরা বলছেন, দেশের পোশাক ও বস্ত্র খাতের বিভিন্ন কারখানায় ছুটি, অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা এবং শ্রমিকদের মানসিক চাপের বিষয়গুলো নতুন নয়। জাকারিয়ার মৃত্যুর ঘটনাটি আবারও সেই প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে—শ্রমিকদের অধিকার ও মানবিক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা দায়িত্বশীল?
ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন এবং সম্ভাব্য তদন্তের ফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত জাকারিয়ার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই যাচ্ছে। তবে পরিবারের সদস্য, সহকর্মী এবং স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা