বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা (২৮), সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জেতা (১৮) এবং সবচেয়ে বেশি সময় মাঠে কাটানোর (২,৪৮৯ মিনিট) রেকর্ডও এখন তার দখলে।
মোঃ রফিকুল ইসলামঃ
৩৮ বছর বয়সে অধিকাংশ ফুটবলার যখন ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ে পৌঁছে যান, ঠিক তখনই সময়কে হার মানানো এক নাম বিশ্বের আকাশে উজ্জ্বল নক্ষত্র লিওনেল মেসি। ফুটবলের ইতিহাসের পাতায় আরেক নতুন ইতিহাস লিখছেন। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে তিনি শুধু আর্জেন্টিনাকে নক আউট পর্ব পেরিয়ে পরবর্তী ধাপে তুলেননি, বিশ্বকাপের ইতিহাসেও নিজের নাম আরও উজ্জ্বল অক্ষরে খোদাই করেছেন।
এই ম্যাচের পর বিশ্বকাপে মেসির গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮। এর মাধ্যমে তিনি জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ড ভেঙে বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে এককভাবে বসেছেন। নারী ও পুরুষ মিলিয়ে ব্রাজিলের কিংবদন্তি মার্তার ১৭ গোলের রেকর্ডও এখন অতীত।

ফুটবলে অনেক কিংবদন্তি এসেছেন, অনেকেই রেকর্ড গড়েছেন। কিন্তু মেসির গল্পটা ভিন্ন।
তবে মেসির মহত্ত্ব শুধু গোলেই সীমাবদ্ধ নয়। বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা (২৮), সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জেতা (১৮) এবং সবচেয়ে বেশি সময় মাঠে কাটানোর (২,৪৮৯ মিনিট) রেকর্ডও এখন তার দখলে। ছয়টি বিশ্বকাপ জুড়ে প্রায় দুই দশকের অসাধারণ ধারাবাহিকতা তাকে এই অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।
ফুটবলে অনেক কিংবদন্তি এসেছেন, অনেকেই রেকর্ড গড়েছেন। কিন্তু মেসির গল্পটা ভিন্ন। কারণ তিনি শুধু রেকর্ড ভাঙ্গেনি ফুটবলের ইতিহাসের রেকর্ডের সংজ্ঞাটাই বদলে দিয়েছেন। বয়স যখন তাকে থামিয়ে দেওয়ার কথা, তখনই তিনি প্রমাণ করে চলেছেন—প্রতিভা, পরিশ্রম এবং ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা থাকলে সময়ও কখনো কখনো পরাজিত হয়।
অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি তাই শুধু আর্জেন্টিনার জয়ের গল্প নয়; এটি ছিল বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্রদের একজনের আরেকটি অবিস্মরণীয় অধ্যায়। লিওনেল মেসি আবারও মনে করিয়ে দিলেন, কিংবদন্তিরা বুড়িয়ে যান না—তারা ইতিহাস হয়ে ওঠেন।
বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতির পক্ষ থেকে নিরন্তর ভালোবাসা ও অন্তহীন শুভেচ্ছা ইতিহাসের মহানায়ক লিওনেল মেসিকে।