শেখ কামরুল হাসান সাহা
গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীতে চিহ্নিত ছিনতাইকারীদের ধরতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন টঙ্গী পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হানিফ মাহমুদ। দায়িত্ব পালনকালে ছিনতাইকারীদের হামলায় তার বাঁ পায়ে গুরুতর জখম হয়েছে। এ ঘটনায় শাওন ও সাগর নামে দুই চিহ্নিত ছিনতাইকারীকে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার রাতে টঙ্গী পশ্চিম থানার সাতাইশ-সখিনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজারবাগ পুলিশ লাইনস হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, টঙ্গী পশ্চিম থানার সাতাইশ-সখিনগরসহ আশপাশের এলাকায় বেশ কিছুদিন ধরে ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িত চিহ্নিত ছিনতাইকারীদের শনাক্ত ও আটক করতে পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছিল।
এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার রাতে টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশের একটি দল সাতাইশ-সখিনগর এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযান চলাকালে পুলিশ চিহ্নিত ছিনতাইকারী শাওন ও সাগরের অবস্থান শনাক্ত করে তাদের আটক করার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালানোর চেষ্টা করে এবং একপর্যায়ে পুলিশের সদস্যদের ওপর হামলা চালায়।
পুলিশ তাদের আটক করতে এগিয়ে গেলে ছিনতাইকারীদের একজন ধারালো ছুরি দিয়ে এসআই হানিফ মাহমুদের বাঁ পায়ে আঘাত করে। এতে তার পায়ে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতটি প্রায় পাঁচ ইঞ্চি গভীর বলে জানা গেছে। গুরুতর আহত হওয়ার পরও পুলিশ সদস্যরা অভিযান চালিয়ে দুই ছিনতাইকারীকে আটক করতে সক্ষম হন।
পরে সহকর্মীরা আহত এসআই হানিফ মাহমুদকে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার ক্ষতস্থানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজারবাগ পুলিশ লাইনস হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ঘটনার বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) শফিকুর রহমান বলেন, চিহ্নিত ছিনতাইকারীদের ধরতে গিয়ে আমাদের একজন এসআই আহত হয়েছেন। তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ছিনতাইকারীদের আটক করতে সক্ষম হয়েছেন। আহত হওয়ার পরও তিনি অভিযান থেকে পিছিয়ে যাননি। এ ঘটনায় দুই ছিনতাইকারীকে আটক করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মাদক, ছিনতাই ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। টঙ্গীসহ গাজীপুর মহানগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
স্থানীয়দের দাবি, টঙ্গীর বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাই, মাদক ও কিশোর অপরাধের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও নির্জন এলাকায় ছিনতাইয়ের আশঙ্কা বেশি থাকে। ফলে এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের নিয়মিত টহল ও অভিযান আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক দুই ছিনতাইকারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তাদের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না এবং এলাকায় সংঘটিত অন্যান্য ছিনতাইয়ের ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সতর্ক থাকতে হবে। সন্দেহজনক ব্যক্তি বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত পুলিশকে জানাতে হবে। সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে ছিনতাই, মাদক ও অন্যান্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা