মোঃ রফিকুল ইসলামঃ
বাংলাদেশের প্রতিটি জেলার থানা এবং উপজেলা সমূহে সাংবাদিকতার নামে অপসাংবাদিকতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। অপ্রিয় হলেও সত্য যে এমন কিছু নারী ও পুরুষ এই মহান পেশার পরিচয় দিচ্ছে যারা ‘সাংবাদিক’ শব্দটি সঠিক ভাবে উচ্চারণ করতে পারে না।
সরেজমিন অনুসন্ধান করে যে বিষয়টি পরিষ্কার ভাবে অনুধাবন করা গেছে এই অপরিপক্ক সাংবাদিক পরিচয়ধারীগণ প্রত্যেকে নিজ নিজ লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য একটি নির্ধারিত গন্ডি মধ্যে যাত্রা শুরু করলেও ধীরে ধীরে তাদের আস্ফালন বেড়েই চলেছে। সম্প্রতি এমন কিছু বিষয় দৃষ্টি গোচর হয়েছে যা লিখতে নিজের লজ্জাবোধ হচ্ছে।
নাম্বার ১ঃ
বিদ্যা বুদ্ধির বালাই নেই ৫ শ’ বা হাজার টাকা বিনিয়োগ করে একটা নামসর্বস্ব সংবাদ মাধ্যমের পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে বিশাল আকৃতির ফিতা দিয়ে অনেটা মুই কি হনু রে টাইপ গলায় ঝুলিয়ে যত্রতত্র দাবিয়ে বেড়াচ্ছে। কখন, কোথায়, কেন, কি, করছে তার সঠিক কারণ সে নিজেও জানে না।
নাম্বার ২ঃ
এলাকার খুচরা মাদক বিক্রেতা হচ্ছে এই স্ব ঘোষিত মুই কি হনু রে দলের প্রধান টার্গেট। সাধারণ পরিবারের সন্তান কোন দুষ্টু চক্রের কারণ মাদকের সংস্পর্শে চলে গেছে জানতে পারলে ওই ছেলে ও তার পরিবারের জীবন শেষ। কারণ ওই ছেলেটিকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে দিবে না এই তথাকথিত চক্র। প্রথমে একটি ছবি অথবা রাস্তার পাশে ঝোপের আড়াল থেকে হিস্যু দিয়ে বের হয়ে আসছে এমন একটি ভিডিওর সাথে অশুদ্ধ বাংলা (সাধু চলিতের পাশাপাশি তাদের নিজস্ব ভাষাও রয়েছে) লিখে সোস্যাল মিডিয়াতে পোস্ট দিয়ে তা স্ক্রিন সর্ট দিয়ে ব্যবসা শুরু। লক্ষচ্যুত হলে পরবর্তী পদক্ষেপ “মা’য় বানায় ছেলে বেছে’ এক শ্রেণীর মাদক বিক্রেতাকে রাতারাতি “মাদক সম্রাট” বা ডিলার বানিয়ে ফেলতে কতোটুকু চিন্তা করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে না। এতে করে পুলিশের পোয়া বারো। নুন আনতে পান্তা ফুরায় ছেলেটি ও তার পরিবার এই মিথ্যার বেড়াজাল থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা ১০০% অনিশ্চিত হয়ে যায়। কারণ প্রথম আঘাতকারী নিজেও জানে না, যে তার সামান্য স্বার্থ হাসিল না হওয়ায় লোভী লাম্পট্য চরিত্রে আঘাতের পরিমাণ এতোটাই গভীর হয়েছে যে পুরো পরিবারটাই ধংস হয়ে গেছে।
নাম্বার ৩ঃ
ওয়ার্ড পর্যায়ের কিছু রাজনৈতিক কর্মী সমর্থক রয়েছে, যাদের নিজেদের পায়ের নিচে মাটি নেই। কিন্তু ভাবটা এমন যেন সে দেশ ও জাতির কল্যাণে এমন ত্যাগ শিকার করেছে, যার ফলশ্রুতিতে এখন আর ত্যাগের জন্য বার্থ রুম ব্যাবহার করতে হয় না। কারণ খোঁজে সততা হিসেবে পাওয়া যাবে কখনো হয়তো স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থানা পর্যায়ের কোন এক নেতা একদিন ডাক দিয়ে কিছু একটা কাজের নির্দেশ দিয়েছে অথবা ঐ নেতার পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলেছে এই হবে ত্যাগের সর্বোচ্চ দলিল।
আর সাংবাদিক পরিচয়ে মুই কি হনু রে চক্র ওই ত্যাগী কর্মী সমর্থক কে এমন ভাবে উপস্থাপন করবে যে এই নেতা আছে বলেই দেশ টা এখনো টিকে আছে। বিনিময়ে ঐ সমস্ত নেতা গুছের ভাইরাসদের কাছে ওরাই সাংবাদিক।
একজন মূল ধারার সাংবাদিক কখনো তার লেখা দ্বারা কারো ক্ষতি সাধনের কাজটি করতে পারে না। কারণ সাংবাদিকতার একমাত্র লক্ষ্য হচ্ছে দেশ ও জনগণের স্বার্থে কাজ করা। সাংবাদিকের কলম সমাজের প্রতিনিয়ত ঘটে যাওয়া অন্যায়-অবিচার, অনিয়মের বিরুদ্ধে।
সরকারি আমলা, ব্যাবসায়ী সিন্ডিকেট, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, থেকে শুরু করে এমপি মন্ত্রী সহ সকল নিয়ন্ত্রকদের সংগঠিত অপরাধ অবিচার ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলে। সরকারের সকল প্রকার কর্মকান্ডের গঠনমূলক সমালোচনা করার একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে গণমাধ্যম। যার একটাই অর্থ তা হচ্ছে, গণমাধ্যমের কারণেই জনগণের যৌক্তিক দাবি পূরণ হয়ে আসছে এবং শাসকগোষ্ঠীর হাত থেকে সাধারণ মানুষের রক্ষা করা এবং মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠাসহ
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করে গণমাধ্যম।
আইন বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ বা শাসন বিভাগ বিচার বিভাগ ও গণমাধ্যম বা মিডিয়া।
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের প্রধান চারটি স্তম্ভের ১। আইন বিভাগ, ২। নির্বাহী বিভাগ বা শাসন বিভাগ এবং বিচার বিভাগের সকল কর্মকান্ডের নজরদারি করা এবং তা রাষ্ট্রের মালিকের সামনে উপস্থাপন করার মহান দায়িত্বটি পালনের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে গণমাধ্যম নামে চতুর্থ স্তম্ভের উপর।
রাষ্ট্র পরিচালনার তিনটি বিভাগের কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা রক্ষায় ‘চতুর্থ স্তম্ভ’ হিসেবে কাজ করা গণমাধ্যমের সাথে সম্পৃক্ত প্রতিটি কর্মীর কতটা স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হয় ? আর এই দায়িত্ব পালনকারী একজন গণমাধ্যম কর্মীর ভূমিকা কেমন হওয়া উচিত।
দায়িত্বের প্রতি নিষ্ঠাবান, কর্মদক্ষ, এবং সঠিক বিচার বুদ্ধি সম্পন্ন, ন্যায়-নীতি পরায়ন এবং সকল বিষয় নূন্যতম জ্ঞান সম্পন্ন ব্যক্তি
গণমাধ্যম কর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করলে তবেই গণমাধ্যমের যথাযথ সুফল পাওয়া সম্ভব।
সর্বোপরি এমন একটি পেশার পরিচয় দেওয়ার যোগ্যতার প্রমাণ পত্র ছাড়া আলতো-ফালতো, অশিক্ষিত বা অর্ধশিক্ষিত কোন লোক গণমাধ্যমের পরিচয় পত্র বহন করলে এবং অভিজ্ঞতা হীন কাউকে গণমাধ্যমের পরিচয়পত্র প্রদান করিলে পরিচয়ধারী এবং প্রদানকারী উভয়কে আইনের আওতায় এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।