মোঃ রফিকুল ইসলামঃ
বাংলাদেশের আন্দোলনের ইতিহাসে নতুন সংযোজন পঞ্চম শ্রেণি পাস বৈষম্যবিরোধী নেতা সাইফুল ওরফে রাব্বি। হ্যাঁ, ভুল পড়েননি। পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেই তিনি ঢাকায় চলে আসেন, আর সেখানেই তৈরি হয়, এক মহান আন্দোলনসেনা। কিন্তু এই সেনার যুদ্ধক্ষেত্র ছিল না অন্যায়-বৈষম্যের বিরুদ্ধে, বরং তার যুদ্ধ ক্ষেত্র ছিল হাসপাতালের ক্যাশবাক্সের সামনে।
পঞ্চম শ্রেণি থেকে পলিটিক্যাল সায়েন্সে পিএইচডি !!!
গ্রামের মানুষ অবাক হয়ে বলছে, এই ছেলে রাব্বি তো সহজ-সরল ছিল, গরুর দেখাশোনা করত, গার্মেন্টসে কাজ করত। কবে এবং কিভাবে যে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের আহ্বায়ক হলো! ভেবে পাচ্ছি না। তবে এটাই হলো বাস্তবতা, আজব শহর ঢাকার জাদু! মোদ্দা কথা হলো যেখানে পঞ্চম শ্রেণির সার্টিফিকেটই যথেষ্ট, যদি সঠিক স্লোগান দিতে পারেন, আর ‘সঠিক চামড়া’ পরতে জানেন।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নতুন সংজ্ঞাঃ
একজন মৃত শিশু জন্ম নিল, সেটাকে কেন্দ্র করেই নাকি তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে। এখন একটিবার ভেবে দেখুন সত্যিকার আন্দোলনের সুফল পেতে বেশী দেরী নেই। কেননা বৈষম্য বিরোধী নেতাদের কথায় ও কাজে পরিপূর্ণ মিল পাওয়া যাচ্ছে তারা মৃত ও জীবিত মানুষের মাঝেও কোন প্রকার বৈষম্য করছেন না। তাহলে এবার বুঝতে পেরেছেন কী বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য। জীবিতরা নয়, মৃতরাও সমানভাবে বৈষম্য মুক্তভাবে লুটপাটের শিকার হতে হবে। নতুন স্বাধীনতার নুতন দেশ জুলাই ৩৬ এর বাংলাদেশ। কপাল ভালো যে বাংলাদেশের নামটা অন্তত করুনা করে হলেও পরিবর্তন করেননি। মহান স্বাধীনতার মহান বৈষম্যবিরোধী নেতাগণ। এই জাতি নিঃসন্দেহে কৃতজ্ঞতা ভরে স্মরণ করবে আপনাদের কে।
নেতা বানানোর কারখানাঃ মহান নেতা রাব্বি সাহেবের জন্ম ভিটার (গ্রামে) সবার মুখে একটাই প্রশ্ন- রাখাল ছেলে রাব্বি সাহেব পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েই কত চড়াই উৎরাই পারি দিয়ে জীবন টা কে বাজিয়ে (ঝুলিয়ে) রেখে দেশ ও জাতির কল্যাণে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতা হয়েছেন ! এবং তিনি কথা রেখেছেন, জীবিত ও মৃত মানুষের মধ্যে যে বৈষম্য ছিল তা দূর করেছেন। সেই সাথে এলাকাবাসী আশা প্রকাশ করেন, নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবার নিশ্চয়ই আমাদের নতুন বাংদেশের মহান নেতা রাব্বি কে জাতীয় পুরস্কার দিয়ে জাতির প্রতি সঠিক সম্মান প্রদর্শন করবেন।
উত্তরটা সহজ, ৩৬ জুলাই আন্দোলনে নেতা হতে পড়াশোনা লাগে না, লাগে ‘স্পন্সর’। কারা এসব ‘স্পন্সর’ ? যাঁরা আন্দোলনকে ব্যবহার করেন, নিজেদের দলীয় চাঁদাবাজি, হুমকি আর প্রেস কনফারেন্সের পেছনে। নেতা বানানোর এই কারখানা এখন দেশব্যাপী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
৩৬ জুলাইয়ে এক বিপ্লবীর ট্র্যাজেডিঃ গার্মেন্টসে দুই হাজার টাকা আয় করে যে রাব্বি গ্রামে বাবা-মাকে পাঠাতো আজ সেই রাব্বি নতুন স্বাধীনতার এক উজ্জ্বল নক্ষত্র মৃত ব্যক্তি বাবদ মাত্র তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবির আসামী। যদিও বাবা এখনও ছাগল চড়ান, তাতে কি তার সুযোগ্য সন্তান মহান নেতা এখন রাজধানীতে হাসপাতালের মালিক চড়ায়। কোটা আন্দোলনের “বৈষম্যবিরোধী সমন্বয়ক” থেকে স্বাধীনতা অর্জনের সুফল এক লাফে হাসপাতাল-মহল ‘চাঁদাবাজি সমন্বয়ক’।
শেষ কথাঃ সাইফুল শুধু গ্রেফতার হয়নি, সে আসলে আমাদের সময়ের আয়না। যেখানে শিক্ষা বা যোগ্যতা নয়, বরং স্লোগান আর সিন্ডিকেটের দয়ায় কাউকে নেতা বানিয়ে দেয়। তাহলে প্রশ্নটা আবারও ফিরে আসে:
প্রশ্ন: পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ে কেউ কীভাবে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতা হয় ?
উত্তরঃ কারণ বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন আসলে বৈষম্যমূলক চাঁদাবাজির বৃত্তান্ত ছাড়া কিছুই নয়।
এতো কিছুর পর আমাদের নেতা রাব্বি সাহেবের জন্মভিটার লোকদের সাবলীল একটি কথা দিয়ে ইতি টানছি…. কপাল ভালো ৩৬ জুলাই আন্দোলনে নেতাগণ বাংলাদেশ নামটি পরিবর্তন করেননি। নামের বৈষম্য বিচার করলে যে এর পরিনাম কি হতো…।