July 29, 2026, 12:42 pm
শিরোনাম :
টঙ্গী চেরাগ আলীতে প্রস্তাবিত ময়লার ডাম্পিং স্থানান্তরের দাবিতে ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রিন সোসাইটির মানববন্ধন মানবতার অনন্য দৃষ্টান্ত ইউএনও উম্মে হাবিবা ফারজানা ধর্ষণ ও জমি দখলের দাগি আসামিদের হাতে কাপাসিয়ায় গৃহবধূ লাঞ্ছিত, জমি দখলের চেষ্টা বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে স্বামী বাইরে যাওয়ার সুযোগে নারীকে ধর্ষণ গাজীপুরে দুই সন্তানের জননীকে ধর্ষণচেষ্টা ও লুটপাটের অভিযোগ যুবকের বিরুদ্ধে পীরগঞ্জে বিভিন্ন জলাশয় থেকে চায়না দুয়ারী ও কারেন্ট জাল জব্দ টঙ্গী বন্ধু সমাজ কল্যাণ সংস্থার উদ্যোগে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত টঙ্গীর আলোচিত মাদক সম্রাজ্ঞী কারিমাকে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ গ্রেফতার নরসিংদীর শিবপুরে মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় কলা বাগান কেটে ফেলাসহ হত্যার হুমকি সোনার মূর্তি বিক্রির নামে প্রতারণা, ভাই-বোন গ্রেফতার

উত্তরা বিসমিল্লাহ কাঁচা বাজারে চাঁদাবাজি এখনও চলমান, দোসর হিসেবে কাজ করছেন পশ্চিম থানার ওসি আব্দুর রহিম

Reporter Name

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ বিগত আওয়ামী ফ্যাসিবাদ সরকারের অন্যতম সন্ত্রাসী যুবলীগ নেতা আনোয়ার এখনও বহাল তবিয়তে। উত্তরার বিসমিল্লাহ কাঁচাবাজারে পূর্বের ফ্যাসিস্ট সরকারের সন্ত্রাসীদের ধারাবাহিকতা এখনো সক্রিয় রয়েছে। যার কারণে আনোয়ার বাহিনীর চাঁদাবাজি বন্ধ হয়নি বলে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। এই বাহিনী ভুয়া ব্রিগেডিয়ার লুৎফর রহমান খানের নাম ব্যবহার করে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ থেকে শুরু করে ছোট বড় সকল ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে এখনো জোর করে তাদের জীবননাশের হুমকি দিয়ে প্রতিনিয়ত চাঁদা আদায় করছে। যদি কোন ব্যবসায়ী চাঁদা দিতে রাজি না হয়, তবে তাদের উপরে শারীরিক টর্চার করে এই আনোয়ার বাহিনী।

বর্তমানে আনোয়ার বাহিনীর হয়ে কাজ করছে বাবলু ভূঁইয়া, রিয়াজ, সেলিম, ঘরজামাই আমিনুল ইসলাম, রাব্বি, রাকিব, ফেরদৌস হক, ফাতেমা, আকাশ, ভাগ্নি জামাই শাহিন, ওহাব সহ আরও বেশকিছু সন্ত্রাসী প্রতিনিয়ত বাজারে প্রবেশ করে ব্যবসায়ীদের উপর অতর্কিত হামলা, অশ্লীল গালিগালাজ এবং জোরপূর্বক টাকা আদায় করছে। গাড়ি পার্কিং থেকে শুরু করে সাধারণ ড্রাইভার, ভ্যানচালক, ইজিবাইক চালক—কেউই তাদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না। এতে ব্যবসায়ীরা মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

এই ঘটনায় উত্তরা পশ্চিম থানার বর্তমান ওসি মোঃ আব্দুর রহিম মোল্লা বরাবর ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল থেকে ৬০-৭০ জন অভিযোগ করতে গেলে তিনি অভিযোগ না নিয়ে তাদের কোর্টে যেতে বলেন। পরবর্তীতে উত্তেজিত জনতা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ একজন আওয়ামী যুবলীগ সন্ত্রাসী রাব্বিকে গ্রেফতার করে, তবে কিছুক্ষণ পরই তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। একইভাবে উত্তেজিত জনতা ও সাংবাদিকদের সহযোগিতায় ভুয়া ব্রিগেডিয়ার লুৎফর রহমান খানকে থানায় নিয়ে যাওয়া হলেও বর্তমান ওসি আবারও তাকে মুক্তি দেন। এর ফলে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, অদৃশ্য শক্তির প্রভাবে কি এই সন্ত্রাসীরা আইনের বাইরে থেকে যাচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন, ভুয়া ব্রিগেডিয়ার পরিচয় ব্যবহার করে লুৎফর রহমান খান শুধু সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছেন না, বরং নিয়মিত চাঁদাবাজি করে সাধারণ মানুষকে বিপদে ফেলছেন। ব্যবসায়ীদের দাবি, তারা যেন শান্তিতে বাজারজাত করতে পারেন। তারা দেশীয় কৃষিপণ্য তরমুজ, আম, লিচু, জাম্বুরা, পেয়ারা, ড্রাগন, পেঁপে, কলা ইত্যাদি সহ বিভিন্ন ফল-মূল, মাছ ও নিত্য-নৈমিত্তিক খাবার সরবরাহ করেন কম দামে, যাতে সাধারণ মানুষ উপকৃত হয় এবং কৃষকরাও ন্যায্যমূল্য পান। কিন্তু নিয়মিত চাঁদা দিতে হলে এই পণ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে প্রায় তিন গুণ, যার বোঝা পড়ছে সরাসরি ক্রেতাদের উপর।

গত ৪-সেপ্টেম্বর-২০২৫ তারিখে আনোয়ার বাহিনী উক্ত বাজারের শ্রমিক ও ছোট বড় ব্যবসায়ীদের উপরও হামলা চালায়। আওয়ামী যুবলীগ সন্ত্রাসীরা সকলের নিকট থেকে শতকরা ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কমিশন হারে চাঁদা দাবি করে। বিসমিল্লাহির কাঁচা বাজারের ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা তাদের চাঁদা দিতে রাজি না হলে। আওয়ামী যুবলীগ সন্ত্রাসী আনোয়ারের গুন্ডা বাহিনী বেশ কিছু ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের মারধর করে, এতে দুজন গুরুতর আহত হয়ে টঙ্গী সরকারি মেডিকেলে ভর্তি হন। শ্রমিক নেতা শাহিন আহমেদ অন্তর থানায় অভিযোগ দিতে গেলে ওসি মোঃ আব্দুর রহিম মোল্লা তার অভিযোগটি গ্রহণ করেননি।

পরবর্তীতে উত্তেজিত ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনতা সহ সাংবাদিকরা আওয়ামী যুবলীগ সন্ত্রাসী লুৎফর কে ধরে থানায় নিয়ে গেলে তাকে গ্রেফতার না দেখিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং ওসি আব্দুর রহিম মোল্লা শ্রমিকদের আশ্বস্ত করেন যে শ্রমিকদের কাছ থেকে কোন টাকা নেওয়া যাবে না—এই বলে বিদায় দেন। কিন্তু বাস্তবতায় তার কোন প্রতিফলন আজ পর্যন্ত পায়নি সাধারণ জনতা ও উক্ত কাঁচা-বাজারের ব্যবসায়ীরা। উত্তরা কাঁচা বাজারের ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের একটাই দাবি, আনোয়ার বাহিনী ও তাদের সন্ত্রাসী কার্যকলাপের অবসান ঘটিয়ে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হোক।

উক্ত কাঁচা বাজারের ব্যবসায়ীরা বলেন আমরা শুধু ন্যায়বিচার চাই। এই স্বাধীন বাংলাদেশে আমরা একটু শান্তিতে ব্যবসা করতে চাই। সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত অর্থের উপর আর বিগত ফ্যাসিষ্ট সরকারের আওয়ামী যুবলীগ সন্ত্রাসীদের হামলা এবং চাঁদাবাজির শিকার হতে চাই না। আমরা যেহেতু বাজার সমিতির মাধ্যমে সরকারি ভ্যাট ট্যাক্স প্রদান করে থাকি। সেহেতু ২০২৪ ইং জুলাই – আগষ্ট আন্দোলনে ছাত্রদের বিজয়ের পরেও আমরা সাধারণ ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা কেন সেই বিগত ফ্যিসিষ্ট সরকারের সন্ত্রাসীদের চাঁদাবাজি ও নির্যাতনের শিকার হব।

আনোয়ার হোসেন আনুর নামে রয়েছে ২০ কোটি টাকার চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন লোকের অর্থ আত্মসাৎ করার মামলা যাহা ১০৭ /১১৭ কোর্টে চলমান ও একাধিক হত্যা মামলা থাকা সত্ত্বেও ঐ সন্ত্রাসী ওই এলাকায় এখনো চাঁদাবাজি করছে এবং প্রশাসনের নাকের উপর দিয়ে মহড়া দিয়ে বেড়াচ্ছে, প্রশাসন দেখেও না দেখার অভিনয় করছেন সাধারণ ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের মন্তব্য । এ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠছে তবে কি উক্ত আওয়ামী যুবলীগ সন্ত্রাসী ও প্রশাসনের মধ্যে রয়েছে কি কোন গোপনীয়তা, কোন উদ্দেশ্য বা অপশক্তি যার ফলে তাদেরকে ধরছেন না প্রশাসন। আর জনগণের চাপে দুই একজন কে ধরলে ও কেনই বা তাদের আবার ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয় গুলো নিয়ে সাধারণ মানুষ ও জনমনে হতাশার সৃষ্টি হয়।

আনোয়ার হোসেন আনুর নামে বিজ্ঞ সিএমএম আদালতে ২০২৪ সালে মামলা নং ১২৭৩ দায়ের করা হয়। এছাড়াও ২০ কোটি টাকা চাঁদাবাজি, অর্থ আত্মসাৎ ও জাল জালিয়াতি মামলা চলমান। ১৭৭ জন ব্যবসায়ী কাছ নেওয়া সেই আওয়ামী যুবলীগ সন্ত্রাসী আনোয়ার হোসেন আনু এখন তার ওয়াইফ ফাতেমা হক ফেরদৌস কে দিয়ে সবকিছু পরিচালনা করিতেছে তাই সাধারণ ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ উক্ত এলাকায় আতঙ্কে বসবাস করিতেছেন। এমতাবস্থায় উত্তরা কাঁচা বাজারের ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ এবং স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সহ মাননীয় সরকার প্রধানের সুদৃষ্টি কামনা করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা