নিজস্ব প্রতিনিধিঃ গাজীপুরের শ্রীপুরের একটি রিসোর্টে মডেল-অভিনেত্রী দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন। অভিনেত্রী নাম তাসলিমা খাতুন আয়েশা। সে ঢাকা মীরপুর এলাকায় বসবাস করেন ঘটনার রাতে তিনি স্যুটিং এর জন্য শ্রীপুরে আসেন বলে ভিডিও তে বলেছেন। এদিকে পুলিশের ভাষ্য, ভিকটিমের বক্তব্যে বারবার গড়মিল ধরা পড়েছে। এমনকি ঘটনাটির নেপথ্যে উঠে আসছে ‘আইফোনের প্রসঙ্গ’।
জানা গেছে, গত শনিবার দুপুরে শ্রীপুর উপজেলার উত্তর পেলাইদ গ্রামে রাস রিসোর্ট এ এঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে ভিকটিমের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে দুই নারী ও রিসোর্টের স্টাফসহ ১৮ জনকে গ্রেফতার করে। এঘটনায় নাট্যনির্মাতা নাসির উদ্দিন, বাবর ও অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তিকে ধর্ষণ মামলায় আসামি করা হয়েছে।
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ইং রোববার সকালে রিসোর্ট থেকে গ্রেফতারকৃত ১৮ জনসহ বিভিন্ন মামলায় মোট ৪০ জনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছেন। তাদের মধ্যে ১১ জন সাফারি পার্কে অনুপ্রবেশ, ১৮ জন রাস রিসোর্টের ঘটনায় এবং রাজনৈতিক মামলায় গাজীপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মাসুদ পারভেজ মঞ্জু মেম্বারসহ সর্বমোট ৪০ জন।
অন্যদিকে, শ্রীপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ সাইদুল ইসলামের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে নিবন্ধন না থাকায় বাংলাদেশ হোটেল ও রেস্তোরাঁ আইন, ২০১৪ এর আওতায় রাস রিসোর্ট কর্তৃপক্ষকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
রাস রিসোর্টের অনৈতিক কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে ৪ জনকে মানব পাচার ও রিসোর্ট স্টাফদের সন্দেহভাজন হিসেবে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল বারিক।
ভুক্তভোগী তাসলিমা জানান, ঢাকার বাসা থেকে পরিচালক নাসির উদ্দিনের সঙ্গে গাড়িতে করে রাত সাড়ে তিনটার দিকে সে রাস রিসোর্টে পৌঁছান। রিসোর্ট এ প্রবেশ করেই দেখে সেখানে আগে থেকেই কয়েক জনকে মদ পান করতে করছিল। বিষয়টি এড়িয়ে সে একটা কক্ষে গিয়ে কাপড় পরিবর্তন করার সময় প্রথমে নাসির তার পর বাবর এবং সব শেষে অচেনা এক ব্যক্তি জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।
তিনি দাবি করেন, একের পর এক ৩ জনই পালাক্রমে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেন। পরদিন সকালে গাড়িতে করে ঢাকায় পৌঁছে দেওয়া হয়। বাসায় দুই দিন প্রাথমিক চিকিৎসার পর মিরপুর থানায় গেলে সেখান থেকে তাকে শ্রীপুর থানায় মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে সে শ্রীপুর থানায় হাজির হয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
কিন্তু মামলার প্রাথমিক তদন্তের সময়ে তাসলিমা খাতুন আয়েশা ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্যে দেন বলে জানান পুলিশ। এছাড়াও তাসলিমা তার বক্তব্যে বলেন আমার সঙ্গে যা করেছে, তাতে কষ্ট নেই। তারাআমার আইফোন ১৬ নিয়ে যাওয়াতে বেশি কষ্ট পেয়েছি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শ্রীপুর থানার সাব ইন্সপেক্টর (এসআই) জানান, গত বৃহস্পতিবার ভোর রাতে থানায় এসে ওই নারী প্রথমেই আইফোন হারানোর অভিযোগ করেন। তার ভাষায়, মূলত তিনি গণধর্ষণের ঘটনার চেয়ে আইফোন নিয়েই বেশি বলেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুক্তভোগীর বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, রাত ৩ টার দিকে কেন তিনি ঢাকা থেকে গাজীপুরের রিসোর্টে গেলেন ? তাঁদের মতে, আসল ঘটনা ‘লেনদেনের বনিবনা না হওয়া’। কেউ কেউ বলছেন, আইফোন যদি সত্যিই নিয়ে থাকে তবে কাগজপত্র দেখে সেটি উদ্ধার করা হোক, আবার কাগজপত্র না থাকলে ঘটনার অন্তরালে কী আছে তা খুঁজে বের করা জরুরি। বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দেওয়ায় ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে হাস্যরসের ও জন্ম দিয়েছে।
শ্রীপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সাইদুল ইসলাম জানান, মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ওই রাস রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের নিবন্ধন না থাকায় বাংলাদেশ হোটেল ও রেস্তোরাঁ আইন, ২০১৪ এর আওতায় দুই লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়েছে। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে কাউকে আটক করা হয়নি বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।
শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল বারিক বলেন, গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে অনৈতিক কাজে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে দুই নারী ও রিসোর্টের স্টাফ সহ মোট ১৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে ২ নারীসহ মোট চারজনকে মানবপাচার মামলায় এবং বাকী ১৪ জনকে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে আদালতে পাঠানো হয়।
অন্যদিকে, সাফারি পার্কে অনুপ্রবেশ ও রাজনৈতিক মামলাসহ আরও ২২ জনসহ মোট ৪০ জনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ধর্ষণের মামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আইন অনুযায়ী কোনো নারী অভিযোগ করলেই পুলিশ মামলা নেয় এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষা করায়। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। তদন্ত-প্রমাণ সাপেক্ষে আদালতে বিচার হবে। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে’।