July 29, 2026, 3:07 pm
শিরোনাম :
দিনাজপূর (৪২ বিজিবি) ঠাকূরগাঁওয়ে পীরগঞ্জ সীমান্তে মদ আটক। টঙ্গী চেরাগ আলীতে প্রস্তাবিত ময়লার ডাম্পিং স্থানান্তরের দাবিতে ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রিন সোসাইটির মানববন্ধন মানবতার অনন্য দৃষ্টান্ত ইউএনও উম্মে হাবিবা ফারজানা ধর্ষণ ও জমি দখলের দাগি আসামিদের হাতে কাপাসিয়ায় গৃহবধূ লাঞ্ছিত, জমি দখলের চেষ্টা বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে স্বামী বাইরে যাওয়ার সুযোগে নারীকে ধর্ষণ গাজীপুরে দুই সন্তানের জননীকে ধর্ষণচেষ্টা ও লুটপাটের অভিযোগ যুবকের বিরুদ্ধে পীরগঞ্জে বিভিন্ন জলাশয় থেকে চায়না দুয়ারী ও কারেন্ট জাল জব্দ টঙ্গী বন্ধু সমাজ কল্যাণ সংস্থার উদ্যোগে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত টঙ্গীর আলোচিত মাদক সম্রাজ্ঞী কারিমাকে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ গ্রেফতার নরসিংদীর শিবপুরে মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় কলা বাগান কেটে ফেলাসহ হত্যার হুমকি

জাতীয় নিরাপত্তার সুরক্ষা, কেবল অস্ত্র দিয়ে হয় না

Reporter Name

মো. রফিকুল ইসলামঃ
আমাদের দেশে জঙ্গিবাদের ইতিহাস অত্যন্ত কলঙ্কিত এবং অনেক ক্ষেত্রে তা রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহৃত হয়েছে। বিগত ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনামলে আমরা দেখেছি, যখনই আওয়ামী লীগ সরকার কোনো বড় রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে, তখনই জনগণের দৃষ্টি সরাতে ‘জঙ্গি নাটক’ সাজানো হয়েছে। গ্রামের সাধারণ দরিদ্র মানুষ মাদ্রাসার এতিম অসহায় ছেলেদের ধরে এনে জঙ্গি আখ্যা দিয়ে তথাকথিত ‘জাহাজবাড়ি’ অপারেশনের মতো এনকাউন্টারে হত্যা করার ঘটনাগুলো ছিল ফ্যাসিবাদের ন্যায্যতা উৎপাদনের হাতিয়ার। তবে বর্তমান সরকারের আমলে গোয়েন্দা তথ্য গুলোকে আমাদের যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের কথা স্মরণ করলে দেখা যায়, কীভাবে সারা দেশে একদিনে কয়েক’শ বোমা বিস্ফোরণের রহস্যজনক ঘটনার মাধ্যমে তৎকালীন সরকারকে বিব্রত করা হয়েছিল। সেই ঘটনার প্রকৃত কুশীলবদের চেহারা আজও উন্মোচিত হয়নি। আন্তর্জাতিক মহলে এক-এগারোর ভারতপন্থি সেনা অভ্যুত্থান জায়েজ করার জন্য যেমন জঙ্গিবাদ উত্থানের গল্প ব্যবহার করা হয়েছিল।
বর্তমান পরিস্থিতিতে তেমন কোনো অগণতান্ত্রিক পটভূমি তৈরির চেষ্টা চলছে কি না, তা সতর্কতার সঙ্গে দেখা উচিত। টিটিপি বা পাকিস্তানি তালেবানের সঙ্গে বাংলাদেশের সংযোগের বিষয়টি যদি কেবল অনলাইন মগজধোলাইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তবে তা একরকম কিন্তু যদি নিরাপত্তা বাহিনীর ভেতরে শাকিল হাসানের মতো ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হয়। তবে তা রুখতে কঠোর পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষ তদন্তের পরিচয় দিতে হবে।
মনে রাখতে হবে, জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় কোনো লুকোচুরি বা কাল্পনিক প্রচার রাষ্ট্র ও জনগণের জন্য কল্যাণ বয়ে আনে না। অতিরিক্ত প্রচারণা অনেক সময় অপরাধীদের উৎসাহিত করে এবং আন্তর্জাতিক মহলে ভুল বার্তা দেয়। বর্তমান সরকারকে অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এই ‘জঙ্গি গল্পের’ আসল শেকড় উদঘাটন করতে হবে। আমাদের নিরাপত্তা বাহিনীর মতো সংবেদনশীল জায়গায় এই ধরণের খবর যদি কেবল অপপ্রচার হয়, তবে সেই তথ্য পাচারকারীদের খুঁজে বের করতে হবে। আর যদি এর সত্যতা থাকে, তবে অনুপ্রবেশকারীদের ও তাদের সহায়তাকারীদের কঠোর বিচারের আওতায় আনতে হবে। ভারতের কট্টর হিন্দুত্ববাদী এবং আফগানিস্তানের কট্টর ইসলামপন্থি সরকারের মধ্যকার এই নতুন সমীকরণ যেন কোনোভাবেই বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা কে ক্ষতিগ্রস্ত করতে না পারে। জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় এবং বিদেশি ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে জনগণের ঐক্যবদ্ধ হওয়া আজ সময়ের দাবি। বাংলাদেশের মাটি যেন কোনো আধিপত্যবাদী রাষ্ট্রের দাবার গুটি হিসেবে ব্যবহৃত না হয় এবং কাল্পনিক জঙ্গিবাদের ধোঁয়া তুলে যেন কোনো নাশকতার পরিকল্পনা সফল না হয়, সেই নিশ্চয়তা বিধান করাই হোক আমাদের প্রধান অঙ্গীকার। সচেতন নাগরিক হিসেবে আমাদের মনে রাখতে হবে। জাতীয় নিরাপত্তার সুরক্ষা কেবল অস্ত্র দিয়ে হয় না, বরং তথ্যের গোপনীয়তা এবং জাতীয় সংহতিই এর প্রধান রক্ষাকবচ।


আপনার মতামত লিখুন :

One response to “জাতীয় নিরাপত্তার সুরক্ষা, কেবল অস্ত্র দিয়ে হয় না”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা