November 1, 2026, 4:26 am
শিরোনাম :
“বিভাজনে দুর্বলতা, ঐক্যে শক্তি” দেশ কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি না, আন্দোলন কারও অপরাধের লাইসেন্স না টঙ্গীতে পুলিশের অভিযান: ইয়াবা তৈরির সরঞ্জামসহ কারখানার মালিক আটক সাধু সাবধান… ক্ষমতা ক্ষণস্থায়ী, রাজনৈতিক আনুগত্য পরিবর্তনশীল গফরগাঁওয়ে দুই মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষ নিহত-১ আহত-৩ ‎গাজীপুরে সেফটি ট্যাংক বিস্ফোরণে প্রাণ গেল পোশাক শ্রমিকের আহত ২ গ্লোবাল টিভির সাংবাদিক ফিটিং চক্রের গড ফাদার সেলুন কর্মচারী মেহরাব প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে মিথ্যা বানোয়াট ভিত্তিহীন উদ্দেশ্য প্রণোদিত সংবাদ প্রচার করে গাজীপুরে ১৬ বোতল বিদেশি মদসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার শাহজাদ পুর উপজেলার ইউ এনও সাবরিনা শারমিন ভূমি খেকো, ভূমিদস্যুদের গড ফাদার ২৫ বছর বয়সে সেলুন কর্মচারী মেহরাব ২৬ বিয়ে করে এখন গ্লোবাল হয়েছে- পর্ব (২)

সাধু সাবধান… ক্ষমতা ক্ষণস্থায়ী, রাজনৈতিক আনুগত্য পরিবর্তনশীল

মোঃ রফিকুল ইসলাম।

মোঃ রফিকুল ইসলামঃ
ক্ষমতার রাজনীতি ইতিহাসের নির্মম শিক্ষা। ক্ষমতার পালাবদল দেখছি, কিন্তু ইতিহাসের পাতা কখনো খালি দেখিনি। রাষ্ট্রের দায়িত্ব সত্যকে আড়াল করা নয়; সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করা।
আমাদের ইতিহাসের পাতা খুললে, তা থেকে শিক্ষা নেওয়া মতো কিছু কি আছে ? পলাশীর যুদ্ধ থেকে ২৪ আগস্ট আমরা দেখছি ? ক্ষমতার লোভ, উচ্চাকাঙ্ক্ষা, বিশ্বাসঘাতকতা ষড়যন্ত্র প্রতিটা পাতা কালো ইতিহাসে ছেয়ে আছে।
ক্ষমতার মোহে বাংলার মাটিতে কত শত মানুষের লাশ দাফন হয়েছে, সে হচ্ছে ইতিহাস। ক্ষমতায় গিয়ে কে কত বিত্তবৈভবের মালিক হয়েছে এই হচ্ছে ইতিহাস। ক্ষমতার ছায়াতলে থেকে কিভাবে সাধারণ মানুষের রক্ত চুষে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছে এই হচ্ছে ইতিহাস। ক্ষমতায় আসীন হয়ে প্রতিশোধের নেশায় মত্ত হয়ে হাজারো মানুষের জীবনের প্রদীপ নিভিয়ে দেওয়া হচ্ছে বাংলার ইতিহাস।
পলাশীর যুদ্ধক্ষেত্র কিংবা, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গন- প্রতিটি ঘটনাই নিজস্ব ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে আমাদের সামনে ত্যাগ, নিষ্ঠুরতা ও ক্ষমতার পরিণতির ইতিহাসে ভিন্ন ভিন্ন শিক্ষা জন্ম দিয়েছে।
সেই সব ইতিহাস থেকে আমরা যে শিক্ষা পেয়েছি তা হচ্ছে (১) পলাশীর পতনের মধ্য দিয়ে বাংলার স্বাধীনতা হারানোর ইতিহাস। (২) ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ- এসব স্মৃতি আজও মানুষের আবেগ, চেতনা ও ঐতিহাসিক উপলব্ধির অংশের ইতিহাস।
এসব ইতিহাস যে বিষয় শিক্ষনীয় ছিল, তা কিন্তু আমলে নেওয়া প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেনি ৭৫’র পরবর্তী কোন রাষ্ট্র নায়ক। যা একেবারে সুস্পষ্ট আর সেটা হচ্ছে – ক্ষমতা অর্জন করাই ইতিহাসে সম্মান অর্জনের নিশ্চয়তা নয়। সাধারণ মানুষের অধিকার, ন্যায়বিচার ও আত্মত্যাগের সমষ্টি নির্ভর করে কাজের শেষ পর্যন্ত দেখার পর । বিশ্বের ইতিহাসের মূল্যায়ন ও নির্ভর করে কাজের ওপর।
মীর জাফর, ইয়াহিয়া খান কিংবা খন্দকার মোশতাক আহমদের নাম বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে যে নেতিবাচক তাৎপর্য বহন করে, তা নিছক ব্যক্তিগত বিরাগের ফল নয়; এর পেছনে রয়েছে ঐতিহাসিক ঘটনা, রাজনৈতিক ভূমিকা ও জনস্মৃতির দীর্ঘ প্রক্রিয়া। সেই সাথে নতুন করে যুক্ত হয়েছে ৫ আগস্টের কিচেন কেবিনেট।
ইতিহাস কাউকে চিরকাল ক্ষমতাবান রাখে না। আবার ক্ষমতাহীন হলেই কেউ ইতিহাসের চোখে অপরাধী হয়ে যায় না। ইতিহাসের প্রকৃত বিচার নির্ভর করে প্রমাণ, দায়িত্ব ও কর্মের ওপর।
আজকের বাংলাদেশও ইতিহাসের বাইরে নয়,
আজ যারা ক্ষমতার কাছাকাছি, যারা ক্ষমতার ছায়ায় নিজেদের বিজয়ী মনে করছেন, যারা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করাকে বিজয় বলে ভাবছেন- তাদের সবারই মনে রাখা উচিত, রাষ্ট্র কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। সময় যেমন পরিবর্তন হয়, তেমনি আপনি বা আমিও পরিবর্তন শীল। আজকে যিনি ক্ষমতার মসনদে আসীন রয়েছেন, আগামীতে নাও থাকতে পারেন। আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৫ বার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। পঞ্চমবার ২০২৪ সালে (জানুয়ারি ২০২৪ থেকে ৫ আগস্ট ২০২৪ পর্যন্ত। অবশেষে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে যেতে হয়েছে। দেশ ছেড়ে না গেলে বাংলাদেশ আরও একটি কলঙ্কিত ইতিহাসের পাতা রক্তে রঞ্জিত হয়ে থেকে যেত।
আপনার হাতে আজ যে ক্ষমতা আছে, আগামী দিন আপনার প্রতিপক্ষের হাতে চলে যেতে পারে।
রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে অপমান করা, প্রতিহিংসার শিকার বানানো কিংবা বিচার ছাড়াই অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা কোনো সভ্য রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিচয় হতে পারে না। একইভাবে, কোনো ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় তাকে অপরাধের ঊর্ধ্বে রাখার অধিকারও দেয় না। অপরাধের বিচার হতে হবে প্রমাণের ভিত্তিতে। নিরপরাধ এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে আইনের মাধ্যমে। আর রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের
জবাবদিহি থাকতে হবে জনগণের কাছে, আজ সেটা কোথায় ? যারা আজ অন্যায় অপরাধ অবিচার অনিয়ম দুর্নীতি হচ্ছে তার সঠিক কারণ খুঁজে বের করা হোক। উত্থাপিত প্রতিটি অভিযোগের সত্যতা- সবকিছুই নিরপেক্ষ অনুসন্ধানের আওতায় এনে নিরপেক্ষ বিচার হোক
কেউ যদি অপরাধ করে তার পরিচয় বা রাজনৈতিক অবস্থান যা-ই হোক, তাকে আইনের মুখোমুখি হতে হবে। আর কেউ যদি নির্দোষ হন, তবে রাজনৈতিক বিদ্বেষের কারণে তাকে অপরাধী বানানোর অধিকার কারও নেই, এমনকি রাষ্ট্রও পারে না। কিন্তু বাস্তবে কি তাই হচ্ছে ?
কেউ যদি অপরাধ করে থাকে, তার পরিচয় বা রাজনৈতিক অবস্থান যা-ই হোক, তাকে আইনের মুখোমুখি হতে হবে। আর কেউ যদি নির্দোষ হন, তবে রাজনৈতিক বিদ্বেষের কারণে তাকে অপরাধী বানানোর অধিকার কারও নেই।
অপ্রিয় হলেও সত্যি, এখন তাই হচ্ছে। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে ক্ষমতাবানদের অপরাধও বিচারের আওতায় আসবে। বিরোধীদের অধিকারও সুরক্ষিত থাকবে এবং সত্য প্রকাশের জন্য কাউকে ভয় পেতে হবে না। কারণ ক্ষমতা ক্ষণস্থায়ী, রাজনৈতিক আনুগত্য পরিবর্তনশীল, আর জনমতও সময়ের সঙ্গে বদলে যায়। কিন্তু একটি রাষ্ট্রের নৈতিক ভিত্তি টিকে থাকে ন্যায়বিচার, সত্য এবং মানুষের অধিকারের ওপর।
ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শিক্ষা এখানেই- আজ যে অন্যায়ের বিচার চাইছে, কাল তার হাতেই যেন নতুন অন্যায়ের জন্ম না হয়।

-মোঃ রফিকুল ইসলাম।
সম্পাদক,
দুর্নীতি সংহার
durnitysonghar@gmail.com
https://durnitysonghar.com


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা