November 2, 2026, 7:07 am
শিরোনাম :
“বিভাজনে দুর্বলতা, ঐক্যে শক্তি” দেশ কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি না, আন্দোলন কারও অপরাধের লাইসেন্স না টঙ্গীতে পুলিশের অভিযান: ইয়াবা তৈরির সরঞ্জামসহ কারখানার মালিক আটক সাধু সাবধান… ক্ষমতা ক্ষণস্থায়ী, রাজনৈতিক আনুগত্য পরিবর্তনশীল গফরগাঁওয়ে দুই মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষ নিহত-১ আহত-৩ ‎গাজীপুরে সেফটি ট্যাংক বিস্ফোরণে প্রাণ গেল পোশাক শ্রমিকের আহত ২ গ্লোবাল টিভির সাংবাদিক ফিটিং চক্রের গড ফাদার সেলুন কর্মচারী মেহরাব প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে মিথ্যা বানোয়াট ভিত্তিহীন উদ্দেশ্য প্রণোদিত সংবাদ প্রচার করে গাজীপুরে ১৬ বোতল বিদেশি মদসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার শাহজাদ পুর উপজেলার ইউ এনও সাবরিনা শারমিন ভূমি খেকো, ভূমিদস্যুদের গড ফাদার ২৫ বছর বয়সে সেলুন কর্মচারী মেহরাব ২৬ বিয়ে করে এখন গ্লোবাল হয়েছে- পর্ব (২)

দেশ কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি না, আন্দোলন কারও অপরাধের লাইসেন্স না

মোঃ রফিকুল ইসলাম।

মোঃ রফিকুল ইসলামঃ
বাংলাদেশের মানুষ পরিবর্তন চেয়েছিল। কিন্তু আরেকটি অন্যায়-অবিচারের অধ্যায় নয়।
ভবিষ্যতে দেশের স্বার্থে বৃহত্তর আন্দোলনের প্রয়োজন হলে সাধারণত মানুষ কি তরুণদের পাশে থাকবে ? যে কোনো অপরাধের দায় ব্যক্তির, কিন্তু রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো অপরাধ প্রতিরোধ করা।
কোঠা আন্দোলনের শেষ দিকের সময়টা স্বপ্নময় ছিল। তখন জুলাই আন্দোলনের তরুণদের নিয়ে দেশের মানুষের অনেক প্রত্যাশা ছিল। মানুষ তাদের মধ্যে দেখেছিল, প্রতিবাদের স্ফুলিঙ্গ, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের সাহস, বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার স্বপ্ন এবং একটি সুন্দর বাংলাদেশের সম্ভাবনা। অনেকেই ভেবেছিলেন, এই তরুণরাই একদিন দেশকে নতুন পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
পরিতাপের বিষয় হচ্ছে- এতো অল্প সময়ের ব্যবধানে সেই প্রত্যাশার গলা টিপে হত্যা করা হয়েছে। সেখানে জায়গায় করে নিয়েছে অবিশ্বাস, ক্ষোভ ও ঘৃণা। ২৪ জুলাই আন্দোলনের অগ্রণী ভূমিকা ছিল তরুণ প্রজন্ম, আজ সাধারণ মানুষের কাছে তারাই অশনিসংকেত। বিরাগভাজন হয়ে উঠেছে পুরো জাতি।
আর সেই জন্য অ্যাডভোকেট মোঃ ফজলুর রহমান তার বক্তব্যে কণ্ঠ ভারী করে বলেছেন, জুলাই আন্দোলনের একজন ছেলেকেও আজ দেশের মানুষ বিশ্বাস করে না। বরং এটা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে মানুষ এখন জুলাই আন্দোলনের প্রত্যেক টি তরুণ কে ঘৃণা করে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে- একি কেবল কয়েকজন তরুণের ব্যক্তিগত ব্যর্থতা, নাকি এর পেছনে রয়েছে আরও বড় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দায় ?
ইতিহাসের প্রতিটি আন্দোলনের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো জনগণের সমর্থন। অথচ আন্দোলনের পর যদি সেই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত কিছু মানুষের বিরুদ্ধে মব সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দখলদারি, ছিনতাই, খুন কিংবা ধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠে, তাহলে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগা এবং ঘৃণা জন্ম হওয়াটাই স্বাভাবিক। যারা পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখিয়েছিল, তাদের হাতে অনিরাপত্তায় দেশের মানুষ।
একটি কথা অবশ্যই মনে রাখতে হবে, সব জুলাই আন্দোলনকারী এক নয়। যারা সত্যিকার অর্থে অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়েছেন, তাদের অবদান অস্বীকার করার সুযোগ নেই। অপরাধের অভিযোগ উঠলেই কাউকে অপরাধী ঘোষণা করা যায় না। কিন্তু আন্দোলনের পরিচয় ব্যবহার করে কেউ অপরাধ করলে তারও কোনো দায়মুক্তি থাকা উচিত নয়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে- ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের রাজনৈতিক ও নৈতিক দায়ের প্রশ্নটি সামনে আসে। একটি ঐতিহাসিক আন্দোলনের পর রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়া সরকারের কাজ ছিল আন্দোলনকারী তরুণদের সঠিক পথে পরিচালিত করা। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা, অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা নেওয়া এবং তরুণদের ভবিষ্যৎ রক্ষা করা। কিন্তু ড. মুহাম্মদ ইউনূস ব্যক্তি স্বার্থে কারণে তার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় কালে সংঘটিত মব সহিংসতা, দখলদারি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগের যথাযথ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা তো দূরের কথা নূন্যতম চেষ্টা টুকু করেননি।
যা দৃশ্যমান হয়েছে তা হচ্ছে কিচেন কেবিনেট আর সেই অদৃশ্য অপশক্তি ও লোভাতুর মননের ফল সূতিতে যতটা সম্ভব হয়েছে, ফ্রি লুটের রাজত্ব কায়েম করে গেছেন। সেই প্রশ্নের জবাব কি নির্বাচিত সরকার চেয়েছেন ?
মনে রাখতে হবে যে কোনো অপরাধের দায় ব্যক্তির। কিন্তু রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো অপরাধ প্রতিরোধ করা। বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার সবার আগে উচিত ছিল, জুলাই আন্দোলন সহ প্রত্যেক অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা। তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ আরো একটি বিষয় হচ্ছে কোনো রাজনৈতিক পরিচয়কে অপরাধের ঢাল হতে না দেওয়া। এই একটি বিষয় যদি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিশ্চিত করতে পারেন তা হবে বাংলার ইতিহাসে সর্বোচ্চ সফলতা যা এই দেশের মানুষের জীবনের চরম প্রত্যাশিত। এবং বাংলাদেশে যত আন্দোলন হয়েছে এবং মানুষ সমর্থন করছেন তার একমাত্র কারণ ছিল বাঁধাহীন স্বাভাবিক জীবন। অন্যায়, অবিচার, অপরাধ সহ সকল ব্যভিচারের অবসান। অতীতের সকল রাষ্ট্রনায়কের এটাই ছিল সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা । সেই ব্যর্থতা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দায় এড়ানোর সরকারের কোন সুযোগ নেই।
ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার আন্দোলন পরবর্তী তরুণদের একটি অংশকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে, তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অপরাধের অভিযোগে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ না করার জবাবদিহি অবশ্যই প্রয়োজন।
বিএনপি সরকার যদি সেটা না করে, তাহলে রাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হিসেবে যা অপেক্ষা করছে তা হলো- ভবিষ্যৎ প্রজন্মের আন্দোলনের সাহসকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। আগামী দিনে দেশে অন্যায়, দুর্নীতি কিংবা স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে কোনো আন্দোলনের প্রয়োজন হলে তরুণেরা রাজপথে নামতে সাহস পাবে না। এমন কি সাধারণ মানুষ তরুণদের পাশে দাঁড়াবে না।
কারণ জুলাই আন্দোলনে মানুষ পরিস্কার বুঝে গেছে সব শেষে পরিণতি হলো মব সৃষ্টি, দখলদারি, সন্ত্রাস, ধর্ষণ, প্রতিহিংসা কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহার। যার ফলে ভবিষ্যতে কোনো ন্যায়সংগত আন্দোলনও জনসমর্থন করবে না সাধারণ মানুষ। তখন দেশ চরম ঝুঁকিতে পড়বে।
মনে রাখতে হবে, আন্দোলন করে ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটানো যায়, কিন্তু মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিতে হলে প্রয়োজন সততা, মানবিকতা ও ন্যায়বিচার।
জুলাইয়ের তরুণেরা ঘৃণার প্রতীক হোক, এটি কেউ চায়নি। তারা আবার মানুষের আস্থা ফিরে পাক, সেটাই প্রত্যাশা। কিন্তু সেই আস্থা ফিরবে অপরাধের বিচার, আইনের শাসন এবং রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার মধ্য দিয়ে। দেশ কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। আন্দোলনও কারও অপরাধের লাইসেন্স নয়।

-মোঃ রফিকুল ইসলাম
সম্পাদক, দুর্নীতি সংহার।
ই-মেইলঃ durnitysonghar@gmail.com

https://durnitysongha.com


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা