November 3, 2026, 12:42 pm
শিরোনাম :
৫ কোটি টাকার খালি কনটেইনার পাঠানোর হচ্ছিল বিদেশে, গোয়েন্দা কর্মকর্তার সন্দেহে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য বাংলাদেশের প্রগতিশীলরা কেন ৭১-কে দিয়ে ৪৭-কে ডিফাইল করতে চায়? কেন? দেশটা শুধু ক্ষমতাবানদের নয়, দেশটা সবার টঙ্গীতে ১৫ হাজার ইয়াবাসহ দুই নারী গ্রেফতার গাজীপুর সদর মেট্রো থানা পুলিশের অভিযানে ৮০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার, গ্রেফতার ২ ‎গাজীপুরে পোশাক শিল্প কারখানার শ্রমিক আন্দোলনে পুলিশের গাড়িতে আগুন, গ্রেফতার ৩০ ‎ ‎গাজীপুরে কার্তিক হত্যা মামলার দুই আসামি ময়মনসিংহ থেকে গ্রেপ্তার “বিভাজনে দুর্বলতা, ঐক্যে শক্তি” দেশ কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি না, আন্দোলন কারও অপরাধের লাইসেন্স না টঙ্গীতে পুলিশের অভিযান: ইয়াবা তৈরির সরঞ্জামসহ কারখানার মালিক আটক

বাংলাদেশের প্রগতিশীলরা কেন ৭১-কে দিয়ে ৪৭-কে ডিফাইল করতে চায়? কেন?

ফ্রান্স থেকে, মিরাজ সুমন।

মিরাজ সুমন, ফ্রান্স থেকেঃ
কারণ ৪৭ ছিলো মুসলিমদের আজাদী এর ফলশ্রুতিতে বসবাসের জন্য এক খন্ড ভূমি। হিন্দুত্ববাদের বিরুদ্ধে মুসলমানদের জয়। হিন্দু জমিদাররা এইটা কখনোই চায়নি। এমনকি ওরা বঙ্গভঙ্গের ফলে বাংলা আলাদা হয়ে যাক, সেটাও চায়নি।
পরিবারের জমিদারি বাঁচাতে তাই রবীন্দ্রনাথ লিখে ছিলো “আমার সোনার বাংলা”।
আমাদের স্বাধীন সন্তান নবাব সলিমুল্লাহ বুঝতে পেরেছিলেন যে বঙ্গভঙ্গের ফলে ঢাকার গৌরব ফিরে আসবে এবং পূর্ববঙ্গের মুসলমানরা জমিদার ও মহাজনদের শোষণ থেকে মুক্তি পাবে। কিন্তু হিন্দুত্ববাদীদের কারণে শেষ পর্যন্ত বঙ্গভঙ্গ টিকেনি।
পরবর্তীতে গান্ধী-নেহেরুদের অখণ্ড ভারতের স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে মুসলমানরা আলাদা রষ্ট্র গঠন করে।
প্রত্যেকটা হিন্দুত্ববাদীর কাছে এইটা নিজেদের সবচেয়ে বড় পরাজয় ছিল।
তখন রঠা বেঁচে থাকলেও নিঃসন্দেহে অখণ্ড ভারতের জন্য গান, কবিতা লিখে ফেলতেন।
বাট, মজার বিষয় হইলো যে বাংলার স্বাধীনতার বিরুদ্ধে লেখা রঠার সেই গানকেই আজকে আমরা আমাদের জাতীয় সঙ্গীত বানিয়েছি। ৭১-এ ইন্দিরা গান্ধী তাই বেশ সফল হয়েছেন বলা যায়।
কথা হইলো যে মুসলমানদের সেই আজাদী কে এখন ৭১ দিয়ে অস্বীকার করার মধ্যে মজা কোথায়?
মজা হইলো যে ৭১ পরবর্তী বাংলাদেশে বোরকা, হিজাব, নিকাব পড়লে তাকে ক্লাসরুমে সন্ত্রাসী বলা যায় এবং বলার পরে আবার দাম্ভিকতা ও দেখানো যায় যে যাকে খুশি বলো, আমার কিছুই করতে পারবা না। এই গাটস ওরা পেয়েছে ৭১ এর পূজা করে।
কিন্তু লাল-সাদা গেরুয়া গরদ শাড়ি পড়া কাউকে কিন্তু এইদেশে সন্ত্রাসী বলা হয় না।
এখন এদেশে মাদ্রাসার ছাত্র হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হিন্দু শিক্ষক তাকে বছরের পর বছর ফেল করিয়ে দিতে পারে এবং তার কোনো বিচার হয় না। কিন্তু কোনো মুসলিম শিক্ষক কোনো হিন্দু ছাত্রের সাথে এমনটা করার সাহস করতে পারে না।
এখন এদেশে দাড়ি, টুপি, পাঞ্জাবিওয়ালাদের জঙ্গী বলা যায় এবং এতে কোনো অপরাধ হয় না। কিন্তু গেরুয়া ফতুয়া পড়া কাউকে কিন্তু গৈরিক সন্ত্রাস বলা হয় না।
এখন এদেশের দেওয়ালে রবীন্দ্রনাথ, সত্যজিৎ রায়দের ছবি গ্রাফিতির করা হয় এবং পুলিশ দিয়ে সেগুলো পাহারা দেওয়াও হয়। কিন্তু সলিমুল্লাহ খানের গ্রাফিতির করানো হয় না।
এখন এদেশে রঠার ছবিতে কালি দিলে সেইটা রাষ্ট্রদ্রোহিতা হয়, আর জিন্নাহর ছবি ভাঙলে সেইটা হয় দেশপ্রেম।
অথচ রঠা গংদের অখণ্ড ভারতের স্বপ্নকে চুরমার করে মুসলমানদের আজাদি এনে দিয়ে ছিলো জিন্নাহ। যেই আজাদি না পেলে আজ বাংলাদেশ হইতে পারতো আরেকটা হায়দ্রাবাদ।
বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে আজও ভারত সেলিব্রেট করে ওদের জয় হিসেবে। ওদের অখণ্ড ভারতের স্বপ্নে জল ঢেলে আলাদা হয়ে যাও মুসলিম অঞ্চলকে ওরা আবার হিন্দুত্ববাদের ছায়ায় নিয়ে যেতে পেরেছে বলেই এই সেলিব্রেশন কিনা কে জানে।
খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় ৯৯% মুসলমান থাকলেও ৭১ পরবর্তী বাংলাদেশে মুসলমানরাই হয়ে গেছে মাইনরিটি। সেইটা ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উভয় দিক দিয়েই।
এজন্যই রাম, বাম, উদিচি, শাহবাগীদের কাছে ৭১ হইলো পরম পূজনীয়, আর ৪৭ নিন্দিত।
লেখা পোস্ট করেছেন মিরাজ সুমন, ফ্রান্স থেকেঃ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা