শ্রীপুর প্রতিনিধিঃ গরীব, অসহায়, অল্প শিক্ষিত ও নিন্মবিত্ত আয়ের মানুষের ভরসার অনেকটা জুড়ে দখল করে আছে বিভিন্ন এনজিও বা সমিতির নামে অর্থলগ্নি কিছু প্রতিষ্ঠান। তার একটি বিশেষ কারণ হচ্ছে সহজ শর্তে ঋণ বিতরণ করে থাকে এসব সুদের মহাজনেরা। তার স্বল্প আয়ের মানুষের একটা বিশাল অংশ এসব প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িয়ে আছে।
বিশেষ করে ওইসব মানুষের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে আবার প্রতারণার সোযোগ নিয়ে থাকে কিছু প্রতিষ্ঠান। তেমনি একটি হচ্ছে বুরো বাংলাদেশ।
শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নে অবস্থিত বুরো বাংলাদেশ নামে এনজিও বিরুদ্ধে এক গ্রাহকের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করেছেন মোছাঃ তাকিয়া খাতুন নামে এক মহিলা। তিনি বলেন, ১০ বছর মেয়াদী একটা ডিপিএস করেছি সন্তানের (মেয়ে) ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে। ২০২৪ সাল থেকে প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা কিস্তি দিয়ে আসতেছি।
সম্প্রতি মহিলার স্বামী হঠাৎ করে সমিতির বই সামনে দেখে হাতে নেয় দেখার জন্য খেয়ে না খেয়ে সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় করছি দেখি কত টাকা জমা হয়েছে। এমনটা ভেবে কিস্তির বই হাতে নিয়ে সে রীতিমতো হত বিহ্বল। মাস ধরে হিসাব করতে গিয়ে দেখেন এপর্যন্ত ১১ মাসের কিস্তি বাকি। স্ত্রীকে প্রশ্ন করলে সেও অবাক তো মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়েন। কিভাবে বইতে ১১ মাসের কিস্তি উঠেনি।
এবিষয়ে মহিলা ও ওনার স্বামীর বক্তব্য স্পষ্ট। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন বিষয় হচ্ছে এসব এনজিও কিস্তির টাকার জন্য গ্রাহককে আসবাবপত্র বিক্রি করে কিস্তি নিয়ে থাকে সেখানে ১১ মাসের কিস্তি বাকি থাকার কোন প্রকার সুযোগ নেই।
শুধু তাই নয়, গ্রাহকের প্রশ্ন বইতে উল্লেখিত হিসেব অনুযায়ী ১১ মাস যাবৎ কিস্তি দিচ্ছি না, তো প্রতিষ্ঠান আমার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেবে না বা আমাকে একবারও না ?
কিছুই না বলার কারণ কী
এমন প্রশ্ন ব্যুরো বাংলাদেশ এর স্থানীয় অফিস কতৃপক্ষ করা হলে তারা উল্টা মহিলাকে মামলার হুমকি দেওয়া হয় বলেও দাবি ভুক্তভোগী পরিবারের।
বইয়ের মাঝে বেশ কয়েক মাসের কিস্তি উল্লেখ্য করা হয়েছে।
ব্যুরো বাংলাদেশের অফিস কতৃপক্ষ একথাও শিকার করেছে অনেক কিস্তি দেওয়া আছে । কিস্তি পরিমাণ অনুযায়ী কিন্তু দীর্ঘ ১১ মাসে মোট টাকার পরিমাণ ৩৩ হাজার টাকা। আর এসমম্ত এনজিও কখনো কিস্তি বাকি রাখে, এমন কোন তথ্য ইতিহাস ঘাটলে পাওয়া যায় না।
পরিশেষে ব্যুরো বাংলাদেশ কতৃপক্ষ গরীব অসহায় পরিবারের বিষয়ে কি পদক্ষেপ নিবেন সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।
ভুক্তভোগী পরিবার বিষয়টি আশা করছেন অবশ্যই ব্যুরো বাংলাদেশ কতৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখে কিস্তি গুলো উঠিয়ে দেবেন বইয়ে এবং সেটা লভ্যাংশসহ।